মানবতার কল্যাণে ‘থিংকিং দ্য হিউমানিটি’

।। মহীয়সী ডেস্ক ।।

থিংকিং দ্য হিউমানিটি’ ননপ্রোফিট সংগঠনটি অনন্যবারের মত এবারো সফলতার সাথে দেশের দুস্থদের জন্য আর্থিক অনুদানের বিতরণ কাজটি সম্পন্ন করতে সক্ষম হযেছে। এবারের বাছাইকৃত ‌জেলা/বিভাগ ছিল নরসিংদী ও ঢাকা। এবারের বিতরণে ছিল এনভেলোপে মেড়ানো ১০০০ টাকা করে নগদ অর্থ, ১টি হুইল চেয়ার ও চিকিৎসা খরচ।

দীর্ঘদিন যাবত সংগঠনটি দেশের বিভিন্ন জায়গায় নীলফামারী, রংপুর, সৈয়দপুর, সিলেট, চট্টগ্রাম, ঢাকা ও নরসিংদীতে অসহায় দুস্থদের পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দাঁড়াতে চেষ্টা করে যাচ্ছে।

থিংকিং দ্য হিউমানিটির বিতরণে থাকে-ঈদবস্ত্র-শীতবস্ত্র, পথশিশু-বৃদ্ধদের খাবার, ইফতার, চিকিৎসা, মেডিসিন, বড় ধরণের অপারেশনের খরচ… ইত্যাদি।

২০২১ এ এবার সংগঠনটি নগদ অর্থে দুস্থদের পাশে থাকতে চেয়েছে। নরসিংদী ও ঢাকাতে এ অর্থ প্রদান করা হয়।

অক্টোবর ১৩/১৪ তারিখ বাড্ডার বিভিন্ন বস্তির বাছাইকৃত দুস্থ অসহায় বয়স্ক, বিধবা, ও  প্রতিবন্ধীদের টুকেনের মাধ্যমে জমা করে, ১৫ তারিখে উত্তর বাড্ডা স্বাধীনতা স্বরনী বাগান বাড়িতে ৩০ জনের প্রত্যেককে ১০০০ টাকা করে নগদ অর্থ দেয়া হয়। বিতরণ করেন, আমেনা আক্তার সোনিয়া, ফাতেমা বেগম, সাদিয়া আফরিন, আমেনা আক্তার হাসি, ইমরান হোসেন সুমন ও কাজী মারুফ।অন্য এলাকায় দেয়া হয় ১০ জনকে।

নভেম্বর ১৯ তারিখ দ্বিতীয় দফায় নরসিংদীর আর্শিনগরে বিতরণ কাজটি সম্পন্ন হয়। ৩০ জন দুস্থ্যদের নগদ ১০০০ টাকা করে বিতরণ সহ ১জন শারীরিক প্রতিবন্ধীকে একটি হুইল চেয়ার দেয়া হয়। বিতরণ কাজটি সম্পন্ন করেন, ব্যান্ড চাতকের গীতিকার ওগিটারিষ্ট শাহরিয়ার শামস্ কেনেডি ও  ‘হেল্প ফর হিউমানিটি অফ বাংলাদেশ’ এর সদস্যরা।

মোট ৭০ জনকে ১০০০ করে নগদ অর্থ। এবং একজনকে ১০ হাজারের মধ্যে একটি নতুন হুইল চেয়ার, এবং সিলেটের একজনকে চিকিৎসাবাবত নগদ ২০ হাজার টাকা প্রদান করে ‘থিংকিং দ্য হিউমানিটি’ সংগঠনের এবারের কার্য্যক্রমটি সম্পন্ন করা হয়।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আমেরিকান প্রবাসী কবি, সাংবাদিক, কলামিষ্ট ও শিক্ষক এইচ বি রিতা। এইচ বি রিতা নিজ দায়বদ্ধতা থেকে বড় একটা আর্থিক অনুদান সংগঠনটির জন্য  বরাদ্দ রাখেন।করোনাকালে নিজ খরচে তিনি ৪০টি পরিবারকে সৈয়দপূর, পাশাপাশি এলাকা, ও ঢাকা ঘরে ঘরে চাল-ডাল-তেল-পেঁয়াজ,খেঁজুর, আলু, ছোলাবুট, মুড়ি  খাদ্য বিতরণ করেছেন। দেশ থেকে কাজটি সম্পন্ন করেছেন জিনাত আরা জিতু ও ‌অন্য আত্বীয়।

নরসিংদীতে বিভিন্ন টিমের কার্য্যক্রমে তিনি ডোনেশনের মাধ্যমে ঘরে ঘরে বাজার পৌঁছে দিতে সহযোগীতা করেছেন। ঢাকা একজনের বড় ধরণের অপারেশনের জন্য চিকিৎসার খরচ যোগান দিয়েছেন এই করোনাকালে।

এইচ বি রিতা বলেন,

“মানুষের জন্য মানবিক হতে পারছি না। একা নিজের এত সামর্থ্য নেই। সংগঠনের প্রতিটা সদস্যদের প্রতি আমার ভালবাসা ও কৃতজ্ঞতা রইল। তাদের ছাড়া আমি একা দূর প্রবাসে বসে এর কিছুই করতে পারতাম না। আমি যা করি, তার থেকে বেশী কাজ করে যাচ্ছেন আমার ভলান্টিয়াররা।”

তিনি বলেন,

“মানুষের জন্য কাজ করি বলেই এখনো তাদের দোয়া আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে।”

 

‘থিংকিং দ্য হিউমানিটি’ ননপ্রোফিট সংগঠনটি ২০১৩ সাল থেকে তাদের কার্য্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এই সংগঠন পরিচালনায় কোন ব্যবসায়ী, ভাই-বোন বা সংস্থা জড়িত নন। দূর প্রবাসে থেকে ফেসবুক লেখক ভলান্টিয়ারদের মাধ্যমে ও নিজ পকেট খরচে দেশের দুস্থদের জন্য ‘থিংকিং দ্য হিউমানিটি’ সংগঠনটি দীর্ঘদিন যাবত পরিচালনা করে যাচ্ছেন এইচ বি রিতা। ভলান্টিয়ারদের বেশিরভাগ লেখক,  স্টুডেন্ট, গৃহিনী বা বেকার। তারা কখনো নিজ পকেট খরচ বাঁচিয়ে, কখনো বাবা মা, বন্ধু, আত্মীয়দের থেকে দাবী করে ডোনেশন আদায় করেন।

সংগঠনটির বাংলাদেশ প্রতিনিধিত্ব ও পরিচালনায় আছেন জিনাত আরা জিতু এবং আমেনা আক্তার সোনিয়া।সংগঠনের অনন্য কর্মীদের মধ্যে বর্তমানে আছেন- মিলন খান, নিশাত রায়হানা ইতু, মিতু ভূইয়া, ফারিহা তাবাস্সুম, শাবনুরসুমি, রিয়াজুল আলম রিয়েল, আনিসা রহমান হৃদি, রবিউল ইসলাম রবি, আজহার আহমেদ আজু, তদ্রা তাবাস্সুম, তামান্নাসুলতানা, জাহাঙ্গীর আলম অয়ন, আমিনা আক্তার হাসি, আহমেদ টিপু, সাদিয়া ইসলাম আফরিন, জাহাঙ্গির আলম, সুমাইয়াআরেফিন, আসাদুজ্জামান আসাদ, হেদায়েদ চৌধুরী, আমির খান, পলাশ, ফাহাদ মারুফ।

প্রাক্তন ভলান্টিয়ার– জাহিদুর ইসলাম জিতু, রানা, আমির খান, সাকিন জামান, ইমাম হোসেন, রেজওয়ানা শারমিন, রুমানাপারভিন, সুরাইয়া ইসলাম, খাদিজা ইয়াসমিন, রোকেয়া, মাইনু, আরিফ কায়ানী, ইতি আক্তার, মিথিলা, আব্দুল কাদেরআরাফাত, আলি আহমেদ, লিয়াকত হোসেইন, ইফতিখার হোসেন চৌধুরী, সোহেল, মোঃ আলামিন, শংখ চিল (বিথী), খাদিজাআক্তার বৃষ্টি, নাদিম, রেজা, কাজল আহমেদ, মনির হোসেন, মুহিন মোশাররফ, লিমন, রাসেল ভাই।

 

‘থিংকিং দ্য হিউমানিটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট- Thinking The Humanity-থিংকিং দ্য হিউমানিটি

আরও পড়ুন