অপরাধী হিসাবে রায়হান কবিরকে ডিপোর্ট করেছে মালয়েশিয়া

 মাঈনুল ইসলাম নাসিম

মালয়েশিয়া থেকে অফিসিয়াল ডিপোর্টে (বলপূর্বক ফেরত পাঠানো) বাংলাদেশি রায়হান কবির এখন তাঁর পরিবারের জিম্মায় বাংলাদেশে। কাতার ভিত্তিক আল-জাজিরা টিভিতে রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য দেয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয় স্থানীয় পুলিশ। রাষ্ট্রীয় আইনে রায়হানের স্টে পারমিট বাতিল হবার কারণে ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায় মালিয়েশিয়ান প্রশাসন। আইনী বাধ্যবাধকতায় হ্যান্ডকাফ পরিয়ে ২১ আগস্ট শুক্রবার রাতে কুয়ালালামপুরে পুলিশী প্রহরায় তাঁকে ঢাকাগামী ফ্লাইটে তুলে দেয়া হয়।

হতভাগ্য বাংলাদেশি রায়হান কবিরকে ‘বলির পাঁঠা’ বানিয়ে বিপদে ফেলেছে মূলত আল-জাজিরা টেলিভিশন কারণ তারা মালয়েশিয়ার মতো এমন একটি দেশ থেকে একজন নিরীহ বিদেশি নাগরিকের খোলামেলা সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে তেমন কোন কাটছাট কিংবা এডিট ছাড়াই সরাসরি তা প্রচার করেছে, যে দেশে বাকস্বাধীনতা বিশেষভাবে সীমাবদ্ধ বহু আগে থেকেই। করোনাকালে অবৈধ অভিবাসীদের উপর মালয়েশিয়ান পুলিশ ভয়াবহ নিপীড়ন চালিয়েছে, রায়হানের দেয়া এমন বক্তব্য মালয়েশিয়ান সরকারের কাছে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ বলেই শাস্তিমূলক এই ডিপোর্ট।

রাষ্ট্রবিরোধী যে কোন বক্তব্য প্রদান মালয়েশিয়ান আইনে গুরুতর অপরাধ এবং এজন্য কঠোর শাস্তির বিধান থাকলেও মূলত বিভিন্ন দেশের বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠন সমূহের চাপে ‘গুরুপাপে লঘুদন্ড’ দিয়ে অপরাধী হিসেবে দেশ থেকে বহিষ্কার (ডিপোর্ট) প্রক্রিয়া শুক্রবার সম্পন্ন করা হয় অত্যন্ত সুচারুভাবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, রায়হান কবির ইস্যুতে শুরু থেকেই সতর্কতার সাথে বক্তব্য রাখা সহ কৌশলী অবস্থান নেয় বাংলাদেশ সরকার কারণ দুই দেশের মধ্যকার চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সাথে মিশে আছে লাখ লাখ বৈধ-অবৈধ অভিবাসীর ভাগ্য।

 মাঈনুল ইসলাম নাসিম: ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক

 

আরও পড়ুন