আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস আজ

নিউজ ডেস্কঃ

আজ ২৮ সেপ্টেম্বর, ‘আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস’। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য- ‘তথ্য অধিকার সংকটে হাতিয়ার’ ও স্লোগান: ‘সংকটকালে তথ্য পেলে জনগণের মুক্তি মেলে’ নিধারণ করা হয়েছ। প্রতিবছর আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি উদযাপন করা হয়।

বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনা ভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতিতে তথ্য কমিশনের উদ্যোগে ঢাকাসহ দেশব্যাপী আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস-২০২০ উদযাপনের লক্ষ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

এর আগে দিবসটি কেন্দ্রীয় পর্যায় ছাড়া শুধুমাত্র জেলা পর্যায়ে উদযাপন করা হতো। এবার তথ্য অধিকার সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে দিবসটি উদযাপনের আওতা বাড়িয়ে বিভাগীয় পর্যায় এবং পিডিসি ও ইউডিসিসমূহকে সংযুক্ত করে উপজেলা পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। বিভাগ, জেলা এবং পিডিসি ও ইউডিসিসমূহকে সংযুক্ত করে উপজেলা পর্যায়ে পৃথক পৃথক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় তথ্য কমিশনের উদ্যোগে আগারগাঁও প্রশাসনিক এলাকা, শেরে বাংলা নগর, ঢাকাস্থ প্রত্নতত্ত্ব ভবনের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, বিশেষ অতিথি হিসেবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান ও তথ্য সচিব কামরুন নাহার উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধান তথ্য কমিশনার মরতুজা আহমদ। এছাড়া সভায় উপস্থিত থাকবেন তথ্য কমিশনার সুরাইয়া বেগম, তথ্য কমিশনার ড. আবদুল মালেক ও তথ্য কমিশনের সচিব সুদত্ত চাকমা।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেছেন, তথ্য প্রাপ্তি ও জানা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। তথ্য মানুষকে সচেতন করে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। তথ্যের অবাধ প্রবাহ ও দেশের জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিতির জন্যই প্রণীত হয়েছে ‘তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯’। এ আইন আবশ্যিকভাবে তথ্য প্রাপ্তিতে জনগণকে দিয়েছে আইনি ভিত্তি। এর ফলে সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ এবং সরকারি ও বিদেশি অর্থায়নে সৃষ্ট বা পরিচালিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, জবাবদিহির পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে দায়িত্ব পালন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ রচিত হয়েছে।

তিনি বলেন, এবছর আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস এমন একটি সময়ে উদযাপিত হচ্ছে যখন কোভিড-১৯ ভাইরাস সংক্রমণে বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্ব বিপদগ্রস্ত। এই ক্রান্তিকালে তথ্যের অবাধ, সঠিক ও সময়োচিত প্রকাশ একদিকে যেমন জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে, অন্যদিকে কর্তৃপক্ষের সুশাসন নিশ্চিত হবে, জনগণ ও রাষ্ট্রের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক সমুন্নত থাকবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, তথ্য অথিকার আইনের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তথ্য কমিশন নিরলস কাজ করে যাচ্ছে এবং জনগণের তথ্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিরাজমান বাধাসমূহ দূর করতেও অব্যাহত প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। তথ্য কমিশনের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ জনগণকে তথ্য জানার অধিকার সম্পর্কে আরো সচেতন করবে – এ প্রত্যাশা করি।

দিবসটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, তথ্যের অবাধ প্রবাহের মাধ্যমে এ অজানা ভাইরাস মোকাবিলার জন্য শুরু থেকেই সারা দেশের সম্মুখ যোদ্ধাদের সম্পৃক্ত করে আমি ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত থেকে মতবিনিময় করেছি। বিভিন্ন স্তরের জনগণকে স্বাস্থ্য সচেতন করার, সকল কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীল রাখার প্রয়াস নিয়েছি। ব্যাপক সামাজিক বেষ্টনী রচনা করে, সর্বক্ষেত্রে প্রণোদনামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সমুন্নত রাখায় ব্রতী হয়েছি।

তিনি বলেন, আমরা জনগণের ক্ষমতায়ন ও সন্তুষ্টির জন্য ‘তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯’ পাস এবং তথ্য কমিশন গঠন করেছি। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আমরাই প্রথম দেশে বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চালুর অনুমোদন দেই। বর্তমানে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ সফলতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তথ্যের অবাধ প্রবাহকে আরো বিস্তৃত করতে আমরা সরকারি টেলিভিশনের পাশাপাশি ৪৫টি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, ২৮টি এফএম বেতার কেন্দ্র এবং ৩২টি কমিউনিটি রেডিও সম্প্রচারের অনুমতি দিয়েছি।

আওয়ামী লীগ সরকার নাগরিক সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ৪৬ হাজারের বেশি অফিসের তথ্য সম্বলিত বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন চালু করেছে। জেলা শহরগুলোর মধ্যে শতকরা ৯৯ ভাগ শহর ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্কের আওতায় এসেছে। এখন ভিডিও কনফারেন্সিং এবং জুম অ্যাপসের মাধ্যমে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করে তথ্য আদান প্রদান করা হচ্ছে। জনগণের তথ্যে অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার প্রয়াসে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন
আগেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ তথা উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করব, ইনশাআল্লাহ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আশা করি, তথ্য অধিকার আইনের আওতায় সুবিধাদি ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতায়ন ও সন্তুষ্টি নিশ্চিত হবে। প্রতিটি দেশ তাদের অভিজ্ঞতালব্ধ তথ্য আদান-প্রদান করে বিশ্বকে করোনা ভাইরাস মুক্ত করবে।

আরও পড়ুন