আমার নজরুল

শেলী জামান খানঃ

“বল বীর,
বল উন্নত মম শির!”

সেদিনটি ছিল আশ্চর্যরকমের সুন্দর একটি দিন। আরও অনেকেরই মত আমিও ছিলাম এক ভাগ্যবতী মেয়ে। সুযোগ হয়েছিল আমার প্রিয় কবি, প্রিয় একজন মানুষকে দেখার।ছবিতে নয়, টেলিভিশনের পর্দায় নয়, একেবারে সামনে দাঁড়িয়ে। এমনকি তাঁর জাদুমাখা হাতখানি ছুঁয়ে!

জান কবি, খুব দূরু দূরু বুকে গিয়েছিলাম তোমায় দেখবো বলে। ধানমন্ডির “কবিভবনে”। জানতাম না, তোমার দেখা পাব, কি পাব না। তোমার স্বাস্থ্য মাঝেমধ্যে বেশ খারাপ থাকে। তাই ডাক্তার সাহেবদের অনুমতি পেলেই শুধু ভক্তদের পক্ষে দেখা পাওয়ার অনুমতি মেলে। আমাদের অনেক সৌভাগ্য, তুমি সেদিন সুস্থ ছিলে। আমরা অনুমতি পেলাম তোমাকে এক নজর দেখার।

আমি তোমায় দেখলাম। বিদ্রোহী কবিকে দেখলাম। সাম্যের এক কবিকে দেখলাম। ‘মৃত্যুক্ষুধা’র রচয়িতাকে দেখলাম। শ্রান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়া এক গানের বুলবুলি’কে দেখলাম। দেখলাম, তোমার সেই বড় বড়, ভাসা ভাসা চোখদুটো। পুণ্জিভূত অজস্র অভিমান যেন জমাট বেঁধে আছে সেখানে।কোন এক অব্যাক্ত কান্না যেন স্থির হয়ে আছে, টলটলে চোখের জলে।না বলা কত কথা, কত বেদনা যেন জমে আছে এই ভাষাহীন মুখে। বোবা চাহনি’তে। তুমি যেন কীকরে আগেই জানতে পেরেছিলে তোমার ভবিষ্যতের ভাষাহারা আগামি দিনগুলোর কথা। তাই হয়ত তোমার কবিতায় তুমি বলেছিলে,

“তোমাদের পানে চাহিয়া বন্ধু,
আর আমি জাগিবনা,
নিশ্চল নিশ্চুপ,
আপনার মনে পুড়িব একাকী,
গন্ধ বিধুর ধূপ।”

তোমার হাতের আঙুলগুলো একটুখানি ছুঁয়ে দেখার সুযোগ পেয়েছিল আমার কিশোরী হাত। তোমাকে স্পর্শ করতে পেরে আমার সারা দেহমন প্রবল এক আবেগে শিউরে উঠেছিল। এই সেই হাত, যে হাত লিখেছিল,

“আমি চির-বিদ্রোহী বীর-
আমি বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির উন্নত শির।”

আমার কিশোরী হৃদয় কী ভিষন বেদনায়, কী এক গভীর কষ্টে কেঁদে উঠেছিল।

“আমি শ্যামের হাতের বাশরী”

এ বাশরী কেন এমন করে থেমে গেল? চারিদিকে কত ফুলের মালা, ফুলের তোড়া, ফুলের সৌরভ।আমার বিদ্রোহী কবি, প্রেমের কবি, সাম্যবাদের কবি চুপটি করে বসে আছে ভাষাহীন চোখে! কোথায় তুমি পেলে অদ্ভুত ঐ দূরদৃষ্টি?আসন্ন ভয়াবহ দিনগুলোর আগাম বার্তা!কেমন করে তুমি জানলে কবি?এত চণ্চলতা, এত উচ্ছলতা, সেই বাঁধভাঙা হাসি একদিন স্তব্ধ হয়ে যাবে। চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে তোমার কথা বলা, গান আর সুর। থেমে যাবে লেখনী!

তাইতো, চিরতরে নিরব হওয়ার আগেই লিখে গেলে তোমার নিরবতার গান!

“ফুলেরই জলসায় নিরব কেন কবি,
ভোরেরই হাওয়ায় কান্না পাওয়ায়
তব ম্লান ছবি
নিরব কেন কবি!”

এযেন নিজের ভবিষৎ, নিজের নিয়তি নিজেই লিখে যাওয়া। নিজের ভাগ্য নিজহাতেই রচনা করা। তুমি কোন সাধারণ নও, কবি।তুমি আসলেই দেবদূত।তাইতো তুমি নিজেই বলেছিলে,

”খোদার আসন ‘আরশ’ ছেদিয়া, উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ববিধাতৃর।ললাটে রুদ্র ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর।”

মানুষের হাজারো প্রবন্চনা, স্বার্থপরতা, দারিদ্র, হানাহানী, যুদ্ধ তোমাকে করেছিল ক্ষতবিক্ষত। প্রিয় পুত্র বুলবুলের মৃত্যু দিয়েছিল তোমাকে গভীর আঘাত। তবুও তোমার লেখনী থামেনি। বরং তুমি আরও গভীরভাবে লেখায় ডুবে গেলে! রচিত হল কতশত গান, কতশত কবিতা!পরম মমতায় লিখলে,

“হারিয়ে গেছে শ্রান্ত হয়ে
আমার গানের বুলবুলি।
করুন চোখে চেয়ে আছে
সাঁঝের ঝড়া ফুলগুলি!”

প্রেয়সী স্ত্রী প্রমীলার অসুস্থতাও তোমায় করেছিল দিশাহারা। কী এক অবিশ্বাস্য শক্তি, কী এক গোপন রহস্য নিরবে দীর্ঘকাল বয়ে চলেছ কেউ তা জানেনা! সবাইকে বিস্ময়ে বিমূঢ করে দিয়ে নিজেই লিখে রাখলে নিজের খেলা ভাঙ্গার গল্প।

“খেলা শেষ হলো শেষ হয় নাই বেলা,
কাঁদিয়ো না কাঁদিয়ো না”

অসুস্থতা আর ভাষা হারানোর পর চৌত্রিশটি বছর ধরে তুমি ধূপের মতই পুড়ে পুড়ে অঙার হয়েছো। চৌত্রিশ বছর আগেই তুমি সেই অনাগত দিনগুলোর ছবি এঁকে রেখেছিলে। তুমি যেন জানতে, একদিন সব কাজ ফুরিয়ে যাবে। শুধু পড়ে থাকবে নির্বাক কর্মহীন জীবন।

“মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাশরী,
আর হাতে রণতূর্য।

তুমি জানতে, একদিন তোমার হাতের বাঁশিটি থেমে যাবে! তাইতো ভবিষ্যদ্রষ্টার মতই লিখলে,

“যদি আর বাঁশী না বাজে
আমি কবি হিসেবে বলছি
আপনারা আমায় ক্ষমা করবেন।”

ঐদিন এক কিশোরী তার গভীর আবেগ দিয়ে তোমার হাত ছুঁয়েছিল। সে হাতটি ছিল একজন কবি, লেখক, সুরকার, আর যোদ্ধার হাত। সবার উপরে একজন আপনভোলা, আলোকিত মানুষের হাত।

একদিকে বিদ্রোহী কবিকে দেখার প্রচন্ড আনন্দ, অন্যদিকে নির্বাক এক গানের পাখিকে দেখার সুতীব্র বেদনা নিয়ে বাড়ি ফিরে এসেছিলাম। স্রষ্ঠার উদ্দেশ্যে প্রচন্ড অভিমানে, প্রবল মনোবেদনা নিয়ে জানতে চেয়েছিলাম,

এত বড়, এত মহৎ একটি প্রাণ যদি তুমি তৈরি করেই থাক, হে বিধাতা, তাঁকে এমন করে, এত অসময়ে নষ্ট করে দিলে কেন???

সেই তরুন বয়সে বুক ভরা কষ্ট নিয়ে যে উত্তরটি খুঁজে ছিলাম, আজও এই মধ্য বয়সে এসেও সমান কষ্ট নিয়েই এই উত্তরটি খুঁজে বেড়াই।

হে ঈশ্বর! কেন??? কেন???

জানি পাবনা উত্তর!

১৯৪২ সালে কবির অসুস্থতা ধরা পরার পর, ১৯৫২ পর্যন্ত কবি পরিবার ছিলেন নিভৃতে, একাকী, চিকিৎসাবিহীন। প্রায় দশটি বছর একরকম অবহেলায় কেটে যাবার পর ১৯৫২ সালে “নজরুল চিকিৎসা কমিটি” গঠন করা হয়েছিল। এবং তখনই কেবল কবি এবং কবিপত্নি প্রমিলার প্রকৃত চিকিৎসা শুরু হয়েছিল।

কবিকে প্রথমে ভারতের রাচী মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হল। তারপর দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন পাঠানো হয়। ভারতে গঠিত এবং লন্ডনে গঠিত দুটি চিকিৎসা গ্রুপই একমত হয়েছিলেন যে, কবির রোগটি দুরারোগ্য। প্রাথমিক পর্যায়ের অপর্যাপ্ত চিকিৎসার কারনে তা আরো জটিলতা ধারন করেছে। পরে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য কবিকে ভিয়েনায় ড: হ্যান্স হফের অধীনে ভর্তি করা হয়।নানা রকম পরীক্ষার পর ড: হফ মতামত দিয়েছিলেন, কবি “পিক্স ডিজিজ” নামক একটি সমস্যায় ভুগছেন। এই রোগে মাথার সামনের ও দুপাশের লোব সঙ্কুচিত হয়ে যায়। তিনি আরও জানালেন, “বর্তমান অবস্থা থেকে কবির আরোগ্য অসম্ভব”।

এভাবেই বড় করুনভাবে শেষ হয়ে গিয়েছিল নজরুল জীবনের শেষঅধ্যায়টি।তারপরের ইতিহাস হল একজন মৃত কবির শুধু শারীরীকভাবে বেঁচে থাকা। মস্তিস্কের ভীষন জটিল এক অসুখ নিয়ে চৌত্রিশটি বছর মানসিক ভারসাম্যহীন, ভাষাহীন একটি জীবন কাটাচ্ছিলেন একদার মূখর এক কবি, বাঁধভাঙ্গা জোয়ারের মত, গান পাগল এক গায়ক।

১৯৭৬ সাল। ২৭শে আগষ্ট। একজন সুর সৈনিক নিরবে চলে গেলেন। সকালে ঘুম ভেঙে জানলাম, “তুমি চলে গেছ। চলে গেছ, সেই না ফেরার দেশে।”

মনে পড়ল, মাত্র কদিন আগেই “কবি ভবন” এ তোমায় দেখে এলাম। বাড়ির সবুজ ঘাসের লনে একটি বেতের চেয়ারে তুমি বসেছিলে। তুমি কিছুক্ষণ পরপরই পানি খেতে চাও। তাই পাশের টি’টেবিলে তোমার পানির গ্লাসটা একটি গ্লাস কভার দিয়ে ঢাকা ছিল। তুমি বসে বসে পেপার দেখ, সেগুলো ছিড়ে আনন্দ পাও। তাই পাশেই স্তুপিকৃত ছিল কিছু পুরানো পেপার। তুমি আনমনা হয়ে পেপার নাড়াচাড়া করছিলে। সবুজ ঘাসের উপড় খালি পায়ে কয়েক পা হাঁটার চেষ্টা করে আবার চেয়ারটিতে এসে বসে পরেছিলে। তোমার পাশেই বসেছিলেন তোমার মতই সুদর্শন তোমার দুই ছেলে।কাজী সব্যসাচী এবং কাজী অনিরুদ্ধ। পুত্রবধু উমা কাজী, কল্যানী কাজী সবাই লনে গল্প করছিল। তুমি মাঝে মাঝে চোখ বড় করে ওদের দিকে তাকাচ্ছিলে। হঠাৎ করেই তোমার ঠোঁটজোড়া নড়ে উঠলো। মনে হচ্ছিল, তুমি বিরবির করে কিছু বলতে চাইছো।

আমি রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করলাম। কারন সারাক্ষণই আমার মনোযোগ ছিল তোমার উপড় নিবদ্ধ। ভাবলাম, হয়তো এখনই তুমি কথা বলে উঠবে। উমা কাজীর দিকে তাকিয়ে বললাম,

“কবি কথা বলতে চাইছেন।”

উমা হেসে বললেন, “ওঁ ওরকম প্রায়ই করে। আগে আমারও মনে হোত হয়তো একদিন এভাবেই উনি কথা বলে উঠবেন!”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টি এস সি চত্তর। যেন মানুষের ঢল নেমেছে। জনতার সমুদ্র। মনে মনে ভাবলাম কষ্টটাই বিফলে যাবে। আমার প্রিয় কবিকে আর শেষদেখা হবেনা। কাছে যেয়েই অবাক হলাম। বিশাল লাইন। মানুষ একদিক দিয়ে ঠুকছে, প্রিয় কবিকে এক পলকের জন্য দেখে বা একগোছা ফুল দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। আমার মন খারাপ হোল, সাথে কোন ফুল আনিনি বলে। আমার সঙ্গী ছিল চাচাত ভাই দিলিপ। আমরা সমবয়সি। ওকে ফিসফিস করে বললাম, “ইশ, একটি ফুল যদি পেতাম।তাহলে আমার কবিকে দিতাম।”

হঠাৎ টের পেলাম, আমার পেছনে কেউ একজন আমায় কাঁধে হাত রেখে ডাকছে। চমকে তাকালাম। সম্পূর্ন অপরিচিত একজন মানুষ তাঁর ফুলের গোছা থেকে একটি লাল গোলাপ তুলে আমার হাতে দিলেন। আমি অভিভূত হয়ে গেলাম।

“ঘুমিয়ে আছে শ্রান্ত হয়ে আমার গানের বুলবুলি”

কবির মরদেহের সামনে এসে দাঁড়ালাম। আমার লাল গোলাপটি রাখলাম ফুলে ফুলে ছেয়ে যাওয়া কবির পায়ের কাছে। জানালাম, আমার ভালোবাসা, শ্রদ্ধা। মনে মনে বললাম, “কবি, একবার শুধু চোখ খোল, দেখ, মানুষ তোমায় কত ভালোবাসে! শত শত বাঙালি আজ অশ্রুভেজা চোখে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে তোমাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাবে বলে!”

তোমার মৃত্যুতে, তোমাকে বিদায় জানাতে গিয়ে, প্রবল কষ্টের মধ্যেও মনে একধরনের প্রশান্তিও এলো! আহা, ঘুমাও বন্ধু। ঘুমাও রণক্লান্ত কবি। বড় শ্রান্ত, ঝণ্জা বিক্ষুব্ধ একটি জীবনের দীর্ঘ পথপরিক্রমা যেন আজ শেষ হলো।

তোমার চল্লিশ বছর বয়সে, তোমার একটি অন্তিম বাসনা নিয়ে গানটি লিখেছিলে,

“মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিও ভাই,
যেন গোরের থেকে মুয়াজ্জিনের
আজান শুনতে পাই”

স্বাধীনতার পর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে ১৯৭২ সালের ২৪ শে মে তারিখে কবিকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আশা হয়েছিল।
কবির এই ইচ্ছাকেই সন্মান জানিয়ে ১৯৭৬ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম এবং মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের পাশে সমাহিত করেন!এই সময়োপযোগী উদ্যোগ ও মহৎকাজের জন্য নজরুলপ্রেমী বাঙালিদের কাছে তাঁরাও বিশেষ প্রশংসার অংশিদার হয়ে আছেন।

পরবর্তীতে ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী হিসেবে বহুবার, কারনে অকারনে নজরুলের মাজারে গিয়েছি। প্রতিবারই দূরু দূরু বুকে ঐ লাল পাথরের সমাধির পাশে দাঁড়িয়েছি। প্রতিবারই সেই কিশোরী বেলার মতই আমার তরুনী হাত ছুঁয়ে যেত তোমার কবরের সবুজ ঘাস। তখন আমার বুকের ভেতরে একটা কষ্টবোধ দানা বেঁধে উঠত।মনে হত কত অভিমান ভরে তুমি লিখেছিলে,

“যেদিন আমি হারিয়ে যাব,
বুঝবে সেদিন বুঝবে,
অস্তপারের সন্ধাতারায়,
আমার খবর পুছবে,
বুঝবে সেদিন বুঝবে।”

অথবা চিরবিদায়ের কষ্ট নিয়ে লেখা সেই গান,

“আমি চিরতরে দূরে চলে যাব
তবু আমারে দেবনা ভুলিতে!”

আজও যতবারই দেশে ফিরে আসি, যতবারই তোমার সমাধিতে যাই, সমাধি ছুঁয়ে মনে মনে বলি,

ঘুমাও বন্ধু, হে মোর প্রিয় বিদ্রোহী কবি,
চিরকাল, আমাদের চেতনায়,
প্রতিটি বাঙালির অন্তরে,
তুমি জেগে রবে, বেঁচে রবে তোমার ছবি।

কবি, তোমার জন্মদিনে এভাবে কেন মৃত্যুর কথা মনে এলো জানি না। দু’বার তোমায় দেখেছিলাম। আমার দেখা তোমার সেই নির্বাক, নিথর মুখ আমি মনে রাখিনি।

যখনই কাজী নজরুল ইসলাম নামটি শুনি, তোমার গান বা কবিতা শুনি, তোমার ‘বাবরি দোলানো মহান পুরুষ’ সেই ছবিটাই আমার মনে পড়ে।
শুভ জন্মদিন আমার প্রিয় কবি!

লেখকঃ সাহিত্যিক, সমাজসেবক ও আমেরিকা প্রবাসী।

আরও পড়ুন