ইতালির কালো তালিকা থেকে নাম বাদ বাংলাদেশের  

মাঈনুল ইসলাম নাসিম, ইতালি থেকে

মহামারির মধ্যেই নতুন করে অভিবাসন ঘোষণা (ইমিগ্রেশন ডিক্লেয়ার) করেছে ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল ১২ অক্টোবর সোমবার দুপুরে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এতদসংক্রান্ত নোটিস প্রকাশ করা হয়েছে। দীর্ঘ ৮ বছর কালো তালিকাভুক্ত থাকার পর বাংলাদেশ থেকে মৌসুমী কাজের নিমিত্তে (সিজনাল জব ভিসা) শ্রমিকদের আসার সুযোগ হলো অবশেষে। ৯ মাসের সিজনাল ছাড়াও দুই বছরের কাজের কন্ট্রাক্ট ক্যাটাগরিতেও বাংলাদেশ থেকে শ্রমিকরা আসতে পারবেন ইতালিতে। তবে সিজনাল কাজের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে ফেরত না গেলে আবার কালো তালিকাভুক্ত হবে বাংলাদেশ।

ইতালির সিজনাল জব ভিসায় বাংলাদেশকে কালো তালিকা থেকে সাময়িকভাবে বাদ দেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে সোমবার রাতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানানো হয়েছে,”এবার বাংলাদেশের কৃষি শ্রমিকরা তাঁদের অভিজ্ঞতা এবং কর্মদক্ষতা কাজে লাগিয়ে ইতালির ভূমি ফল ও ফসলে ভরিয়ে তোলার সুযোগ পাবেন”। অথচ আজ অবধি কোন ফর্মূলা বাংলাদেশ সরকারের তরফে নির্ধারণ করা হয়নি কীসের ভিত্তিতে কৃষি শ্রমিক(!)রা মৌসুমি কাজের জন্য সিজনাল জব ভিসায় ইতালিতে প্রবেশ করে ৬ থেকে ৯ মাসের কৃষি মৌসুম শেষে যথাসময়ে ফিরে যাবে বাংলাদেশে।

২০১৩ সালে ইতালি সরকারের কালো তালিকাভুক্ত হবার আগে ২০০৮ থেকে ২০১২ যে প্রায় ১৮ হাজার বাংলাদেশি সিজনাল জব (কৃষি / হোটেল রেস্টুরেন্ট) ভিসায় নির্ধারিত সময়ের জন্য ইতালিতে এসেছিলো তাদের মধ্যে মাত্র ৫০/৬০ জন সর্বসাকুল্যে ফিরে গিয়েছিলো বাংলাদেশে, সিজন শেষে। এমন কেলেংকারির প্রেক্ষিতেই টানা ৮ বছর ব্লাক লিস্টে ছিলো বাংলাদেশ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুরোধকে সম্মান দিয়েছে ইতালি সন্দেহ নেই কিন্তু সিজনাল জব ভিসায় আগামীতে যারা আসবে তারা কি যথাসময়ে ফেরত যাবে? কেন যাবে?

সিজনাল জব ভিসায় যেহেতু বাংলাদেশ সরকারের তরফে শ্রমিক পাঠানো হবে না বা পাঠাবার সুযোগও নেই এবং যে যার মতো করে ইতালিতে বসবাসরত আত্মীয় পরিজনকে যে কোন ভাবেই হোক ম্যানেজ করে কিংবা বহু আগে থেকেই ওঁত পেতে থাকা দালাল চক্রকে বাংলা টাকায় ১০ থেকে ১৫ লাখ ক্যাশ পেমেন্ট করে আসবে সেক্ষেত্রে কৃষি মৌসুম শেষে সিজনাল ভিসার মেয়াদ থাকতেই যথাসময়ে তাদেরকে বাংলাদেশে ফেরত আনার দায়িত্ব বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিচ্ছে কি? ফিরে না গেলে আবার কালো তালিকাভুক্ত হবে বাংলাদেশ এটা সেগুনবাগিচায় জানা আছে কি?

সিজন শেষে ইতালি থেকে শ্রমিকদেরকে দেশে ফেরাবার দায়িত্ব বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় না নিয়ে থাকলে “বাংলাদেশের কৃষি শ্রমিকরা তাঁদের অভিজ্ঞতা এবং কর্মদক্ষতা কাজে লাগিয়ে ইতালির ভূমি ফল ও ফসলে ভরিয়ে তোলার সুযোগ পাবেন” এই টাইপের কথাবার্তা সরকারি ভাবে বলার মানে কি? দালাল চক্রকে এভাবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা কেন দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার? ইতালিয়ান হোম মিনিস্ট্রি আজ সার্কুলার দেয়ার পর বাংলাদেশ থেকে অনেকেই খোঁজ নিতে শুরু করেছেন কৃষি ভিসায় প্রথমে ইতালি ঢুকে কীভাবে কোন দেশে গিয়ে সেটেল্ড হওয়া যাবে, যেমনটা করেছিলো অতীতে তাদের পূর্বসুরীরা।

 মাঈনুল ইসলাম নাসিম, অভিবাসন পরামর্শক।

 

আরও পড়ুন