ইরান নয় যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা

আন্তর্জাতিক সংবাদ

ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধিতা করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ টি সদস্য দেশের  মধ্যে ১৩ টি ইরানের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর  প্রয়াসের বিপক্ষে অবস্থান করেছে  আনুষ্ঠানিক চিঠির  মাধ্যমে ।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও জাতিসংঘের নিউইয়র্ক সদর দফতরে ইরানকে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি না মেনে ঘোষণা করার ২৪ ঘন্টা পরে কাউন্সিল সদস্যদের এই চিঠিগুলি সমস্ত জারি করা হয়েছিল।

এর আগে ১৪ জুলাই, ২০১৫ তে the Joint Comprehensive Plan of Action, or JCPOA এর অধীনে ইরান এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ৫ সদস্য চীন ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র  (পি 5 + 1) পারমাণবিক চুক্তিতে সম্মতি জ্ঞাপন করে ।  এতে  ১৫৯-পৃষ্ঠার একটি বিশদ চুক্তি করে  । আন্তর্জাতিক এই পারমাণবিক চুক্তিটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজোলিউশন ২২৩১ দ্বারা অনুমোদিত হয়েছিল এবং  ইহা ২০ জুলাই, ২০১৫-এ গৃহীত হয়েছিল। চুক্তিতে আরও কিছু বিষয় সংযুক্ত করে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)  কর্তৃক JCPOA এর পারমাণবিক-সংক্রান্ত বিধানের সাথে ইরানের ক্মপ্লায়েন্স (প্রয়োজনীয়তা বাধ্যবাধকতা) আছে কিনা তা যাচাই করা হবে বলে জানানো হয়  । কিন্তু ৮ ই মে, ২০১৮  সালে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প ঘোষণা করেছিল যে ইরান থাকলে যুক্তরাষ্ট্র The Joint Comprehensive Plan of Action, or JCPOA থেকে সরে আসবে এবং ইরানের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক নিষেধাজ্ঞাগুলি আবার জারী  করবে।

কাজেই এই চুক্তির অধীনে (The Joint Comprehensive Plan of Action, or JCPOA) ইরানের উপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাগুলি ঘোষণার ৩০ দিনের পরে আবার হয়তো জারী হতো । তবে প্রায় নিরাপত্তা পরিষদের প্রায়  প্রতিটি সদস্য জানিয়েছেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞাগুলি “স্ন্যাপব্যাক” ট্রিগার করার কোনও অধিকার নেই কারণ তারা ২০১৮ সালের মে মাসেই The Joint Comprehensive Plan of Action, or JCPOA ছেড়ে দিয়েছে।

এর প্রেক্ষিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলেছে যে এটি এখনও প্রযুক্তিগতভাবে অংশগ্রহণকারী দেশ । কারণ যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালের নিরাপত্তা পরিষদের The Joint Comprehensive Plan of Action, or JCPOA-র প্রস্তাবিত প্রস্তাবের রেজুলেসনের এনডোরসিংএ এখনও যুক্তরাষ্ট্রের নাম রয়েছে । পম্পেও তার ঘোষণা দেয়ার আগেই ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য এবং জার্মানি এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে।

এর পর থেকে রয়টার্স জানিয়েছে যে এটি রাশিয়া, চীন, জার্মানি, বেলজিয়াম, ভিয়েতনাম, নাইজার, সেন্ট ভিনসেন্ট এবং গ্রেনাডাইনস, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়া, এস্তোনিয়া এবং তিউনিসিয়ার চিঠি দেখেছিল এবং তারা মার্কিন অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেছে।কেবল ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রই এখনও এই বিষয়ে কোন আনুষ্ঠানিক চিঠি জারি করতে পারেনি। শুধুমাত্র   ক্যারিবীয় রাষ্ট্রটি ইরানের উপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার প্রসার বাড়ানোর চেষ্টা করার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করার একমাত্র নিরাপত্তা কাউন্সিলের অস্থায়ী সদস্য ।

কাউন্সিলের সদস্যরা যারা সাধারণত বেশিরভাগ ইস্যুতে মার্কিন মিত্র হিসাবে বিবেচনা করেন তারা বলেছেন যে  এক্ষেত্রে যদি কোন যুক্তি পাওয়া যেত তবে তারা ওয়াশিংটনের সমর্থন করতেন, যেখানে অস্ত্রের নিষেধাজ্ঞাকে সীমিত সময়ের জন্য বাড়ানো যেতে পারত। নিষেধাজ্ঞায় মার্কিন রেজুলেশনের পরাজয় সরাসরি পম্পেওর আইনী Gambit (নিজেদের স্বার্থে সরে দাঁড়ানো) জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাগুলি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিল। জাতিসংঘের কূটনীতিকরা বলেছিলেন যে মার্কিন বিচ্ছিন্নতার মূল কারণ হচ্ছে পম্পের ব্যবহৃত ঘৃণ্য পদক্ষেপের  একটি প্রতিচ্ছবি  ।তিনি ইউরোপীয়দের “আইয়াতুল্লাহর সাথে লড়াই” করার জন্য আহবান করেছেন এবং ইউএনতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কেলি ক্রাফ্টকে রাজনৈতিক নিয়োগকারী হিসাবে অভিহিত করেছিলেন। ।

একজন কূটনীতিক বলেছেন, “আমেরিকানরা আসলে তাদের হাস্যকর  অবস্থার শীর্ষে অবস্থান করছে ।”জাতিসংঘের একজন কূটনীতিক বলেন, “এখানে মূল বিষয় হল নিরাপত্তা কাউন্সিলের বেশিরভাগ দেশ আমেরিকার সাথে একমত যে ইরান খুব বেশী সুশোভন  দেশ নয় এবং পারমাণবিক অস্ত্রসহ আরও বেশি অস্ত্র থাকাও কোন দেশের জন্য ভাল বিষয় নয় । তবে আমেরিকানরা তাদের  ক্ষমতা প্রায়ই এতো আক্রমণাত্মকভাবে ব্যবহার করে যে তারা শুধু নীতিমালায় নয় বরং জনগণের কাছে অপ্রীতিকর হয়ে উঠার কারণে  ক্রমান্বয়ে লোকদের থেকে  বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।”

সূত্রঃ দ্যা গার্ডিয়ান ও আর্মস কন্ট্রোল এসোসিয়েশন

 

আরও পড়ুন