কথা বলা-লেখালেখি বন্ধ করে দিবেন?

নোমান মাহফুজঃ

আপনি একটি ভিডিও ক্লিপ ছাড়লেন। কতিপয় বাঙ্গালি পুরো ভিডিও দেখবে না। একটু দেখেই সমালোচনা শুরু করে দিবে। পুরো ভিডিও ক্লিপে আপনি কি বলে বুঝাতে চেয়েছেন? তা না শুনে-বুঝে আপনার উপর অপবাদ আরোপ করবে। নিজের জ্ঞান প্রকাশ করবে। প্রয়োজনে আপনার চৌদ্ধগোষ্টিকে গালি দিবে।

কোন বিষয়ে লিখলেন। কি লিখলেন। কেন লিখলেন। লেখাটার মূল ভাবার্থ কি? তা বুঝার চেষ্টা না করে। প্রথম দু’এক লাইন পড়েই বাঙ্গালি আপনার ভুল ধরবে। নেগেটিভ কথা বলবে। আপনাকে নানা অপরাধী ট্যাগ দিবে। এটা আমাদের বাঙ্গালি  কতিপয়ের স্বভাবজাত চরিত্র।

মনে করেন, আপনি কাউকে বলতেছেন। আমি বিয়ে…..। বাকি বাক্যাংশ শেষ করার আগেই কতিপয় বাঙ্গালি বলে দিবে আপনার ভবিষৎক্ষণিকা। অথচ আপনি বলতে চেয়েছিলেন “আমি বিয়ে করবো না”। তারা বুঝে নিলো আপনি বিয়ে করবেন। এটি একটি উদাহারণ। এরকমই আরো কতো কথা আছে। আবার আপনার লেখা বা বলার বিষয়টা তার মনের সাথে মিলে গেলে আপনাকে চাঁদের দেশে পাঠিয়ে বিজ্ঞানী হিসেবে সমাজে পরিচিত করাবে। আর মনের মিল না হলে এককথায় অসভ্যতা দেখাবে।

এরকম আবাল কাঠপাকনার সমাজে তাই বলে কি আপনি কথা বলা বা লেখালেখি বন্ধ করে দিবেন? না! সেটা জ্ঞানীকুল বলেননি। সময়ের প্রয়োজনে আপনার বলা ও লেখা কারোও ভালো লাগবে আবার কেউ এড়িয়ে চলবে। এটাই স্বাভাবিক। সব যে আপনার শ্রোতা বা পাঠক হবে তা নয়। অতএব একজন লেখক বা উপস্থাপক হিসেবে আপনার কাজ লেখা ও বলার কাজ চালিয়ে। যে বুঝবে সে বুঝবেই। আর যে বুঝবে না, তার মগজ খুঁজবে না।

শব্দতত্ত্বের একজন ক্ষুদ্র ছাত্র হিসেবে সময়ে সময়ে কতো কথা শুনেছি। কতজনের কতো গালি শুনেছি। কতো উপহাস পেয়েছি। তাই বলে কি সত্যকে মিথ্যার আবরণে ঢেকেছি? না! ঢাকবো না। ঢাকতেও চাই না। আল্লাহ পাক মেধা প্রতিভা দিয়েছেন, শুধু নিজের জন্য না। পরিবার, সমাজ, দেশ, জাতির জন্য। আমার হক্ব আমাকে আদায় করতে হবে। নতুবা রব আমাকে পাকড়াও করবেন।

আরও পড়ুন