কুড়িগ্রামে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়ীতার সম্মাননা পেলেন সালেহা সরকার

“কমলা রঙ্গের বিশ্বে নারী বাধার পর দেবেই পাড়ি”এই প্রতিবাদ্যকে সামনে রেখে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ (২৫ নভেম্বর ২০২০) এবং রোকেয়া দিবস (৯ই ডিসেম্বর২০২০) উদযাপন উপলক্ষ্যে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে “জয়িতা অন্বেষনে বাংলাদেশ” শীর্ষক কার্যক্রমের আওতায় উপজেলা পর্যায়ে “সফল জননী নারী” সম্মাননা অর্জন করলেন মহীয়সী নারী সালেহা সরকার। এ উপলক্ষে আয়োজিত সভায় জয়িতাকে সম্মাননা প্রদান করা হয় ।এই সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে তাকে কুঁড়িগ্রামের শ্রেষ্ঠ জয়ীতা হিসেবে ঘোষণা করা হলো।
আনন্দের বিষয় এই রংপুর বিভাগের পায়রাবন্দ গ্রাম থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন এই উপমহাদেশের নারীকুলের শিক্ষার আলোকবর্তিকা হাতে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, আর সেই রংপুর বিভাগে শ্রেষ্ঠ জয়ীতা হলেন মহীয়সী নারী সালেহা সরকার। তার এই সামাজিক কার্যক্রমের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি মহীয়সী ডটকমের সকল সদস্য।
এক অদম্য নারী তাঁর সংগ্রামী জীবনের সার্থকতার স্বীকৃতি পেলেন। ছালেহা সরকার (জাতীয় পরিচয়পত্রে ‘সালেহা’), ৩৬ বছর আগে তাঁর স্বামী মারা যায়। এদেশের সামাজিক বাস্তবতায় একজন বিধবা নারী হয়ে দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার মধ্যদিয়ে ৪ সন্তানকে  উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলেছেন। বড় মেয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক (গাইনোকলিস্ট), মেজ মেয়ে অর্থনীতিতে মাস্টার্স  এখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে  শিক্ষকতা করছেন, একমাত্র ছেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক, ছোট মেয়ে গৃহিণী, গ্রাজুয়েশন করেছেন। কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলায় থেকে তিনি তাঁর সন্তানদের নিয়ে স্বপ্ন বুনেছেন, অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে একজন বিধবা নারীর নানা প্রতিকূলতাকে জয় করার সফল অধ্যায়ের রচয়িতা  আজকের ‘শ্রেষ্ঠ জয়িতা’ এই ছালেহা সরকার। তাঁর জীবন দর্শন, একনিষ্ঠতা এবং সমাজে সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করবার অদমনীয় মানসিকতা অনেক নারীসহ পুরুষকেও উদ্বুদ্ধ করে তুলবে।
এরই মধ্যে নিজ এলাকায় পারিবারিক উদ্যোগে তাঁর নামে অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘ছালেহা ফাউন্ডেশন’। ফাউন্ডেশনটি পরিচালিত হচ্ছে ছেলের সহধর্মিণী মিতা রহমানের নেতৃত্বে। শিক্ষা, সংস্কৃতি সহ নানা সামাজিক কর্মকান্ডে এই ফাউন্ডেশন কাজ করে যাচ্ছে।

সূত্রঃ ফারুক সরকার টুকু,নৃ বিজ্ঞান বিভাগের  সহযোগী অধ্যাপক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

 

আরও পড়ুন