না ফেরার দেশে গেছেন সঙ্গীত পরিচালক বাসু দেব ঘোষ

নিজস্ব প্রতিনিধি, মহীয়সী

সঙ্গীত পরিচালক বাসু দেব ঘোষ আর নেই। এইমাত্র বৌদি জানালেন। কি অদ্ভুত মানুষের জীবন। আজ দুপুরেও কথা হলো। ও বললো, ক্রাউন এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে গান শোনাবে। ক্রাউন স্টুডিও টা দেখবে। আরো কতো পরিকল্পনা – কতো স্বপ্ন। জীবন এতো ছোট কেনো?

ক্রাউন মিউজিকের সিইও সালাহ উদ্দিন সোহায়েব চৌধুরী জানান-

“২৮ ডিসেম্বর রাতেই প্রায় এক ঘন্টা কথা হলো বাসু’র সাথে। অনেক কথা – অনেক স্বপ্ন ওর। এক সময় বললো, “বন্ধু, আমার পিসিটা ৬-৭ বছরের পুরনো। খুব ভয়েভয়ে থাকি। কখন জানি বন্ধ হয়ে যায়”। পিসি টা বন্ধ হয়নি। বাসু বন্ধ হয়ে গেছে। কী অদ্ভুত জীবন। তাই না?

২৯ ডিসেম্বর দুপুরেও কথা হলো ওর সাথে। জানতে চাইলো ক্রাউন মিউজিক এর অফিসের খবর। আমি বললান, সেদিন লাইভে ক্রাউনের শিল্পীরা গান করবে। বাসু বললো, “এটা আমার হাতে ছেড়ে দাও। আমি নিজেও গাইবো – ওদের দিয়েও গাওয়াবো। ক্রাউন মিউজিকের অফিসটা চালু হয়ে গেলে, আমি রোজ ওখানে দুই-তিন ঘন্টা বসবো। আমাদের কাজ করতে হবে বাংলা সঙ্গীতের জন্যে। দেখো বন্ধু, তুমি এক পাগল আর আমি আরেক পাগল। আমরাই পারবো সঙ্গীত কে উদ্ধার করতে অসুরদের কবল থেকে”।

২১ ডিসেম্বর ও আমার বাসায় এলো। সবার সাথে হাসিমুখে কতো কথা। যাওয়ার আগে আমায় কানেকানে বলে গেলো “জয় তোমার হবেই”।

বাসু চলে গেছে। আমাকেই এখন ওর পতাকা বহন করতে হবে।

সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, ওর মৃত্যু সংবাদটা শোনার পর-পরই কম্পিউটার খুলে দেখি ও একটা ইমেইল পাঠিয়ে গেছে। ঠিক বিকেল ৩ টায়। নিজেই একটা গান করে গেছে। স্রষ্টাকে ওর কন্ঠেই কিছু প্রশ্নও করে গেছে। আমি ওই গানটা কিছুক্ষণের মধ্যেই আপলোড করছি।

সবার প্রতি বিনীত অনুরোধ। যে মানুষটা আজীবন সঙ্গীতকে হৃদয়ে ধারণ করেছে, সে বাসু-কে যেনো আমরা ভুলে না যাই। প্লিজ!”

ওপার বাংলায়ও সমান জনপ্রিয় ছিলেন বাসুদেব। সর্বশেষ ১০০০টি দেশাত্মবোধক গান নিয়ে একটি অ্যালবামের কাজ করছিলেন তিনি। নাম রেখেছিলেন ‘সূর্যালোকে শানিত প্রাণের গান’। অ্যালবামের প্রায় সাড়ে নয়শ’ গানের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছিল। কাজটি এবং সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্ট শিগগিরই গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ডের দফতরে জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন বাসুদেব। এই কাজ অসামাপ্ত রেখেই চলে গেলেন তিনি।

আরও পড়ুন