পথকুকুরসহ অসহায় প্রাণী এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে দৈনিক খাওয়াচ্ছেন সোহম

নিজস্ব প্রতিনিধি, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত

সোহম মুখোপাধ্যায় ভারতের পশ্চিম বঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্ম ও বেড়ে উঠা । তিনি শুধু পশ্চিমবঙ্গের নয় ভারতের রত্ন বলা যায় । তিনি  মাউথা অর্গান(হারমোনিকা) বাজানোর উপর বিশ্ব রেকর্ড করেন । অভূতপূর্ব এক ঘটনার আবির্ভাব ঘটান তিনি । নাক দিয়ে মাউথা অর্গান(হারমোনিকা) বাজান এই মিউজিসিয়ান । শুধু যে বাজান তা না মোহনীয় সূর তোলেন তাতে । এই সোহম এই করোনাকালিন সময়ে সমাজের সুবিধাবঞ্ছিত মানুষ এবং পথকুকুরসহ অসহায় প্রাণীদের প্রতি পরম মমত্ববোধ থেকে কাজ করে যাচ্ছেন নিরলসভাবে ।

সোহম মুখোপাধ্যায়ের সাথে এ নিয়ে কথা বললে তিনি মহীয়সীকে জানান,

“আমরা তো একমাস ধরেই কর্মসূচী পালন করছি। ওদের পাশে থাকার কাজ শুরু করেছিলাম পাঁচ বছর আগে। আমার জন্মদিনে বেশ কিছু পথশিশুদের সাথে খাওয়া দাওয়া করে, তার পর বিভিন্ন ভাবে ওদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচী করে গেছি স্ত্রী কে সঙ্গে নিয়ে। পরে সিদ্ধান্ত নিই আমার সন্তান, সূচন তার জীবনের প্রথম অন্ন গ্রহণ করবে পথশিশু ও প্রান্তিক মানুষদের খাইয়ে। কথামতো কাজ শুরু করি প্রায় ২০০ জন আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া লেখা মানুষ ও পথশিশু কে দুপুর ও রাতে রেস্টুরেন্টে খাওয়ার খায় , আমাদের ই সাথে। যাদের সামর্থ্য নেই রেস্টুরেন্টে খাওয়ার ,তাদের স্বপ্নপূরণ করতে পেরে আনন্দ পেয়েছি। এবছরে লকডাউন এর কারণে বহু মানুষ রোজগারহীন ও বেশ কিছু অসহায় মানুষের কাছে অন্ন পর্যন্ত পৌছচ্ছে না। এমতাবস্থায় পথে থাকা প্রাণীদের অবস্হাও তথৈবচ। তাই সিদ্ধান্ত নিই ওদের পাশে দাঁড়ানোর। প্রায় ২০০০ এর মতো পথকুকুর, প্রাণীদের দৈনিক খাওয়াচ্ছি, পাশাপাশি আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষ দের মধ্যে তিন ধাপে তুলে দিয়েছি সমগ্র রেশন।  ৫ কেজি চাল, ডাল, আলু, পিয়াজ, তেল, নুন, সোয়াবিন, বিস্কুট, সাবান, ও মুড়ি । হারমোনিকা শিখিয়ে জমানো কিছু অর্থ থেকে কাজটা শুরু করেছি । অসহায় মানুষ না খেতে পেয়ে থাকছে, এই সময় এই সময় আর কিছু কথা ভাবতে পারি নি । পরে কিছু বন্ধুর কাছ থেকে সামান্য হলেও সাহায্য পেয়েছি। অনেকে আমার দেখাদেখি নিজের এলাকার মানুষ জনের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। সব থেকে অবাক হয়েছি যখন দেখলাম আমার সহধর্মিণী ঝাঁপিয়ে পড়ছে আমার আদর্শকে ভালোবেসে। তিনি নিজে সংসারের সব কিছু সামলে নিরলসভাবে ওদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য চেষ্টা করছেন, প্রতিদিন ওদের জন্য রান্না করা.. ওদের খেতে দেওয়া, প্রান্তিক মানুষদের জন্য বাজারে আমার পাশে থাকা, ওদের জন্য তিনি নিজের সঞ্চয় থেকেও বেশ কিছু অর্থ প্রদান করেছেন। ছোটো থেকে আমার মা বাবা যে শিক্ষা দান করেছেন, সেই আদর্শ কে আমার সহধর্মিণী পায়েল সম্মান জানিয়ে এভাবে এগিয়ে এসেছে দেখে সত্যিই আমি আনন্দিত।”

উল্লেখ্য তিনি ২০১৯ এ লিমকা বুক অফ রেকর্ডসে সম্মানিত হ ও অত্যন্ত বিরল “দ্য হিউম্যান স্টোরিস ক্যাট্যাগরিতে পাকাপাকিভাবে জায়গা করে নে ভারতে রাষ্ট্রীয় যুব গৌরব সম্মানে সম্মানিত হ । গত বছর দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী বিজয় গোয়েল এবং মাননীয় শ্রী রামদাস আটওয়ালে জির হাত থেকে পুরষ্কার গ্রহণ করেন ।

এছাড়া তিনি ইউনিভার্সাল রেকর্ড ফোরাম থেকে নাক দিয়ে প্রথম হারমোনিকা বা মাউথ অর্গান বাজানোর জন্য “ফাদার অফ নোজ হারমোনিকা” উপাধিতে ভূষিত হন।অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে সম্মানিত হয়েছেন ভারত শিরোমণি আন্তর্জাতিক পুরস্কারে

রেকর্ড অ্যচিভারস অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রেকর্ড হোল্ডারস অ্যাসোসিয়েশন থেকে সম্মানিত হয়েছেন রেকর্ড ক্রিয়েটর সম্মানে।

গান্ধি পিস ফাউন্ডেশন এর নেপাল থেকে তাঁকে বর্ধমান জেলার শান্তিদূত (peace ambassador) নির্বাচন করেছে। স্পা ইন্ডিয়া ( sports authority association of India) সোহমকে নিয়োগ করেছেন অ্যডভাইজার পদে।

আরও পড়ুন