বিশ্বের একমাত্র শাটল ট্রেন চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে

বরুণ সরকার

চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়(চবি)শিক্ষার্থীদের একটি গর্বের বিষয় শাটল ট্রেন।বর্তমানে পৃথিবীতে আর কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সার্ভিস নেই।আগে একটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রানসিসকো ইউনিভার্সিটিতে।

চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শুরু হয় ১৯৬৬সালে।বিশ্ববিদ্যালয় শুরু দিকে কোন শাটল ট্রেন ছিল না।চবিতে শাটল ট্রেন সার্ভিস শুরু হয় ১৯৮০সালে।শাটলে করে চট্রগ্রাম শহর থেকে ২২কিমি দূরে চবি ক্যাম্পাসে পৌঁছতে সময় লাগে প্রায় এক ঘন্টা।

শাটল ট্রেনের বগির আরো রয়েছে বিচিত্র সব নাম।চবির শিক্ষার্থীদের দেয়া নামগুলোর মধ্যে -দোস্ত, অক্টোপাস, ফাইট ক্লাব, উল্কা, একাকার, খাইট্টা খা, এফিটাপ, সিক্সটি নাইন, বিজয়, ভার্সিটি এক্সপ্রেস, সিএফসি, অলওয়েজ এই রকম অনেক মজার মজার নাম।

বাইরে থেকে ঘুরতে আসা অনেকেই প্রথম দর্শনেই প্রেমে পড়ে যেতেন চবির শিক্ষার্থীদের ছাত্রজীবনের অপরিহার্য অংশ এই শাটল ট্রেনগুলোর। এই ট্রেনগুলো অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে।

চলন্ত শাটল ট্রেনের জানালার দিয়ে দেখা যায় মানুষের বিচিত্র জীবন, অপরূপ প্রকৃতি দর্শন কিংবা রেললাইনের পাশ ঘেঁষে থাকা শুভ্র কাশফুলে হাতের স্পর্শ সবই সম্ভব শুধুমাত্র চবির শাটল ট্রেনে। অনেক শিক্ষার্থী এটিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ বলে অভিহিত করেন।

এই শাটল ট্রেন নিয়ে গান, কবিতা, নাটক উপন্যাস, টেলিফিল্ম, নাটক সব তৈরি হয়েছে। শুধু বাকি ছিল সিনেমার। অবশেষে তাও হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী প্রদীপ ঘোষ শাটল ট্রেন নিয়ে তৈরি করেছেন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এর নাম দিয়েছেন ‘শাটল ট্রেন’।

শাটলের গান শিক্ষার্থীদের যাতায়াতকে করে প্রাণবন্ত। গানের কথা, সুরে খুঁজে পাওয়া যেত দেশ ও মাটির গন্ধ। আবেগ জড়ানো সুখে ভাটিয়ালী, ভাওয়াইয়া, দেশাত্মবোধক, বাউল, নজরুল, হিন্দি, ব্যান্ড, ইংরেজি গানে প্রাণবন্ত হয়ে উঠে শাটলের এক একটি বগি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে শাটল ট্রেনের যাত্রী হয়ে গলা ফাটিয়ে গান গাওয়াদের মধ্যে দেশ বরেণ্য শিল্পী হয়েছেন অনেকেই। তাদের মধ্যে নকীব খান, পার্থ বড়ুয়া, আইয়ুব বাচ্চু, তপন চৌধুরী অন্যতম।

আরও পড়ুন