বৃদ্ধ পিতার ভরণ-পোষণের জন্য এক ছেলেকে বুঝালেন এস আই ডলি

নিজস্ব প্রতিবেদক

সন্তান লালন-পালন করা যেমন বাবা-মার দায়িত্ব তেমনি বৃদ্ধ বাবা-মার ভরণ পোষণের দায়িত্ব রয়েছে প্রতিটি সন্তানের । ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতি অনুসারে এটা প্রত্যেকটি মানুষের কর্তব্য । কিন্তু আমরা দেখতে পাই যে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমাদের সমাজের প্রতিষ্ঠিত সন্তানেরা বাবা-মাকে চরম অবহেলা করে । তাদের থেকে বিচ্চিন্ন থাকে বা তাদের বৃদ্ধাশ্রমে যাওয়ার রাস্তা তৈরি করে দেয় ।  সম্প্রতি গত ১০ সেপ্টেম্বর পুলিশের নারী কর্মকর্তা এস আই আফরোজা ডলি এক দৃষ্টান্ত মূলক কাজ করেছেন । অবহেলিত বাবাকে তার সন্তানের কাছে সম্মানে ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন এবং বাবার দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের ভার দিয়ে এসেছেন ।তিনি একজন অসহায় বাবাকে তার সন্তানের কাছে নিয়ে যান এবং একজন দায়িত্বশীল পুলিশেরর কাজ করেছেন । তিনি কেরানীগঞ্জ  মডেল থানার একজন  সৎ পুলিশ কর্মকর্তা ।

এস আই আফরোজা ডলি বলেন- “চাচার বয়স ১১০ বছর। থানায় এসে অভিযোগ করেন ছেলে ও ছেলের বউ এর নামে। অভিযোগ আমলে নিয়ে নিজেই তদন্ত করে চাচার ছেলে ও ছেলের বউকে বুঝিয়ে চাচাকে তাদের হাতে দিয়ে আসলাম। এতে মনে হয় চাচার বেশ উপকার হয়েছে। আমিও মনের দিক থেকে আনন্দিত এই ভেবে যে,চাচার জন্য আমি কিছু করতে পেরেছি। এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মোবাইল নাম্বার নিয়ে আসছি। আমার নাম্বারও দিয়ে আসছি । চাচার কোন সমস্যা হলে যেন দ্রুত আমাকে জানায়। আমি এমন একটা ভাল কাজ করতে পেরে আত্মতৃপ্ত ।”

পিতা মাতার ভরণ পোষণ আইন-২০১৩ এর ধারা-৩ অনুসারে প্রত্যেক সন্তান তার বাব-মার ভরণ-পোষণ বহন করতে বাধ্য ।  আর ধারা-৪ অনুসারে বাবা-মার অনুপস্থিতিতে দাদা-দাদী বা নানা-নানীর ভরণপোষণের দায়ভারও নাতী-নাতনীর উপর পড়বে ।

নিচে পিতা মাতার ভরণ পোষণ আইন-২০১৩ এর ধারা-৩ ও ধারা-৪ উল্লেখ করা হল-

ধারা-৩

৩। (১) প্রত্যেক সন্তানকে তাহার পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করিতে হইবে।

(২) কোন পিতা-মাতার একাধিক সন্তান থাকিলে সেইক্ষেত্রে সন্তানগণ নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করিয়া তাহাদের পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করিবে।

(৩) এই ধারার অধীন পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করিবার ক্ষেত্রে প্রত্যেক সন্তানকে পিতা-মাতার একইসঙ্গে একই স্থানে বসবাস নিশ্চিত করিতে হইবে।

(৪) কোন সন্তান তাহার পিতা বা মাতাকে বা উভয়কে তাহার, বা ক্ষেত্রমত, তাহাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে, কোন বৃদ্ধ নিবাস কিংবা অন্য কোথাও একত্রে কিংবা আলাদা আলাদাভাবে বসবাস করিতে বাধ্য করিবে না।

(৫) প্রত্যেক সন্তান তাহার পিতা এবং মাতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ খবর রাখিবে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা ও পরিচর্যা করিবে।

(৬) পিতা বা মাতা কিংবা উভয়, সন্তান হইতে পৃথকভাবে বসবাস করিলে, সেইক্ষেত্রে প্রত্যেক সন্তানকে নিয়মিতভাবে তাহার, বা ক্ষেত্রমত, তাহাদের সহিত সাক্ষাত করিতে হইবে।

(৭) কোন পিতা বা মাতা কিংবা উভয়ে, সন্তানদের সহিত বসবাস না করিয়া পৃথকভাবে বসবাস করিলে, সেইক্ষেত্রে উক্ত পিতা বা মাতার প্রত্যেক সন্তান তাহার দৈনন্দিন আয়-রোজগার, বা ক্ষেত্রমত, মাসিক আয় বা বাৎসরিক আয় হইতে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ অর্থ পিতা বা মাতা, বা ক্ষেত্রমত, উভয়কে নিয়মিত প্রদান করিবে।

ধারা-৪

৪। প্রত্যেক সন্তান তাহার—

(ক) পিতার অবর্তমানে দাদা-দাদীকে; এবং

(খ) মাতার অবর্তমানে নানা-নানীকে—

ধারা ৩ এ বর্ণিত ভরণ-পোষণ প্রদানে বাধ্য থাকিবে এবং এই ভরণ পোষণ পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ হিসাবে গণ্য হইবে।

এভাবে সরকারী নিরাপত্তা বাহিনীর প্রত্যক্ষ সহায়তা যদি বাবা-মারা পান তাহলে আমার মনে হয় কোন সন্তান বাবা-মাকে ছুড়ে ফেলার সাহস পাবে না । ভালোবাসা মহব্বতের কারণে না হলেও অন্তত সরকারী আইনের ভয়েই বাবা-মার ভরণ- পোষণে অনীহা প্রকাশের সাহস দেখাবে না । এস আই আফরোজা ডলিকে হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাই যে তিনি এক ধরণের দৃষ্টান্তমূলক কাজ করেছেন যা সমাজের চোখ খুলে দিবে বলে বিশ্বাস ।

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন-২০১৩ এর সম্পূর্ণ আইনটি

 

আরও পড়ুন