ব্র্যাকের ক্ষুদ্রঋণ ও ইতালির সংবাদ মাধ্যমের দোষারোপ

মাঈনুল ইসলাম নাসিম,ইতালি

অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচারের নেপথ্যে বাংলাদেশ ভিত্তিক বিশ্বের সবচাইতে বড় এনজিও ব্র্যাকের নিয়ন্ত্রণহীন ক্ষুদ্রঋণকে সরাসরি দায়ী করে ইতালিয়ান প্রভাবশালী পত্রিকা ইল প্রিমাতো নাৎসিওনালে গত ফেব্রুয়ারিতে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করে। অতি সম্প্রতি লিবিয়াতে মিলিশিয়াদের গুলিতে ইতালি অভিমুখী ২৬ জন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার সংবাদ ইতালির শীর্ষ জাতীয় দৈনিক লা রিপুবলিকায় ফলাও করে প্রচারিত হওয়ার পর ব্র্যাকের ক্ষুদ্রঋণ আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারীদের পকেটে যাবার পুরনো সেই ফিরিস্তি নতুন করে আলোচিত হচ্ছে ইতালিতে।

বর্বরোচিত ঐ হত্যাকান্ডের পর গত ৭ দিনে দুই দফায় লিবিয়া থেকে আসা যে ২৩০ জন অভিবাসীকে সাগর থেকে উদ্ধার করে ইতালীয় দ্বীপ লাম্পেদুসায় নিয়ে আসে কোস্টগার্ড তাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি হওয়ায় আরও নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। উন্নয়নশীল দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে চলা দেশ বাংলাদেশে বিগত বছরগুলোতে কোন গৃহযুদ্ধ কিংবা দুর্ভিক্ষ না হওয়া সত্ত্বেও ২০১৩ থেকে ২০১৯ মাত্র ৬ বছরে কেন ৩৭ হাজার ৬৩৬ জন বাংলাদেশি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে বোট থেকে ইতালিতে নেমেছে তা বেশ গুরুত্ব সহকারে সামনে আনা হয়েছে।

ব্র্যাকের নিয়ন্ত্রণহীন ক্ষুদ্রঋণ এবং এর অপব্যবহার নিয়ে ইল প্রিমাতো নাৎসিওনালে পত্রিকার নিবন্ধে শুরুতেই প্রশ্ন রাখা হয়,”কেন বাংলাদেশ থেকে তারা সরাসরি বিমানে ইতালিতে না এসে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের মাধ্যমে লিবিয়াতে এসে মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে সাগর পাড়ি দিচ্ছে? উত্তর হচ্ছে ব্র্যাকের অর্থায়ন। ক্ষুদ্রঋণের অর্থে মোটিভেটেড হয়ে হাজার হাজার বাংলাদেশি নাগরিক প্রলুব্ধ হচ্ছে ভাগ্যান্বেষনে পশ্চিমা দেশগুলোতে অবৈধ পথে পাড়ি জমাতে”। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন লোন কীভাবে কাজ করে তা সবিস্তারে তুলে ধরা হয় তথ্যসমৃদ্ধ ঐ প্রতিবেদনে।

ইল প্রিমাতো নাৎসিওনালে আরও জানায়,”২০০৬ সাল থেকে আজ অবধি প্রায় ১০ লাখ লোকের মাঝে প্রায় ৩৬০ মিলিয়ন ডলার ক্ষুদ্রঋণ দিয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, যার একটি অংশ গিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী সিন্ডিকেটের হাতে। ব্র্যাকের এখানটায় কোন নিয়ন্ত্রণ না থাকায় যা হওয়ার তাই হয়েছে, বাংলাদেশিরা ক্ষুদ্রঋণের অর্থ দিয়ে বিভিন্ন দেশ ঘুরে আফ্রিকা হয়ে ইতালি ও ইউরোপের উদ্দেশ্যে সাগরে নামছে। মানবপাচারের প্রজেক্ট ব্যর্থ হলেও ব্র্যাকের লোন যেহেতু ফেরত দিতে হয় তাই গেইম শেষে ব্র্যাকের সাথে সমানতালে লাভবান হয় পাচারকারী চক্র”।

রিপোর্টারঃ ইতালি প্রবাসী ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক

তথ্য সূত্রঃ Il Primato Nazionale, Italy

লিংকঃ ইতালীয় সংবাদ মাধ্যমের বক্তব্য

 

আরও পড়ুন