মনটিনিগ্রো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে জোড়া পুরস্কার পেলেন অলভ্য ঘোষ

কলকাতা প্রতিনিধি

{Montenegrian Online Smartphone International Film Festival (MOSIFF)}   এ প্রথম হয়েছে কলকাতার অলভ্য ঘোষের “ভোট”  এবং “রাষ্ট্রপতির ঘোড়া” হয়েছে দ্বিতীয় । উল্লেখ্য এই অনলাইন চলচ্চিত্র উৎসবে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৪৯ টি ছবি প্রদর্শিত হয়ে ছিল। তার মধ্যে অ্যানিমেশন বিভাগের দুটি পুরষ্কারই পেয়েছেন ভারতীয় মেধাবী বাঙ্গালী অলভ্য ঘোষ ।

তিনি তার অভিব্যক্তি মহীয়সীর সাথে শেয়ার করতে গিয়ে বলেন-

“প্রথম কোন ফেস্টিভ্যালে {Montenegrian Online Smartphone International Film Festival (MOSIFF)}  অ্যানিমেশন বিভাগে প্রথম এবং দ্বিতীয় দুটি পুরষ্কারই আমার দখলে। একটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে একসাথে দুটি পুরস্কার ভালো তো লাগছে।তাও কোন দিনে না আমার বন্ধুর জন্মদিনে।বিগত ছয়টা মাস যখন নিজের স্নায়ুর সাথে নিজে যুদ্ধ করছিলাম।পাশে যে একমাত্র এই যুদ্ধটা দেখতে পাচ্ছিল; সাহস যোগাচ্ছিল; সে আমার বাংলাদেশী বাঙ্গাল বন্ধু । কিন্তু এই একমাত্র বাঙ্গাল যার কাছে আমি কাঙ্গাল হয়ে গিয়েছি।আপনাদের সকলের শুভকামনা আশীর্বাদ ভালবাসায় যে কোন জয় আসে।যারা আমাকে ভোট করেছিলেন কিংবা বিচারকরা সুদূর Montenegro তে যারা আমার ছবি টিকে নির্বাচন করেছেন তাদের সবাইকে আমার ধন্যবাদ ;নমস্কার ও  সালাম। আমার এই জোড়া পুরস্কারটি;Token of my love আমার বাঙাল বন্ধুকে উৎসর্গ করলাম।”

তিনি আরও বলেন-

“ইরানের একটি ফিল্ম পুস্তিকা আমার ফিল্মে আগমন এবং প্রথম ছবিটি নির্মাণ সম্পর্কে জানতে চেয়ে পাঠিয়েছে।পুস্তকে নথিভুক্ত রাখতে চায়।আমার লেখা তথ্য নথি আমার চাইতে সযত্নে রক্ষিত আছে আমার বাংলা দেশের বন্ধু নিবেদিতা হালদারের কাছে।”

তিনি  তার জীবনের অনুপ্রেরণার গল্প মহীয়সীর  সাথে শেয়ার করতে গিয়ে বলেন-

“আমরা খুব গরিব ছিলাম। আমার বাবার একটা সাইকেল কিনে দেবারও ক্ষমতা ছিল না। আমি পেয়ারা গাছের শক্ত ডাল দিয়ে সাইকেল বানানোর চেষ্টা করেছিলাম। অনেকেই হেসেছিল সেদিন; কিন্তু আজ বুঝি ওই স্পিরিটটাই আমি যতটুকু কাজ করতে পেরেছি বা পারছি তার পিছনে কাজ করছে। কোন কিছুর কাছে বশ্যতা স্বীকার না করে নিজের ভাব প্রকাশ। নিজের ইচ্ছাগুলোকে রূপ দেওয়া। আর সেই শক্তিই আমাকে প্ররোচিত করে চলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজের সুবিধাজনক যে কোন মাধ্যমে নিজের বক্তব্যটি অনবরত বলে চলতে; কারো চোখ রাঙ্গানি; কারো ভ্রু কুঞ্চন কোন কিছুকে পাত্তা না দিয়ে আপ্রাণ চেষ্টায় নিজের স্টেটমেন্টটিকে লোকের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া। সেটা ভাল খারাপ গ্রহণ বা বর্জন সবটাই নির্ভর করে মানুষের ওপর। আমি কখনো চাপিয়ে দিতে চাই না।”

আরও পড়ুন