মহীয়সীর কলাম

ইতিহাস কথা বলে

           -নুরে আলম মুকতা
আমার বান্ধবীর মন খারাপ। কেউ কাছে ঘেষতে পারছে না। বিষয়টি ও কাউকে বলছেও না। আশে পাশে যে বান্ধবীগুলো ছিলো তারা দাঁত কেলিয়ে হাসছে। আমরা তো বন্ধু । বেশি জোরাজুরি করতে পারি নি। পরে জেনেছিলাম ওদের ইতিহাস ক্লাসে স্যার প্রায়ই একজন করে মুগল সম্রাটদের নাম ধরেন বেছে বেছে ছাত্র-ছাত্রীদের। কেহই পারে না। ও সেদিন পারে নি। কিন্তু ওর লজ্জা পাবার বিষয়টি ভিন্ন ছিলো। পরে কোন এক অবসরে ও কাহিনী বলা যাবে। আজ ইতিহাস ই হোক। আমি ওকে বলেছিলাম। প্রতিশোধ নেব। চিন্তার কোন কারন নেই। কিন্তু  সমস্যাটি জটিল ছিলো। আমাদের পদার্থবিদ্যা ক্লাসের সময়ের সাথে ওদের ইতিহাস ছিলো। আমি তাও চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলাম। সারা রাত সম্রাট শাহজাহান আর নবাব সিরাজ উদ্দৌলা র নাম ও মসনদে আরোহনের উপাধি মুখস্ত করে সকালে কলেজে গিয়েছিলাম। পেছনের বেঞ্চে বসেছি।বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর এর সমাধির প্রতি লেখকের শ্রদ্ধা
            বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর এর সমাধির প্রতি লেখকের শ্রদ্ধা
স্যার তো আমাকে খুব ভালো করেই চেনেন। আমার বিশ্বাস ছিলো স্যার আমাকে কিছু বলবেন না। আমি মহাভাগ্যবান ছিলাম। স্যার সেদিন শাহজাহানের নাম বলতে বলেছিলেন যে কাউকে। আমি দুরু দুরু বুকে দাঁড়িয়ে বলেছিলাম, ” আবুল মুজাফফর শিহাব উদ্দিন মুহাম্মদ সাহিব ই কিরাম শানী শাহজাহান বাদশাহ গাজী। “সমস্ত ক্লাসে পিনপতন নীরবতা। স্যার আমাকে বললেন, তুমি তোমার ক্লাসে যাও। ক্লাস শেষে আমার সাথে দেখা কোরো। আমি বিলম্ব না করে ক্লাস থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলাম। সম্রাট শাহজাহান ভারত উপমহাদেশের এক অবিস্মরনীয় নাম। মুমতাজ মহল তাঁর প্রেয়সী। এ দম্পতির সন্তান সন্ততি হলে কেমন হবে? আমি অবাক বিস্ময়ে ইতিহাসের পাতা উল্টাই আর দীর্ঘশ্বাস দীর্ঘায়িত হয়। শাহ শুজা সম্রাট শাহজাহান আর সম্রাজ্ঞী মুমতাজ মহলের অন্যতম পুত্র। বাংলা বিহার উড়িষ্যার ভাইসরয় ছিলেন। ১৬৩৯-১৬৬০ খৃঃ পর্যন্ত বাংলা শাসন করেছিলেন।  বাংলাদেশে ঢাকা সহ বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর আমলে নির্মিত হয়েছে অসংখ্য স্থাপত্য। শাহ্‌ নেয়ামতউল্লাহ্ এর সমাধিস্থল
  মহান সাধক হযরত শাহ্‌ নেয়ামত উল্লাহ ওয়ালীর সমাধি
এগুলো নয়ন জুড়ানো কারুকাজ আর বিস্ময়কর স্থাপনা যা আজো কালের সাক্ষী হয়ে আমাদের নস্টালজিক করে দেয়। আমার জেলা চাঁপাই নবাবগঞ্জের বিখ্যাত বাঈজী চাঁপাই বিবির কাছে কি শাহ শুজা গৌড়ের রাজধানীতে মিলিত হয়েছিলেন? আমার কাছে এটি বিলিয়ন ডলার প্রশ্ন। চাঁপাই বিবির রূপ আর গুনের কথা ইতিহাসে লিপিবদ্ধ। কারা মিলিত হতেন , তাঁদের কথা কেন লিখা হোলো না? এর জবাবশাহ্‌ সুজার সমাধিস্থল

বাংলা,বিহার,উড়িষ্যার শাসক শাহ্‌ শুজার ঐতিহাসিক রেস্ট হাউজ

ঐতিহাসিকেরা খুঁজুন। আমরা ভিন্ন দিকে যাই। ছোট সোনামসজিদ নির্মিত হয়েছিলো সুলতানী আমলে। এটি নির্মান করেছিলেন সুলতান আলউদ্দিন শাহ ১৪৯৪-১৫১৯ সালের মধ্যে। সোনামসজিদকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে বীর শ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীরের সমাধি। এ যেন ইতিহাস ইতিহাসে মিতালি। আর শাহ শুজা তাঁর রেস্ট হাউজ বানিয়েছিলেন মহা সাধক হযরত শাহ নেয়ামত উল্লাহ (র) আস্তানা কে কেন্দ্র করে। কারন শাহ শুজা তাঁর ইসলাম ধর্মের পান্ডিত্যে মুগ্ধ হয়েছিলেন। এ ধর্ম গুরুর সমাধি তহাখানা নামে পরিচিত। বিশাল রেষ্ট হাউজটি দারুন স্থাপত্য শৈলীর নিদর্শন। আমি বার বার মুগ্ধ দৃষ্টি প্রসারিত করে চাই। এ গরম আর শীতল জলের ফোয়ারায় কোন রাজ কুমারী প্রাণ জুড়িয়েছিলেন আমার গৌড়ের রাজধানীতে? মাটির নীচে অসংখ্য সশ্বস্ত্র সৈন্য। হিজড়ার দল ঘিরে আছে রাজ কুমারীর স্নানাগার। নবাব শাহ শুজা স্বস্ত্রীক প্রাসাদের ছাদের ওপর বসে উপভোগ করছেন বিশাল দিঘীর স্বচ্ছ জলের সহস্রদল পদ্ম।

 

   নুরে আলম মুকতা,কবি,সাহিত্যিক ও সহ-সম্পাদক,মহীয়সী
আরও পড়ুন