“সমকালকে ধারণ করে নান্দনিকতা ও মূল্যবোধের সাহিত্য রচনা না হলে তা টিকবে না” পরিচয়ের সাহিত্য সংলাপে বক্তারা

সালেকুর রহমান সম্র্রাট, রাজশাহী থেকে

“সমকালকে ধারণ করে নান্দনিকতা ও মূল্যবোধের সাহিত্য রচনা না হলে তা টিকবে না” পরিচয়ের সাহিত্য সংলাপে বক্তারা । রাজশাহীতে পরিচয় সংস্কৃতি সংসদের আয়োজনে পরিচয় প্রাঙ্গণ মিলনায়তনে ‘সমকালীন বাংলাসাহিত্য চর্চা : নান্দনিকতা ও মূল্যবোধ’ শীর্ষক এক সাহিত্য সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি ১৭ অক্টোবর শনিবার বিকেল সাড়ে চারটায় শুরু হয়ে রাত নয়টা অবধি চলে। আশির দশকের অন্যতম কথাশিল্পী নাজিব ওয়াদুদ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সাহিত্য সংলাপে উঠে আসে সমকালীন সাহিত্যচর্চার নানা বিষয়। পরিচয় সংস্কৃতি সংসদের সভাপতি কবি ও গবেষক প্রফেসর ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। দীর্ঘ সাড়ে চারঘন্টার অন্তরঙ্গ সংলাপে বাংলা সাহিত্যের গতি-প্রকৃতি, ধারা এবং বর্তমান সময়ের সাহিত্যচর্চার নানা দিক উঠে আসে।

অনুষ্ঠানের মূখ্য আলোচক ছিলেন কবি ও গবেষক মহিবুর রহিম। আলোচনা রাখেন কথাশিল্পী দেওয়ান শামসুজ্জামান, কবি ও প্রাবন্ধিক খুরশিদ আলম বাবু, কবি সায়ীদ আবুবকর, ত্রিকাল সম্পাদক কথাশিল্পী শাদমান শাহিদ, অক্ষর সম্পাদক কবি মুকুল কেশরী, অনির্বাণ সম্পাদক কবি জামাল দ্বীন সুমন, নতুন এক মাত্রা সম্পাদক কবি ও গবেষক ড. ফজলুল হক তুহিন, ছায়া সম্পাদক কবি সোহেল মাহবুব, রৌদ্রলিপি সম্পাদক কথাশিল্পী মনির বেলাল, কবি আমিন মোহাম্মদ, কবি সাবের রাহী, প্রাবন্ধিক আবদুর রাজ্জাক রিপন, ছড়াকার খন্দকার নাসির উদ্দিন, নির্ঝর নির্বাহী সম্পাদক কবি জসিম উদ্দিন বিজয় প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কথাশিল্পী মাতিউর রাহমান। কবি এরফান আলী এনাফ, রম্যলেখক শেখ তৈমুর ইসলাম, কবি খোশবু জান্নাত, কবি সুলতান মাহমুদ রুপশ, কবি আখম মুস্তাফিজ, কবি হিমেল আহমেদসহ সংলাপে বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠনের প্রতিনিধিগণও অংশগ্রহণ করেন।

বক্তাগণ বলেন, নিঃসন্দেহে বাংলা সাহিত্যের চর্চা ও সমৃদ্ধি এখন সকল সময়ের চেয়ে শীর্ষধারায়। কিন্তু যে সাহিত্য নৈতিক উন্নয়ন ও সমাজ গঠনে সহায়ক সে ধরনের সাহিত্যের বিকাশ খুব বেশি ঘটছে না। বিশেষকরে শিশু ও তরুণ প্রজন্মকে নৈতিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে যে ধরনের সাহিত্য প্রয়োজন তা খুব বেশি লেখা হচ্ছে না। এছাড়া সাহিত্য চর্চার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিভাজন আমাদের সর্বনাশ ডেকে আনছে। মফস্বলের ছোট ছোট জায়গাতেও সাহিত্যিকদের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাহিত্যের স্বাভাবিক বিকাশে এটা প্রতিযোগিতার পরিবর্তে পিছনে টেনে নিচ্ছে। বক্তাগণ অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন, সমকালকে ধারণ করে নান্দনিকতা ও মূল্যবোধের সাহিত্য রচনা না করতে পারলে তা টিকবে না।

 

আরও পড়ুন