সিরিয়ান নূহ্ পিছু হয়ে দাঁড়িয়ে

আমি প্রতিদিনই সুযোগ পেলে দেশি বিদেশী কয়েকটি অনলাইন সংবাদপত্রে চোখ রাখি। আজ দেখছিলাম আমেরিকান দ্যা মেইল (The Mail), সিরিয়ান রিফুজি শব্দগুলো দেখে একটু পড়ে দেখলাম। ওহ্….এটাতো পুরাতন সংবাদপত্র- ৫ আগস্ট ২০১৬ সালের!

কিন্তু শিরোনাম টা আমাকে আকৃষ্ট করলো, খুব আগ্রহ নিয়ে পড়লাম…হৃদয়টা কেঁপে উঠলো!!

   “Syrian refugee refuses to buy gold necklace from struggling Texas mother who needed money for bills… And gives her cash from his own pockets instead”

(চরম আর্থিক সংকটে পড়ে সোনার নেকলেস বেচতে চাওয়া টেক্সাসের একজন মায়ের কাছ থেকে তা কিনতে অপারগতা জানালো সিরিয়ান শরণার্থী…. তার পরিবর্তে নিজে পকেট থেকে নগদ টাকা সাহায্য করলেন)

খবরের একপাশে ভিডিও লিংক চাপলাম। সিসি ক্যামেরার ভিডিও তে যা দেখলাম তার কথোপকথন পাঠকের জন্য বাংলায় তুলে ধরছি-

আমেরিকার টেক্সাসের একটি স্বর্ণালঙ্কারের দোকান কর্মচারি নূহ্, বয়স আনুমানিক ২৪/২৫।  দুই বছর আগে (২০১৪) সালে সিরিয়া থেকে শরণার্থী হয়ে আমেরিকায় এসেছে।

আমেরিকান মালিকের অনুপস্থিতিতে নূহ্ একাই দোকানে কাজ করছিল। এমন সময় এক মহিলা বয়স আনুমানিক ৩০ দোকানে প্রবেশ করলেন, সাথে দুটি ছেলে মেয়ে।

মহিলা খুবই পাতলা একটি গলার চেইন টেবিলে রেখে বললেন, আমি এটা বেচতে চাই।
নূহ্ সেটা হাতে নিয়ে পরীক্ষা করে দেখল।

নূহ্ঃ তুমি এটা কেন বেচতে চাও?

মহিলাঃ -আমি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছি! এটা বেচে অন্তত আগামী মাস পর্যন্ত চলতে চাই।

নূহ্ঃ তুমি নিঃস্ব হয়ে গেছ, এজন্য এটা বেচতে চাও, এটাই কি একমাত্র কারণ?

মহিলাঃ……আসলে এটা আমার মায়ের দেয়া উপহার! কি করবো আমার কিছু বিল বকেয়া আছে আমি সেগুলো শোধ করতে চাই।

নূহ্ঃ তোমার ঠিক কতো ডলার দরকার?

মহিলাঃ আমি ঠিক জানিনা, এটা থেকে যা আসবে তা কিছুটা হলেও সাহায্য করবে…

নূহ্ঃ (নিজ পকেট থেকে টাকা বের করে গুনে) এই নাও…এবং এই চেইন টা নাও! (মহিলার হাতে দিয় দিলেন)

(মহিলা অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দুহাতে কান্না চাপার চেষ্টা করছে, আর দুই ভাই বোন মিটিমিটি হাসছে!)

নূহ্ঃ… তুমি বলেছ এটা তোমার মায়ের দেয়া উপহার,…এটা তুমি নিয়ে যাও!

মহিলাঃ (আবেগে জড়িয়ে ধরে আলিঙ্গন করলেন)… অনেক ধন্যবাদ।

নূহ্ঃ আমার নাম্বার লিখে দিচ্ছি, কোন প্রয়োজন হলে যোগাযোগ করো। কান্নাকাটি করোনা!

নূহ্ ভিতর থেকে বের হয়ে ছেলেটিকে বলছে-তুমি তোমার মায়ের দিকে খেয়াল রেখ।

মহিলাঃ…. সে তা করে।

আবারো আলিঙ্গন শেষে চোখ মুছতে মুছতে মহিলা বের হয়ে যাচ্ছিলেন। পেছন থেকে নূহ্ তাকে বলছে-… তুমি এটা নিয়ে আর অন্য কোথাও বিক্রি করতে যেওনা, যদি এটা আবার বিক্রি করতে চাও তাহলে আমিই কিনবো!

ক্যামেরায় নূহ র চেহারা দেখা যায়নি। দোকান মালিক ভিডিওটি ফাঁস করে দিলে ব্যাপক সাড়া ফেলে। CBS চ্যানেল, The Time Magazine সহ অনেক সংবাদপত্র তাকে নিয়ে খবর ছাপে।
অনেক সংবাদমাধ্যম ক্যামেরায় তার সাক্ষাৎকার নিতে চেয়েছিল… কিন্তু রাজি করানো যায়নি।
মালিকের অনেক অনুরোধের পর নূহ্ সংবাদপত্রে সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হয়েছিল…তবে একশর্তে, তার কোন ছবি ছাপা যাবেনা!
কিন্তু অনেক পিড়াপিড়ি শেষে ছবি তুলতেও রাজি হয়েছিল….পিছু হয়ে দাঁড়িয়ে!

মাসুদ আলম
আল আইন সিটি, ইউএই

আরও পড়ুন