বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের উপর ডকুমেন্টারিঃ মেয়ের মুখে বাবার গল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের উপর ডকুমেন্টারি তৈরি করেছেন বিশিষ্ট টিভি উপস্থাপক, মডেল আমির পারভেজ । তিনি নূর মোহাম্মদ শেখের মেয়ের মুখে তার বাবার গল্প তুলে এনেছেন এই ডকুমেন্টারিতে । বীর শ্রেষ্ঠের চাচাতো ভাই এবং তার মেয়ের মুখে শুনতে পারবেন  বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের কাহিনী ।

বাবা তার মেয়েকে কথা দিয়ে ছিলেন ফিরবেন। কিন্তু তিনি ফিরলেন না। ফিরবেন কিভাবে ? আমাদের যে সুন্দর একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিতে হবে।

ঘটনাটি ১৯৭১ সালের আজকে দিনের। যশোর জেলার গোয়ালহাটি গ্রামে নূর মোহাম্মদকে অধিনায়ক করে পাঁচ জনের সমন্বয়ে গঠিত একটি স্ট্যান্ডিং পেট্রোল পাঠানো হয়। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে হঠাৎ পাকিস্তানী সেনাবাহিনী পেট্রোলটি তিন দিক থেকে ঘিরে ফেলে গুলিবর্ষণ শুরু করে। পেছনে মুক্তিযোদ্ধাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা থেকে পাল্টা গুলিবর্ষণ করা হয়। তবু পেট্রোলটি উদ্ধার করা সম্ভব হয় নি। এক সময়ে সিপাহী নান্নু মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে নূর মোহাম্মদ নান্নু মিয়াকে কাঁধে তুলে নেন এবং হাতের এল.এম.জি দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করলে শত্রুপক্ষ পশ্চাৎপসারণ করতে বাধ্য হয়। হঠাৎ করেই শত্রুর মর্টারের একটি গোলা এসে লাগে তাঁর ডান কাঁধে যাতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন।

শত্রুর গোলায় ধরাশয়ী হওয়া মাত্র আহত নান্নু মিয়াকে বাঁচানোর জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেন নূর মোহাম্মদ শেখ। হাতের এল.এম.জি সিপাহী মোস্তফাকে দিয়ে নান্নু মিয়াকে নিয়ে যেতে বললেন এবং মোস্তফার রাইফেল চেয়ে নিলেন যতক্ষণ না ওঁরা নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে সক্ষম হন ততক্ষণ ঐ রাইফেল চালিয়ে দিয়ে শত্রুসৈন্যের অগ্রসারতা ঠেকিয়ে রাখবেন এবং শত্রুর মনোযোগ তাঁর দিকেই কেন্দ্রীভূত করে রাখবেন এই মানসে। অন্য সঙ্গীরা অনুরোধ করলেন তাদের সাথে যাওয়ার জন্যে। কিন্তু তাঁকে বহন করে নিয়ে যেতে গেলে সবাই মারা পড়বে এই আশঙ্কায় তিনি রণক্ষেত্র ত্যাগ করতে রাজি হলেন না। বাকিদের অধিনায়কোচিত আদেশ দিলেন তাঁকে রেখে চলে যেতে।

শেষ পর্যন্ত তাঁর আদেশ অনুসরণ করে তাঁকে রেখেই নিরাপদে সরে যেতে পারলেন সহযোদ্ধারা। এদিকে সমানে গুলি ছুড়তে লাগলেন রক্তাক্ত নূর মোহাম্মদ। একদিকে পাকিস্তানী সশস্ত্র-বাহিনী, সঙ্গে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রশস্ত্র, অন্যদিকে মাত্র অর্ধমৃত সৈনিক (ই.পি.আর.) যার সম্বল একটি রাইফেল ও সীমিত গুলি। এই অসম অবিশ্বাস্য যুদ্ধে তিনি শত্রুপক্ষের এমন ক্ষতিসাধন করেন যে তারা এই মৃত্যুপথযাত্রী যোদ্ধাকে বেয়নেট দিয়ে বিকৃত করে চোখ দুটো উপড়ে ফেলে। পরে প্রতিরক্ষার সৈনিকরা এসে পাশের একটি ঝাড় থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে।

একাত্তরের বীরশ্রেষ্ঠরা বাংলাদেশের চিরকালের নায়ক। মুক্তিযুদ্ধের সেসব রুদ্ধশ্বাস সমরে তাঁদের বীরোচিত আত্মত্যাগ আমাদের চিরন্তন প্রেরণা যোগায়। স্যালুট হে বাংলার সূর্য সন্তান।

কাজী সোহানুর রহমান বলেন “বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ এর জীবনী এবং তার গ্রামের বাড়ি নিয়ে এ যাবৎ পর্যন্ত নির্মিত সবচেয়ে চমৎকার একটি ডকুমেন্টরী। কাজটি করতে নড়াইলে Amir Parvez ভাইয়া অক্লান্ত পরিশ্রম করেছিলেন। অবশেষে ভবিষৎ প্রজন্মের জন‌্য তিনি অসাধারন একটি উপহার দিলেন। সবাইকে ভিডিওটি শেয়ার করতে অনুরোধ করছি।”

কৃতজ্ঞতাঃ আমির পারভেজ

মেয়ের মুখে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের ৭১ এর অশ্রু ঝরা দিনের গল্পের ভিডিও

 

আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.