বৃদ্ধ মায়ের দায়িত্ব এড়াতে নেত্রকোনায় মাকে ট্রেনে ফেলে রেখে ছেলে চম্পট

নিজস্ব প্রতিবেদক, নেত্রকোনাঃ

হেরিলে মায়ের মুখ

দূরে যায় সব দুখ,

মায়ের কোলেতে শুয়ে জুড়ায় পরান,

মায়ের শীতল কোলে

সকল যাতনা ভোলে

কত না সোহাগে মাতা বুকটি ভরান।

কবি নজরুলের এই পংক্তি বোধহয় সকল সন্তানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। চাওয়া পাওয়ার এই পৃথিবীতে প্রায় সকল মায়ের চরিত্র পুরো ব্যতিক্রম হলেও সন্তানদের চরিত্র বুঝে ওঠা শক্ত। মায়ের কোলে মাথা রেখে যেমন নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ে শত সন্তান তেমনি মা’কে ছুড়ে ফেলেও নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে যায় কিছু পাষন্ড । শামসুন্নাহার বেগমের (ছদ্মনাম) দূর্ভাগ্য তার সন্তানেরা দ্বিতীয় পর্যায়ভুক্ত। তাইতো তাকে পড়ে থাকতে হয় রাস্তার পাশের নর্দমায়। সম্প্রতি এমনি এক রোমহর্ষক ঘটনার অবতারণা হয় পূর্বধলা, নেত্রকোণায়। আনুমানিক ৭০ বছর বয়ষ্ক জীর্ণশীর্ণ অসুস্থ ব্যক্তি রাস্তার পাশে পড়ে আছে খবর পেয়ে অভিযানে নামেন ঐ উপজেলার উপজেলা সমাজসেবা অফিসার জনাব, সাইফুল আলম। তিনি অসুস্থ প্রায় জ্ঞানহীন ব্যক্তিটিকে পরম মমতায় হাসপাতালে নিয়ে যান। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সাথে কথা বলে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। হাসপাতাল সমাজসেবার আওতায় পরিচালিত চিকিৎসায় মহিলার কিছুটা উন্নতি হলে তিনি ভাংগা ভাংগা কথা বলতে শুরু করেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে কলসুমও তার চিকিৎসার খোজ নিতে আসেন। আধো গলায় তার সন্তানরা তাকে ট্রেনে ফেলে যাওয়ার কথা বলতে পারলেও, নিজের নাম ঠিকানা বলতে পারেননি তিনি। এমতাবস্থায় তার উন্নত চিকিৎসা ও নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে সমাজসেবা অধিদফতর পরিচালিত, “ভবঘুরে আশ্রয় কেন্দ্র ” পুবাইল, গাজিপুরে প্রেরণ করা হয়। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়িতে করে ৩ জন পুলিশ সদস্য সহ শুরু হলো শামসুন্নাহার বেগমের নতুন জীবনের যাত্রা ।

কৃতজ্ঞতাঃ সাইফুল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, পূর্বধলা, নেত্রকোনা

ছবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে কুলসুম ,উপজেলা সমাজসেবা অফিসার সাইফুল ইসলামসহ উদ্ধার কর্মীরা
আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.