আমার প্রথম বই ও গতিধারার প্রকাশক বাশার ভাই

এস এম মুকুল
সময়টা ২০০৩ সাল হবে। আমি তখন শিক্ষাবিচিত্রা পত্রিকায় সহকারি সম্পাদক। গতিধারা’র প্রকাশক সিকদার আবুল বাশার ভাইয়ের সাথে একদিন টেলিফোনে কথা হলো। বইমেলার কয়েকদিন আগে ফ্লপি ড্রাইভে করে একটি বইয়ের পান্ডুলিপি নিয়ে গেলাম বাশার ভাইয়ের অফিসে। দেখা হলো না। ফ্লপি’টা অফিসে রেখে চলে এলাম। তারপর আর খোঁজখবর নিইনি। সে বছর বইমেলা শেষ হওয়ার তিন/চারদিন পর আমার অফিসে ফোন করলেন বাশার ভাই। ও প্রান্ত থেকে বলছেন-

-‌‌’জনাব মুকুল সাহেব, আপনি জানেন আপনার বইটি মেলায় এসেছে’?
-না ভাই, জানি না।
-এটা অবশ্য আমারই ভুল, আমি আপনাকে খবরটা আগে জানাতে পারিনি।

-আগে জানলে ভালো হতো। তবুও ধন্যবাদ..
-ঠিক আছে ভাই সাহেব, আপনি একদিন অনুগ্রহ করে আমার অফিসে এসে লেখক কপি নিয়ে যাবেন।
-জ্বি ভাই, আসব।
এরপর গেলাম তার অফিসে। সেবারও দেখা হলো না। তার অফিস সহকারির মাধ্যমে টেলিফোনে কথা হলো। তিনি সহকারিকে কিছু বলে দিলেন। কিছুক্ষণ পর নাস্তা, চা এবং আমার বই হাতে তুলে দিলেন তার অফিস সহকারি। তারও কয়েক দিন পর আবার ফোনে তিনি দুঃখ প্রকাশ করলেন সেদিন দেখা না হওয়ার জন্যে। আমি অভিভুত হলাম।
আজ বাশার ভাইয়ের মৃতু্যর খবর শুনে সেই দিনের কথাগুলোই বার বার মনে পড়ছে। আল্লাহ তাকে জান্নাত নসীব করুন। আমীন।

আমার প্রথম যে বইটি প্রকাশ করেছিলেন গতিধারার প্রকাশক বাশার ভাই সে বইটির নাম “বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও স্কলারশিপ” ।বাশার ভাই মুক্থিযুদ্ধ নিয়ে বড় একটি কাজ করেছেন। তার প্রকাশনা থেকে ৬৪ জেলার আঞ্চলিক ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থ প্রকাশ করে মুক্থিযুদ্ধের আঞ্চলিক ইতিহাসকে প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এই প্রকাশনাগুলো ভুমিকা রাখবে। একাজটা সম্ভব হয়েছে বাশার ভাইয়ের দেশপ্রেম, সমাজ-সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসা থেকেই। ‘আমরা বই ছাপি না বিষয় ছাপি’- তার প্রকাশনার শ্লোগানটিতেই বোঝা যায় তিনি প্রকাশনার কাজটিকে শিল্প হিসেবে নিয়েছিলেন।

লেখকঃ সাহিত্যিক ও কলামিস্ট

 

আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.