শিল্প-সাহিত্য টাকা দিয়ে হয় না-অলভ্য ঘোষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কলকাতার সাহিত্যিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা অলভ্য ঘোষ সম্প্রীতি তার শর্টফিল্ম নির্মাণের পর তা উত্তরখণ্ডে প্রশংসিত হবার পর এই মন্তব্য করেন-

“শিল্প সাহিত্য যে টাকা দিয়ে হয় না; মেধা দিয়ে হয়; উত্তরাখণ্ডে পনের লক্ষ টাকার মুম্বাইয়ের চটকদার শর্ট ফিল্মের পাশাপাশি আমার নোবাজেট ছবি যখন দেখানো হয়;তার প্রমাণ পেলাম।”

তিনি আরও বলেন-
“আমার চার মিনিটের উৎসবের সবচেয়ে ছোট ছবিটি নিয়ে হুল্লোড় পড়ে যায় প্রেক্ষাগৃহে।আমার সিনেমা নির্মাণ ও বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনবার সুযোগ দেওয়া হয় কথা বলার।
আমি যখন বলি ওয়েস্ট বেঙ্গল কি বারে মে আপ লোগো কা পাস কোই জানকারি হ্যাঁয়।

দর্শক আসন থেকে একজন মহিলা বলেন;-থোড়া থোড়া জানকারি রাখতে হ্যাঁয়।

আমি যখন বলি ওয়েস্ট বেঙ্গল কি চিফ মিনিস্টার মমতা ব্যানার্জী কি এক বান্দানে কাটুন বানায়া উসকো জেল কা আন্ধার ঘুসা-দিয়া গেয়া।অর ম্যায় পাঁচ মিনিট কা ফিল্ম উসকে বাদ ভি বানানে কা হিম্মত দেখায়া।

বেশ ওমনি আবার করতালিতে মানুষের উষ্ণ অভিনন্দন।

যে কোন দিন ফিল্ম স্কুলে যায় নি কেবল তা নয় প্রথাগত পড়াশোনা থেকে দূরে;অবাক হলাম চলচ্চিত্র নিয়ে পড়ুয়ারা সেই মূর্খ লোকটার সাথে এগিয়ে এলো জনে-জনে পরিচয় করতে; আলাপচারিতায় সময় কাটল বেশ।হিন্দিতে সিনেমা বানানোর প্রপোজাল দিল দুইজন।আমি পরিষ্কার জানিয়ে দিলাম তাদের হিন্দি ভাষাটা হাতের তালুর মত আমার জানা নেই।কেউ যদি আমার বাংলা সংলাপের যথার্থ অনুবাদ করে দেন তবে নিশ্চয়ই চেষ্টা করবো।আমার রুমমেট ডাঃ ওমেন্দ্রা কুমার সারাক্ষণ আমার কানের সামনে দুটো কথা বলে চলল।একটা অ্যান্ড্রয়েড ফোন কেনা আর বিয়ে করা আমার খুব জরুরী।আর এ বছরেই তা সম্পন্ন করতে হবে বয়সে বড় হওয়ায় এই তার উপদেশ।অ্যান্ড্রয়েড ফোন আর বৌ দুনিয়ার অনেক লোক অর্জন করেছেন।সংখ্যায় তারা বেশি।আমি মাইনরিটির দিকে।যারা একটা পাল্টা সভ্যতা সংস্কৃতি বদলের কথা ভাবে তারা মাইনরিটি হয় সংখ্যায় মশা মাছির মত হয় না।ভাবলাম এ কথাটা।বুঝতে পারলাম না কানপুরের এই থিয়েটার ব্যক্তিত্ব কে।সে গো ধরে রইল না ঘোষ বাবু এসব দরকার আছে।আমি বুঝলাম আমি যেদিন এদের দরকার গুলো বুঝতে পারবো সে দিন আমি আর যাই থাকি একটা স্বতন্ত্র মানুষ থাকবো না।এই সিস্টেম আমাকে কিছুতেই মৌলিক থাকতে দেবে না এটাই তার রীতিনীতি।

এরই মধ্যে একজন প্রশ্ন করলো বিয়ে করেননি কেন?উত্তরে বললাম একটি সফল সিনেমা বানাতে পারলে আপনার মত এই প্রশ্ন অনেকেই করবে।আর তখন অপরচুনিটি বাড়বে তাই না!পাঞ্জাবী মেয়ে টি আর কোন প্রশ্ন করল না।দেখলাম ফর্সা মুখটা লাল হয়ে গেল।”

তিনি বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশের পত্রিকা ও ব্লগে নিয়মিত লিখে যাচ্ছেন । তার লেখায় রয়েছে সামাজিক অসঙ্গতি তুলে ধরে তা সমাধানের রূপরেখা ।

 

 

আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.