ভারতীয় কবি রুদ্রশংকরের কবিতা “বাঙ্গালির বঙ্গবন্ধু” শীঘ্রই আসছে গান হয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইউএসএ প্রবাসী ভারতীয় বাঙালি কবি  রুদ্রশংকের কবিতা “বাঙ্গালির বঙ্গবন্ধু”  সূরকার পরাগ বরনের সূরে এবং জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী লোপামুদ্রা মিত্র ও মৌসুমি হোসেনের কণ্ঠে আসছে ভিন্নধারার গান হয়ে । কবি রুদ্র শংকর বলেন-

“আমার লেখা ‘বাঙালির বঙ্গবন্ধু’ কবিতাটি নিয়ে সম্প্রতি কবিতার গান করার কাজ শুরু করেছেন পরাগদা, লোপাদি ও মৌসুমী। কবিতাটি দুই বাংলার অনেকে আবৃত্তি করেছেন এবং তা অনেকের ভাল লেগেছে। আশা করি কবিতার গানটিও ভাল লাগবে।”

লোপা মুদ্রা মিত্রের নতুন গানের অ্যালবাম ‘কত যুগ ধরে’ আসছে খুব শীঘ্রই । লোপা মুদ্রার গানের   এই অ্যালবামটি একটু ভিন্নধর্মী।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বানানো হয়েছে এই গানের অ্যালবামটি। রূদ্রশঙ্করের লেখা একটি কবিতা “বাঙ্গালির বঙ্গবন্ধু”  সুরারোপ করেন পরাগ বরন।সেটিকেই অ্যালবাম হিসেবে সামনে নিয়ে আসা হতে চলেছে।ভিডিও পরিচালনায় দেবজ্যোতি মুখোপাধ্যায়।

এখানে সকলকে নিয়ে একটু বলা দরকার।কবি রূদ্রশঙ্কর একজন আধুনিক কবি।তাঁর লেখা কবিতা শুধুমাত্র ভারত ও বাংলাদেশ নয়, বিশ্ববন্দিত।তার কবিতায় প্রত্যহদিনের আত্মচেতনার ছবি ধরা পরে।তার কবিতা দুই দেশের মঞ্চে বিভিন্ন সময়ে আবৃত্তি করা হয়।জনপ্রিয় পত্রিকা ‘প্রথম আলো’র কবিতার বিভাগটি সম্পাদনা করেন তিনি।২০১৬ সালে ভাষানগর ও ২০১৯ সালে টার্মিনাস বই পার্বন অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হন তিনি। এছাড়া তিনি ইউ এস এ এর  এমরি ইউনিভার্সিটি অব স্কুল অব মেডিসিন এর সহকারী অধ্যাপক ।

এবার আসি সুরকার পরাগ বরনের কথায়।এনআরএস মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করার পর কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে এমডি পাশ করা পরাগ বরন পেশায় ডাক্তার ও অধ্যাপক, কিন্তু সুরের প্রতি টান তাঁকে সুরকার বানিয়েছে।দেবব্রত বিশ্বাসের অভিভাবকত্বে তাঁর রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রতি টান ও সুরের জগতে প্রবেশ।এরপর বিভিন্ন জনার যেমন প্রাচ্য ও প্রাদেশিক ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিক, লোকগীতি, সিনেমার গান, গজল, আধুনিক গান ইত্যাদি সবেতেই তাঁর জাদু দেখিয়েছেন।আশা অডিও ও রাগা মিউজিক তার বেশ কিছু অ্যালবাম প্রকাশিত করেছে।

প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী সাধনা সরগম, অন্বেষা দত্তগুপ্ত, জয়তী চক্রবর্তী, লোপামুদ্রা মিত্র, পরমা ব্যানার্জ্জী, প্রস্মিতা পাল, মধুবন্তী বাগচি, দিশা রায়, মৌমিতা রায়, রূপঙ্কর বাগচি, নচিকেতা চক্রবর্তী, মনোময় ভট্টাচার্য্য, প্রতীক চৌধুরী, উপল সেনগুপ্ত, দুর্নিবার সাহা, কিঞ্জল চ্যাটার্জ্জীর মতো গায়করা তাঁর সুরে গান গেয়েছেন বহুবার।তাঁর সুরারোপিত গান পর পর ৩বছর মিরচি মিউজিক অ্যাওয়ার্ডে নমিনেশন পেয়েছে।’কিন্তু গল্প নয়’ ছবির সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন পরাগ বরন।

দেবজ্যোতি মুখোপাধ্যায় সত্যজিত রায় ফিল্ম ইন্সটিটিউট পরিচালিত একটি ডিপ্লোমা ফিল্মে সহকারি পরিচালক হিসাবে কাজ শুরু করেন।তিনি ৫ম প্রবেশিকা পাশ করেন রয়্যাল স্কুল অব্ মিউজিক অব্ ওয়েস্টার্ন ক্ল্যাসিক্যাল গিটার থেকে।প্রখ্যাত অ্যাড নির্মাতা অনিরুদ্ধ রায় চৌধুরী ও আরও অনেকের সাথে প্রচুর কাজ করেছেন।৩০০টিরও বেশি মিউজিক ভিডিও বানিয়েছেন নিজে।মিউজিক ভিডিও পরিচালক হিসাবে কাজ করেছেন সারেগামা এইচএমভি এর সাথে।সাগরিকা মিউজিক, হিন্দুস্থান রেকর্ডসের ইনরেকোর সাথে কাজ করেছেন।অনুপ জালোটা, রাঘব চ্যাটার্জ্জী, সাধনা সরগম ও মহালক্ষী আইয়ারের সঙ্গেও কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

তিনি ১০টি টিভিসি বানিয়েছেন বাংলা, হিন্দি ও তেলেগু ভাষায়।তাঁর করা বিভিন্ন ডকুমেন্টারির মধ্যে উল্খেযোগ্য হল ডিজিটাল ইন্ডিয়া।তিনি ইমামি হেলদি এন্ড টেস্টি রাইস ব্র্যান অয়েল, পি পি রাইস মিল, এক্লিপ্স টেকনো কনসালটিং গ্লোবাল প্রাইভেট লিমিটেড ইন্ডিয়া, শ্রীনিকেতন, মন্ত্রমুগ্ধ, এপসন, সারেগামা এইচএমভি, সাগরিকা মিউজিক, কসমিক হারমনি, হিন্দুস্থান রেকর্ডস ও ইনরেকোর সাথে প্রচুর কাজ করেছেন।তাই এহেন গুণি মানুষের সমাহারে কত যুগ ধরে যে জনপ্রিয় হয়ে উঠবে তা বলাই বাহুল্য।

তথ্যসূত্রঃ সমাপ্তি রায়, ডিডি হিন্দুস্তান

সাদেকুল করিমের আবৃত্তিতে রুদ্রশংকরের বাঙালির বঙ্গবন্ধু কবিতাটি

আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.