হাওর বিষয়ে বর্ষসেরা লেখক সন্মাননা পেলে কৃষি ও অর্থনীতি বিশ্লেষক এস এম মুকুল

স্থানীয় প্রতিবেদক, মহীয়সী

বর্ষায় দিগন্ত বিস্তৃত অথৈ জলরাশি শুকনায় ফসল আর চট্টনের সবুজ চারণভুমি। প্রকৃতির অসামান্য এই চারণভুমির নাম হাওর। হাওরের আর্থ-সামাজিক সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে লেখালেখির স্বীকৃতি সরূপ বর্ষসেরা লেখক সন্মাননা পেলেন বাংলাদেশের খবরের জ্যৌষ্ঠ সহ-সম্পাদক এস এম মুকুল। গতকাল রাজধানির জাতীয় প্রেসক্লাবে তাকে এই সন্মাননা জানায় হাওর অ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্ক। হাওরাঞ্চলকে দেশবাসীর কাছে ব্যাপকভাবে পরিচিত করা, হাওরপাড়ের মানুষের সমস্যা, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ এবং হাওরের উন্নয়ন সম্ভাবনাকে তুলে ধরার লক্ষ্যে হাওর অ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্ক একটি সামাজিক সংগঠন হিসেবে কাজ করছে। সংস্থাটির আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা হাওরের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর লক্ষ্যে হাওরবাসীদের একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসতে চাই। তিনি বলেন, হাওরের উন্নয়নে এখন সরকারের সুনজর রয়েছে। তবে আমরা মনেকরি কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়নই যথেষ্ট নয়, হাওরের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় উদ্যোগ নিতে হবে। আর এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে একটি প্ল্যাটফর্ম দরকার হাওর অ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্ক সেই কাজটিই করবে।

অনুষ্ঠানে প্রকাশনা উৎসব কমিটির আহবায়ক মোঃ আজিজুল হক বাংলাদেশের খবরকে জানান, হাওর অ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্ক’-এর মুখপত্র বার্ষিক ম্যাগাজিন “হাওরের হালচাল”-এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। “হাওরের হালচাল” ম্যাগাজিনের প্রথম সংখ্যা প্রকাশনাকে স্মরণীয় করে রাখতেই হাওরের হালচাল ২০২০-এর প্রকাশনা উৎসব ও হাওর পদক প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এটাই আমাদের প্রথম পদক্ষেপ। উক্ত অনুষ্ঠানে হাওরের শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসাবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদকে ‘হাওর রত্ন-২০২০’ পদক, হাওর সমাজসেবায় কিংবদন্তি সমাজসেবক ও ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম স্যার ফজলে হাসান আবেদকে ‘হাওরবন্ধু-২০২০’ পদক, হাওর সাংবাদিকতায় অসামান্য অবদান রাখায় প্রবীণ সাংবাদিক, কলাম লেখক ও বিশ্লেষক জনাব হাসান শাহরিয়ারকে ‘হাওরবন্ধু-২০২০’ পদক, হাওরে নারী ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদান রাখায় মিঠামইন উপজেলা পরিষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান আলহাজ¦ আছিয়া আলমকে ‘হাওরকন্যা-২০২০’ পদক এবং কৃষি-অর্থনীতি বিশ্লেষক ও কলাম লেখক এবং বাংলাদেশের খবরের সাংবাদিক জনাব এস এম মকুলকে ‘হাওরের হালচাল’ ম্যাগাজিনের ‘বর্ষসেরা লেখক-২০২০’ পদক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সন্মননা পদক হিসেবে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। সংস্থাটির আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রথম এধরণে উদ্যোগ হিসেবে অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আগামি বছর থেকে এই সন্মাননার আয়োজনকে আমরা আরো সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করবো।

উল্লেখ্য লেখক এস এম মুকুল বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় উপসম্পাদকীয়তে লিখেন। তিনি ২০০৬ সাল থেকে হাওরের উন্নয়ন সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো লক্ষ্যে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে লিখে আসছেন। পদক প্রদান অনুষ্ঠানে লেখকের অনুভুতি প্রকাশ করে এস এম মুকুল হাওরের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সরকারের প্রতি তিনি সুপারিশ উপস্থাপন করে বলেন, হাওরের ফসল রক্ষায় স্থায়ী ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে, একফসলি নির্ভরতা থেকে হাওরের কৃষকদের ফিরিয়ে আনতে হবে, অকাল বন্যার কবল থেকে হাওরের কৃষকদের বাঁচাতে আরো কম সময়ে উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন করতে হবে, হাওর এলাকার উপযোগি কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন করতে হবে, বর্ষাকালীন ৬ মাস হাওরবাসীর জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে, হাওর এলাকায় কর্মমুখি শিক্ষা ব্যবস্থার বাস্তবায়ন করতে হবে, হাওর এলাকার স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা প্রসারে শিক্ষক ও চিকিৎসকদের আবাসিক ব্যবস্থা এবং বিশেষ ভাতা বরাদ্ধ করা সহ হাওরের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, হাওর একটি প্রাকৃতিক জোন। হাওরের প্রকৃতিগত নিজস্বতা রয়েছে। হাওরের উন্নয়ন প্রয়োজন, তবে সে উন্নয়ন যেন হাওরের  স্বকীয়তাকে বিনষ্ট না কওে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সর্বোপরি হাওরের ধান, মাছ, পাখি, হিজল-করচের প্রাকৃতিক বেষ্টনি সৃষ্টি

করার পাশাপাশি হাওরের মাটি ও পানি নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন। আরো প্রয়োজন হাওর বিষয়ে দেশবাসীর মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করা।

হাওরে পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর বিষয়ে তিনি অবিরাম লিখে যাচ্ছেন। এসব লেখালেখি তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরগুলোতে ইমেলে পাঠিয়ে হাওরের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা করছেন। এক যুগের বেশি সময়ে লেখকের এসব লেখালেখির সুফল পাচ্ছেন হাওরবাসী বলে তিনি মনে করেন। এস এম মুকুল বলে হাওর এখন সরকারের নজরে এসেছে। হাওর পর্যটন ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে হাওরের উন্নয়নে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের এই উন্নয়ন পরিকল্পনাকে হাওরের স্বকীয়তা বজায় রেখে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে হাওরবাসীকে এগিয়ে আসার আহবানে হাওর অ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্কেও এই উদ্যোগ নতুন দিগন্তের সূচনা করলো। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, হাওর ও জলাভুমি অধিদপ্তর নামে সরকারের একটি সংস্থা রয়েছে। দুঃখ জনক হলেও সত্যি হাওরের উন্নয়নে এই সংস্থাটির কাজ সম্পর্কে হাওরের জনগণ অবহিত নন। একই সাথে- বিশাল হাওরের বিরাট সম্ভাবনা সম্পর্কে হাওরবাসীরাও অতটা অবহিত নন। এজন্য হাওর অ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্কের মতো ফোরামের প্রয়োজনীয়তা অনিবার্য। এই উদ্যোগের প্রতি সার্বিক শুভকামনা রইলো। উল্লেখ্য লেখক এস এম মুকুল এর আগে বাংলাদেশে পোল্ট্রি শিল্পের সমস্যা-সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তর লেখালেখির মাধ্যমে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে পোল্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০১৭ অর্জন করেন।

উক্ত অনুষ্ঠানে  প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের সুযোগ্য পুত্র কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক উক্ত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আব্দুল মজিদ খান, সুনামগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. জয়া সেন গুপ্তা; মিঠামইন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আছিয়া আলম; ইটনা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী কামরুল হাসান; অষ্টগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম জেমস; মুক্তিযুদ্ধের ফেরিওয়ালা খ্যাত ড. নুজহাত চৌধুরী, ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেজ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদ, ঢাকা দক্ষিণ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মন্নাফী এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, বিপিএম (বার), পিপিএম (বার)। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মোঃ আবদুল হক।

আরও পড়ুন