বিশ্বে উদ্ভাবনের শীর্ষ পর্যায়ে বাংলাদেশী নারী বিজ্ঞানী

অরবন্দিু চক্রর্বতী

বাংলাদেশের জয়যাত্রাকে অনেকেই আকস্মিক জয়  বলে উড়িয়ে দিলেও বাংলাদেশ  কিন্তু সত্যিই এগিয়ে চলছে ।শিক্ষা, চিকিৎসা, গবেষণা, খেলাধুলা সব দিক থেকে আগের চেয়ে  উন্নয়ন যে ঘটেনি তা কেউ বলতে পারবেনা । সেই সাথে বেশ দর্পের সাথে গুটিগুটি পায়ে বিশ্বের সামনে মাথা উচু করে এগিয়ে চলছে  বাংলাদেশি বিজ্ঞানীরাও । বাংলাদেশি পুরুষ বিজ্ঞানীদের পাশাপাশিএবারে সাফল্য নিয়ে এসেছেন একজন তরুণ  বাংলাদেশি নারী বিজ্ঞানী আয়েশা আরেফিন টুম্পা। ন্যানো-প্রযুক্তির মাধ্যমে তিনি তৈরি করেছেন কৃত্রিম মানব ফুসফুস ।কয়েক বছর আগে বাংলাদেশী পত্রিকায় এই সংবাদ বেশ সাড়া ফেলেছিল ।

বাংলাদেশি, বাঙালী এবং  বাংলাদেশপ্রেমীদের জন্য এই বিষয়টি  অনেক আনন্দের ব্যাপার। কারণবাংলাদেশ দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই দেশগুলোর একটি, যেখানে নারী বিজ্ঞানীদের সংখ্যা খুবই কম। অনেক  মেয়েরই  স্বপ্ন থাকে বিজ্ঞানী  হওয়ার।কিন্তু সেই স্বপ্ন অঙ্কুরিত হবার আগেই ঝরে যায় । বাংলাদেশি মেয়েদের উন্নয়নের পথে যেন বাঁধার শেষ নেই।পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও অর্থনৈতিক নানা ধরণের অবস্থার পাশাপাশি প্রচলিত অনেক কুসংস্কার মেয়েদের এই  স্বপ্নের পথেদুর্গম বাধা হয়ে দাঁড়ায়।কিন্তু  হাজার বাধা-বিপত্তি  স্বত্বেও অনেক মেয়ে কিন্তু বেশ সাফল্যের সাথেই এগিয়ে যাচ্ছেন তাদের লক্ষ্যে।

২০১১ সালে আমেরিকার আলামস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির গবেষক ক্রিস ডেটার বাংলাদেশে বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংক্রান্ত এক কাজেআসেন। সেই সময় তার সাথে  দেখা হয় এরকমই এক সম্ভাবনাময়  জীনবিজ্ঞানী আয়েশা আরেফিনের সঙ্গে।ডেটার ও তার সহকর্মীল্যান্স গ্রিনের সহযোগীতার ফলেই আয়েশা লস আলামস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে উচ্চতর পড়াশোনা ও গবেষণার সুযোগ পেয়ে যান। যুক্তরাষ্ট্রের জীবনের প্রথম দিনগুলোতে আয়েশা ডেটারের বাড়িতেই থাকতেন বর্তমানে তিনি ইউনিভার্সিটি অব নিউ মেক্সিকোতেন্যানো-সায়েন্সের ওপর ডক্টরেট করছেন।এ ছাড়াও একই সঙ্গে গবেষণা করছেন লস আলামস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে।

আয়েশা আরেফিনের ক্যারিয়ার শুরু লস আলামস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির বায়ো-সিকিউরিটি বিভাগে।এরপরই ওই ল্যাবের ভারতীয়গবেষক প্রখ্যাত টক্সিকোলজিস্ট রাশি আইয়ার আয়েশাকে অপ্টোজেনিকস সংক্রান্ত গবেষণার কাজে  নিয়োগ দেন। অপ্টোজেনিকসহচ্ছে জীনবিদ্যা ও প্রোটিন প্রকৌশলের (ইঞ্জিনিয়ারিং) মাধ্যমে জীবন্ত টিস্যুর মাঝে ঘটতে থাকা বিভিন্ন স্নায়বিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করা। এপ্রযুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও কৃত্রিম টিস্যু বা কলা তৈরি করা সম্ভব।
আয়েশা ও রাশি আয়ারের দলের অন্য সদস্যরা বিভিন্ন জীবাণু দ্বারা সৃষ্ট বিষক্রিয়া, রোগ ও কৃত্রিম অঙ্গ সংস্থাপনের জন্য সম্পূর্ণ নতুনপ্রযুক্তির উদ্ভাবন করেছেন। তারা একটি কৃত্রিম মানব ফুসফুস তৈরি করেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল- ক্রোনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি  ডিজেজ (Chronic Obstructive Pulmonary Disease) এর সময় ফুসফুসের  কোষগুলো কীভাবে কাজ করে তা জানা ও এরপ্রতিষেধক উদ্ভাবন করা। এটি হচ্ছে তৃতীয় সর্বোচ্চ ভয়াবহ রোগ যাতে আমেরিকার অনেক মানুষ মৃত্যুবরণ করে। আয়েশা একই সঙ্গেবিভিন্ন স্নায়বিক ব্যাধি ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ নিয়েও গবেষণা করছেন।
বাংলাদেশি বিজ্ঞানী আয়েশা আরেফিন টুম্পা ভবিষ্যতে দেশে ফিরে মানুষের জন্য কাজ করবেন এমন আশাই তিনি করেন। দেশেথাকাকালীন তিনি নির্যাতিত নারীদের পুনর্বাসনের জন্য কাজ করেছেন। এ ছাড়া তিনি এইচআইভি/এইডস নিয়ে পারিবারিকসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য  স্বেচ্ছাসেবক হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি পরবর্তীতে দেশে এসে নিজের বাড়িতে এমন একটি স্কুল খোলারপ্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেন, যেখানে  যে  কোনো শিশু বিজ্ঞান ও গণিত পড়ার সুযোগ পাবে।
আয়েশা আন্তরিকভাবেই বিশ্বাস করেন ভাগ্য ও আশপাশের কিছু মানুষের সহযোগিতা ছাড়া তার এই সাফল্য আসতো না। তিনিবলেন, “আমি আমার গবেষণাগারের মানুষগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি আনন্দিত যে ব্যতিক্রম কিছু করার সুযোগ পেয়েছি।” তিনিআরো বলেন, লস আলামসে কর্মরত অন্য অনেক দেশের গবেষক বিশেষ করে মন্টেনিগ্রোর গবেষক মোমো ভুইচি (Momo Vuyiscih) তার জীবনের লক্ষ  নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
আজ নারী তথা বাংলাদেশি নারীর দিন এসেছে বিশ্বের সামনে মাথা উচু করে দাড়াবার । বাংলাদেশি পুরুষ কেন বাংলাদেশি নারীকেও ছোট করে দেখার কোনও সুযোগ নেই । পুরুষদের সাথে পাল্লা দিয়ে তারা সাফল্যের পথে এগিয়ে চলছে । অনেক ক্ষেত্রে পুরুষের চেয়েও নারীরা বেশি ভালো ভুমিকা রাখছে । তাই যদি অগ্রসরমান এই নারী জাতির জন্য পারিবারিক, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয়  নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা যায় তাহলে বাংলাদেশি নারীরা  তাদের নৈতিক এবং আত্মিক শক্তির জোরে পুরুষদের চেয়েও অনেক বেশি মাত্রায়  দেশ এবং জাতির জন্য সাফল্য বয়ে আনতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস ।

আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.