কবি বন্দে আলী মিঞার ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ 

আহমেদ জহুর

‘আমাদের ছোট গাঁয়ে ছোট ছোট ঘর/থাকি সেথা সবে মিলে নাহি কেহ পর।……মাঠভরা ধান তার জলভরা দীঘি/চাঁদের কিরণ লেগে করে ঝিকিমিকি’–আহা, কী সহজ-সাবলীল বিবরণ। ‘আমাদের গ্রাম’ শীর্ষক এ কবিতার রচয়িতা কবি বন্দে আলী মিঞার আজ ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী। তাঁকে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

কবি বন্দে আলী মিঞা ছিলেন একাধারে একজন স্বনামধন্য ঔপন্যাসিক, শিশু-সাহিত্যিক, চিত্রকর ও সাংবাদিক। তিনি ১৯০৬ সালের ১৭ জানুয়ারি পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মুন্সী উমেদ আলী ছিলেন জজকোর্টের একজন কর্মচারী।

বন্দে আলী মিঞা পাবনার মজুমদার একাডেমী থেকে ১৯২৩ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করে কলকাতা আর্ট একাডেমীতে ভর্তি হন এবং ১ম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। তিনি ১৯২৫-এ ইসলাম দর্শন পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৩০ থেকে ১৯৪৬ পর্যন্ত কলকাতা কর্পোরেশন স্কুলে শিক্ষকতা করেন। দেশ বিভাগের পর তিনি কলকাতা জীবনে রবীন্দ্র-নজরুলের সান্নিধ্য লাভ করেন। তখন তাঁর প্রায় দুইশ’ গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। সে সময় বিভিন্ন গ্রামোফোন কোম্পানীতে তাঁর রচিত পালাগান ও নাটিকা রের্কড আকারে কলকাতার বাজারে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ১৯৬৪-র পর প্রথমে ঢাকা বেতারে ও পরে রাজশাহী বেতারে চাকরি করেন। তিনি তাঁর কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় বিশেষ নৈপুন্যের পরিচয় দিয়েছেন। প্রকৃতির রূপ বর্ণনায় তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ আজও অমর হয়ে আছে।

কবি বন্দে আলী মিঞা রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো- ময়নামতির চর (১৯৩২), অনুরাগ (১৯৩২), পদ্মানদীর চর (১৯৫৩), মধুমতীর চর (১৯৫৩),
ধরিত্রী (১৯৭৫), অরণ্য, ঝড়ের সংকেত, নীড়ভ্রষ্ট (১৯৫৮), জীবনের দিনগুলো, বসন্ত জাগ্রত দ্বারে (১৯৩১), শেষ লগ্ন (১৯৪১), গোধূলি (১৯৪৯),
চোর জামাই (১৯২৭), মেঘকুমারী (১৯৩২), মৃগপরী (১৯৩৭), বোকা জামাই (১৯৩৭), কামাল আতার্তুক (১৯৪০), ডাইনী বউ (১৯৫৯), রূপকথা (১৯৬০), কুঁচবরণ কন্যা (১৯৬০), ছোটদের নজরুল (১৯৬০), শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা (১৯৬৩), বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা, সাত রাজ্যের গল্প (১৯৭৭)।

শিশু সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য তিনি ১৯৬২ সালে বাংলা একাডেমী পুরস্কার, ১৯৬৫ সালে প্রেসিডেন্ট পুরস্কার এবং ১৯৭৮ সালে রাজশাহীর উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক লাভ করেন। তিনি মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত হন। এছাড়া তিনি ১৯৬৭ সালে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক প্রাইড অফ পারফরম্যান্স পুরস্কার লাভ করেন সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য অবদান এর জন্য।
কবি বন্দে আলী মিঞা ১৯৭৯ সালের ২৭ জুন রাজশাহীতে মৃত্যুবরণ করেন।

আহমেদ জহুর
[email protected]
২৭ জুন, ২০২০

তথ্যসূত্র : সেলিনা হোসেন ও নুরুল ইসলাম সম্পাদিত বাংলা একাডেমী চরিতাভিধান। ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৭। পৃষ্ঠা- ২৪৪।

 

আরও পড়ুন