সোফিয়া যাদুঘর থেকে মসজিদে রূপান্তরিত হলেও ইউনেস্কোর বাধ্যবাধকতাগুলি পূরণ করবে তুরস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হাজিয়া সোফিয়া ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ লিস্টে একটি মিউজিয়াম (যাদুঘর) হিসাবে তালিকাভুক্ত আছে । তাই এটিকে মসজিদে রূপান্তর করার ফলে এই মসজিদ এখন আদৌ থাকতে পারবে কি না এই তালিকায় তা নিয়ে বেশ কথা চলছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে । তবে  হাজিয়া সোফিয়ার অসামান্য সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক এবং আধ্যাত্মিক মূল্য সম্পর্কে সচেতন তুরস্ক বলেছে যে সাম্প্রতিক এটিকে মসজিদে পরিণত করার সিদ্ধান্তের কারণে এই ঐতিহাসিক বিশ্ব ঐতিহ্যের অবস্থান কোন ভাবে প্রভাবিত হবে না ।

তুরস্কের একটি শীর্ষ আদালত ১৯৩৪ সালে ইস্তাম্বুলের ল্যান্ডমার্ক হাজিয়া সোফিয়াকে একটি যাদুঘরে পরিণত করার সরকারী আদেশ জারীর পর থেকেই Polemics ( the practice of engaging in controversial debate or dispute.) এর সূত্রপাত ঘটে। আর এর ফলেই এটিকে মসজিদে পরিণত করার পথ সুগম হয়ে উঠে।

ইউনেস্কো অবশ্য দাবী করে আসছে যে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানটির সার্বিক মূল্য তার অবস্থানের পরিবর্তনের ফলে প্রভাবিত হতে পারে ।

পূর্ব আলোচনা ছাড়া তুর্কি কর্তৃপক্ষের হাজিয়া সোফিয়াকে জাদুঘর থেকে মসজিদে পরিণত করার  সিদ্ধান্তে গভীরভাবে আশাহত হন  ইউনেস্কোর মহাপরিচালক । তিনি ১০ তারিখে ইউনেস্কোর তুরস্কের রাষ্ট্রদূতের সাথে তার গুরুতর উদ্বেগগুলি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

ইউনস্কো তুরস্ক সরকারের এই  এই ডিক্রি দেওয়ার আগে জারি করা এক বিবৃতিতে বলেছিল যে, “এই সাইটের ব্যাপারে কোন  সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকারকে চিঠি দিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে” সংলাপ “করার আহ্বান জানিয়েছিল তারা ।

জাতিসংঘের মতে-

হাজিয়া সোফিয়া, “ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক অঞ্চল” এর একটি অংশ এবং আনুষ্ঠানিকভাবে একটি জাদুঘর হিসাবে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় লিপিবদ্ধ রয়েছে।

এ নিয়ে জাতিসংঘের শিক্ষা, বৈজ্ঞানিক এবং সাংস্কৃতিক সংস্থা বলেছে-

“এই ক্ষেত্রে  বেশ কয়েকটি আইনী প্রতিশ্রুতি ও বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সুতরাং একটি রাজ্যকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে তার ভূখণ্ডে লিখিত সম্পত্তির অসামান্য সার্বজনীন মূল্যতে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি  । ”,

ইউনেস্কো শুক্রবার বলেছে যে তার ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটি হাজিয়া সোফিয়ার অবস্থান পর্যালোচনা করবে এবং তুরস্কের এই সিদ্ধান্তে এর সর্বজনীন মূল্যের উপর প্রভাব ফেলবে বলে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।

কিন্তু তুরস্কের ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেলিম কিরণ বলেন যে  “এই সিদ্ধান্তটি মানবজাতির জন্য এবং সমস্ত ধর্মের মানুষের জন্য । আর এর কারণে হাজিয়া সোফিয়ার ঐতিহাসিক মূল্যকে ক্ষতি করবে না ।  হাজিয়া সোফিয়া সমস্ত মানবতার জন্য সমান মূল্যবান।”

তুর্কি সংস্কৃতি ও পর্যটনমন্ত্রী মেহমেত নুরি এক টুইটারে উল্লেখ করেছেন-

“হাজিয়া সোফিয়া মসজিদ একটি বিশ্ব ঐতিহ্য, তাই সতর্কতার সাথে তার ভাবমূর্তি রক্ষা করা অব্যাহত থাকবে ।”

সূত্রঃ ইউএন নিউজ এবং ডেইলি সাবাহ, তুরস্ক

আরও পড়ুন