এক নজরে ড. এমাজউদ্দীন আহমদ 

আহসান হাবিব

গতকাল  পরলোকগমন করেছেন ড.  এমাজউদ্দীন আহমদ স্যার । গতকাল ১৭ জুলাই ঢাকার ল্যাব এইড হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাহির রাজিয়ুন

১৯৩২-২০২০ সাল। এই ৮৮ টি বসন্ত পার করা রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এমাজউদ্দীন আহমদ আর আমাদের মাঝে নেই। জীবন চলার এই দীর্ঘ সময়ে এই শিক্ষক বহু কীর্তি গড়েছেন। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে কথা বলেছেন, নীতি বাতলে দিয়েছেন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের জন্ম ১৯৩২ সালে অবিভক্ত বাংলার মালদহে। ভারত ভাগের পর তার পরিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলে আসে।

শিবগঞ্জের আদিনা সরকারি ফজলুল হক কলেজ ও রাজশাহী কলেজে পড়ালেখা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এমাজউদ্দীন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ফজলুল হক হলের ভিপি পদে নির্বাচিত হন। স্নাতকোত্তর শেষ করে রাজশাহী কলেজে শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে এমাজউদ্দীনের পেশাজীবনের শুরু।

পরে বিদেশে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে এসে ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে যোগ দেন এমাজউদ্দীন। তিনি পিএইচডি করেন কানাডার কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে।

দীর্ঘদিন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করা এমাজউদ্দীন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও প্রোভিসির দায়িত্বও পালন করেছেন। ১৯৯২ সালে তাকে দেয়া হয় উপাচার্যের দায়িত্ব। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি ওই পদেই ছিলেন।

১৯৯৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসরের পর ইউনির্ভাসিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভে (ইউডা) যোগ দিয়েছিলেন তিনি। এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশের সঙ্গেও সম্পৃক্ততা ছিল তার।

দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে তুলনামূলক রাজনীতি, প্রশাসন-ব্যবস্থা, বাংলাদেশের রাজনীতি, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি, দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক বাহিনী সম্পর্কে গবেষণা করে চলেছেন। এসব ক্ষেত্রে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় তিনি বিশেষজ্ঞ হিসেবেও প্রখ্যাত। তার লিখিত গ্রন্থের সংখ্যা অর্ধশতাধিক। দেশ বিদেশের খ্যাতনামা জার্নালে তার প্রকাশিত গবেষণামূলক প্রবন্ধের সংখ্যা শতাধিক। তার লিখিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল:

রাষ্ট্র বিজ্ঞানের কথা(১৯৬৬)

মধ্যযুগের রাষ্ট্র চিন্তা (১৯৪৫)

তুলানামূলক রাজনীতি: রাজনৈতিক বিশ্লেষণ (১৯৮২)

বাংলাদেশে গণতন্ত্র সংকট (১৯৯২)

সমাজ ও রাজনীতি (১৯৯৩)

গণতন্ত্রের ভবিষৎ ( ১৯৯৪)

শান্তি চুক্তি ও অন্যান্য প্রবন্ধ (১৯৯৮)

আঞ্চলিক সহযোগিতা, জাতীয় নিরাপত্তা (১৯৯৯)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য প্রবন্ধ (২০০০)

এছাড়াও ইংরেজিতে অনেক মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেছেন তিনি।

শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান এবং সৃজনশীল লেখার জন্যে তিনি দেশ ও বিদেশে বিশেষভাবে সম্মানিত হয়েছেন। সৃষ্টিশীল গবেষণা ও আলেখ্য রচনার জন্য ‘মহাকাল কৃষ্টি চিন্তা সংঘ স্বর্ণপদক’, জাতীয় সাহিত্য সংসদ স্বর্ণপদক, জিয়া সাংস্কৃতিক স্বর্ণপদক অর্জন করেন। শিক্ষাক্ষেত্রে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ১৯৯২ সালে একুশে পদক, মাইকেল মধুসুদন দত্ত গোল্ড মডেল, শেরে বাংলা স্মৃতি স্বর্ণপদক, ঢাকা সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক স্বর্ণপদক, বাংলাদেশ যুব ফ্রন্ট গোল্ড মেডেল, রাজশাহী বিভাগীয় উন্নয়ন ফোরাম স্বর্ণপদকসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বহু পুরস্কার-সম্মাননা অর্জন করেন।

আল্লাহ ওনাকে জান্নাত দান করুন, আমিন।

লেখকঃ কলামিস্ট ও ব্যাংকার

আরও পড়ুন