ইতালিতে…. রেখেছো বাঙালি করে মানুষ করোনি

মাঈনুল ইসলাম নাসিম, ইতালি থেকে

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মৃত্যুর আগে যথার্থই লিখেছিলেন “রেখেছো বাঙালি করে মানুষ করোনি”। ইতালির ৬ কোটি জনগণ করোনাকালে আজ বাংলাদেশের তেমনি এক অমানুষের অপকর্ম দেখতে পেয়েছে রাজধানী রোমে। ইতালির হাসপাতালে দুই দুইবার করোনা পজিটিভ ধরা পড়ার পর অঘটন ঘটন পটিয়সী এই বাংলাদেশির যেখানে ঘরে থাকার কথা আইসোলেশনে, সেখানে রাষ্ট্রের আইনকানুনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে ঘটালেন অঘটন।

করোনা ডাবল পজিটিভ অকালকুষ্মাণ্ড এই বাংলাদেশি রাজধানীর তেরমিনি সেন্ট্রাল রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনে চেপে বসেন লাতিনা প্রভিন্সের সাবআউদিয়া ডিরেকশনে, সাগরপাড়ে খুচরা মালামাল ফেরি করে বিক্রির উদ্দেশ্যে। পথে প্রিভেরনো ফোসসানোভা স্টেশনে ট্রেন থেকে নেমে বাসে উঠেন বালনেয়ারে এরিয়ার উদ্দেশ্যে। এমন সময় পথিমধ্যে জনৈক আরেক বাংলাদেশি তাকে চিনতে পেরে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে দ্রুত খবর দেয় পুলিশে।

আধাসামরিক বাহিনী ‘ক্যারাবিনিয়েরি’র সহায়তায় করোনা রোগী বাংলাদেশিকে আটক করে লাইট-ব্লু ক্রসের এম্বুল্যান্সে তাৎক্ষণিকভাবে পাঠিয়ে দেয়া হয় লাতিনা প্রভিন্সেরই গোরেত্তি হাসপাতালে। বাংলাদেশি এই করোনা রোগী ট্রেনে এবং বাসে তার সাথে ভ্রমণকারী সকল যাত্রীকে ইতোমধ্যে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলে দেয়ার প্রেক্ষিতে নতুন তোলপাড় শুরু হয়েছে সাগরপাড়ে। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশিদের ভাবমূর্তি আরও তলানিতে রোমে এভাবেই।

ইতালীয় গণমাধ্যম বলছে, ক্যারাবিনিয়েরি’র সহায়তায় মিউনিসিপ্যাল পুলিশ এই ডাবল পজিটিভ করোনা রোগীকে থামাতে না পারলে সমুদ্র স্নানে আসা নিরীহ লোকেরাও পড়তো বিপদে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশিরা কে কোথায় হাসপাতালে করোনা পজিটিভ ধরা পড়ছে তার কোন ডাটাবেইজ সংরক্ষণের আদৌ প্রয়োজন মনে করেনি রোমের বাংলাদেশ দূতাবাস। দালাল সিন্ডিকেটের যোগসাজশে পাসপোর্ট সার্টিফিকেটের রমরমা বাণিজ্যে মশগুল দূতাবাসের দুর্নীতিবাজ লোকজন।

সাংবাদিঃ কমাঈনুল ইসলাম নাসিম, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও ইতালি প্রবাসী

 

আরও পড়ুন