সন্তানকে স্বামীর বলে দাবী করায় স্ত্রী গ্রেফতার!

আন্তর্জাতিক সংবাদ, নাইজেরিয়া

নাইজেরিয়ায় আবুজাতে মিসেস স্টেলা এন্দিদি আমাকা একওয়েরেকু নামের এক বিধবা মহিলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে চার মাস বয়সী তার এক পুত্র সন্তানকে তার স্বামী ভিক্টর আমেচি একওয়েরেকুর সন্তান হিসাবে দাবী করার জন্য  ।

তার মৃত স্বামীর ভাই চার্লস একওয়েরেকু নাওয়াবুফো গত ৩ জানুয়ারি ২০২০ নাইজেরেয়িরার আইজিপি মোহাম্মদ আদোমুর কাছে পিটিশন করেছিলেন ।  এই মহিলা তার স্বামীর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পর এক পুত্র সন্তানকে তার সন্তান বলে উপস্থাপন করেছিল ।

এই দম্পতি আনাম্ব্রা রাজ্যের অনিতশার বাসিন্দা এবং তাদের বিবাহিত জীবনের ১৮ বছর অতিবাহিত হবার পরও তাদের কোন সন্তান ছিল না ।

অভিযুক্ত মহিলা তার স্বামী মারা যাবার কয়েক ঘণ্টা পর এই ছেলেটিকে তার স্বামীর ঔরশজাত সন্তান বলে দাবী করে এবং জন্ম নিবন্ধন অফিসে তার স্বামীর সন্তান বলে রেজিস্ট্রেশন করার চেষ্টা চালায় ।

তার স্বামীর পরিবার এতে সন্দিগ্ধ হয়ে উঠে । তারা পুলিশকে জানায় যে তাদের বিবাহিত জীবনের ১৮ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের কোন সন্তান নেই ।

এরই প্রেক্ষিতে তার স্বামীর পরিবার তার বিরুদ্ধে মামলা করে এবং পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় ।

আইজিপি- মোহাম্মদ আদমু  এর কাছে করা পিটিশনের ভিত্তিতে মিসেস একওয়েরেকু গ্রেপ্তার হন । পিটিশনকারী চার্লস একওয়ারেকুউ নওয়াবুফো অভিযোগ করেছেন যে তার ভাইয়ের স্ত্রী  ১৮ বছরের বিবাহিত জীবনে সন্তানের জন্ম দিতে পারেননি; অথচ তার ভাইয়ের অসুস্থতার সময় শিশুটিকে নিজেদের বাসায় আনে । তার মৃত্যুর কয়েক ঘন্টা পর সে শিশুটিকে তার মৃত স্বামীর পুত্র বলে দাবি করে। তাঁর মৃত স্বামী সন্তানের জন্ম দিয়েছে বলে দাবি করা ছাড়াও, মিসেস একওয়েরেকু সন্তানকে তার স্বামীর এক নিকট আত্মীয়ের কাছে উপস্থাপন করেছে।আর ২০১৮ সালের  ২৯ অক্টোবর  এই সন্তানকে তার স্বামীর বলে উপস্থাপন করার সময় মৃত স্বামী  শয়নকক্ষে পড়ে ছিল।

মিসেস একওয়েরেকুর এই পদক্ষেপের পরে চার্লস একওয়েরেকুউ নওয়াবুফোর নেতৃত্বে তার স্বামীর পরিবার পুলিশের কাছে এই ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তদন্তের জন্য আবেদন করেছিল। ২০২০ সালের ৩ জানুয়ারির পিটিশনের পর পারিবারিক অনুরোধের ভিত্তিতে ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারিতে দায়িত্বে থাকা পুলিশ অফিসার পুলিশ জেলা প্রশাসক, ডিসি আব্বা কিয়ারীর নেতৃত্বে গোয়েন্দা জবাবদিহি টিম ইউনিটকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

গোয়েন্দা বিভাগের অনুসন্ধানের ও জিজ্ঞাসাবাদের পর সন্দেহভাজন মহিলা স্বীকার করেছেন যে শিশুটি তার মৃত স্বামীর নয় এবং পুলিশ পরবর্তীতে  জন্ম নিবন্ধন রেজিস্ট্র অফিসে  শিশুটির জন্ম সনদে বাবা হিসাবে মৃত স্বামীর নাম নিবন্ধিত করা  নথিগুলিও উদ্ধার করেছে।

মহিলার দেবর চার্লস একওয়েরেকুউ নওয়াবুফোর পুলিশ মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ আদমুর কাছে করা  তার  পিটিশনের ভিত্তিতে অভিযোগ করেন যে , “ স্টেলা তার প্রয়াত ভাই ভিক্টর একউয়েরেকউয়ের সাথে ১৮ বছর ধরে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করে এসেছে । সে  কোনও সমস্যা ছাড়াই তার সাথে সংসার করে এসেছে ।  হঠাৎ চার মাসের একটি শিশুকে তার স্বামীর মৃত্যুর কয়েকদিন আগে সে বাসায় নিয়ে এসেছে। এবং তার ভাইয়ের মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পরে এই শিশু সন্তানটির বাবা তার   মরহুম স্বামী ভিক্টর আমেচি একওয়েরেকু বলে দাবী করে । ”

মিসেস একেওয়েরেকুর দেবর দাবী করে যে-“ এসবের পিছনে তার মূল চাওয়া হচ্ছে আমার ভাইয়ের সম্পত্তি আত্মসাৎ করা ।  ”

মহিলার পাশাপাশি একজন ব্যাঙ্ক ম্যানেজারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে । এই ব্যক্তি  মহিলাকে   মৃত স্বামীর অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ উত্তোলনের জন্য নানা ধরণের সহায়তা করেছে  বলে রঅভিযোগ করা  হয়েছে।

পুলিশের অনুসন্ধানী টিম আরও অনুসন্ধান চালাচ্ছে । তার স্বামীর মৃত্যুর পিছনে তাদের কোন হাত আছে কি না টা অনুসন্ধানের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ।

গতকাল পুলিশের কাছে এই বিষয়ে আরও কিছু জানতে চাওয়া হলে তারা সংবাদ মাধ্যমকে তেমন কিছু জানায়নি ।  আই আরটি ইউনিটের প্রধানের কাছে তারা বার্তা পাঠিয়েছে । কিন্তু প্রেসের সামনে তেমন কিছু খুলে বলেনি ।

সূত্রঃ ভ্যানগার্ড, নাইজেরিয়া 

 

আরও পড়ুন