ভারতের বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রীতি সংলাপে বাংলাদেশী তরুণ গবেষকরা

সাইফুল্লাহ সাদিক

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উদারতা ও সমাজ সংস্কার সম্পর্কে পড়ছি সেই শৈশব থেকে। নিজের অজান্তেই অনেক সময় নিজেকে বিদ্যাসাগরের আসনে বসানোর চিন্তা করতাম! কিন্তু কখনো চিন্তা করিনি বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসবো এবং এভাবে সম্মানিত হবো!

ক্ষুদ্র জীবনে অনেক কিছুই আমাদের চিন্তার বাইরে ঘটে যায়! তেমনি ঘটেছে সবুজ বিদ্যাসাগরের ক্যাম্পাসে।সারাজীবন যিনি শিক্ষা, সমাজ সংস্কারে ব্রত ছিলেন, যিনি মশাল জ্বালিয়েছেন সমাজে সেই বিদ্যাগরের নামে ক্যাম্পাসের মানুষগুলো তাঁরই পথে অনুসরণ করছেন, নির্দ্বিধায় কা বলতে পারি।

গত ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা সংসদের তরুণ স্কলারদের নিয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছি বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের আয়োজনে ‘সম্প্রীতি সংলাপ’-এন ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারেক্টিভ সেশন’-এ।এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. রঞ্জন চক্রবর্তী স্যার। বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও জনপ্রিয় অধ্যাপকদের ভীড়ে আমার মতো একজন ক্ষুদ্র, অধমকেও উপাচার্যের পাশে মঞ্চে বসিয়ে দিলেন আয়োজকরা।

রঞ্জন স্যারের মতো মানুষগুলো শিক্ষা ও গবেষণা দিয়ে পৃথিবী চষে বেড়াচ্ছেন। এমন একজন মানুষের সঙ্গে একই মঞ্চে পাশাপাশি বসা ও বক্তব্য রাখতে পারা অনেক বেশি সৌভাগ্যের ও প্রাপ্তির। এটি সুযোগ। এই সুযোগ গ্রহণ করা ন্যায়সঙ্গত। স্যারের সঙ্গে কথা হলো৷ নিজের লেখা বই ‘আর্মেনিয়ার বাংলাদেশ’ বইটিও উপহার দিলাম। স্যার অনুপ্রাণিত করেছেন। কথা প্রসঙ্গে তিনি জানালেন, রঞ্জন স্যারের পূর্বপুরুষ ছিলেন বাংলাদেশী। দেশ বিভাগের সময় এপার বাংলায় চলে এসেছেন! তিনি নিজেকে এখনো একজন বাংলাদেশি মনে করেন! তাই আমাদের প্রতি তার অগাধ ভালোবাসার শেষ নেই!

বিদ্যাসাগরের এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের পুরো কৃতিত্ব দিতে হবে আরেকজন বিশ্বখ্যাত গবেষক অধ্যাপক ড. রাজকুমার কুঠারী স্যারকে।৷ স্যারই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা সংসদকে এখানে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং তরুণদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করার সুযোগ দিয়েছেন। স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

এখানকার সব শিক্ষক, স্কলার ও শিক্ষার্থীদের অভূতপূর্ব আন্তরিকতায় মুগ্ধ হয়েছি। এতো স্কলারদের ভিড়ে আমি সংক্ষিপ্ত সময় “ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ও সম্প্রীতি” নিয়ে বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়েছি!

বলার চেষ্টা করেছি যে, আমাদের (ভারত-বাংলাদেশের) সম্পর্ক হাজার বছরের। আমাদের ভাষা, ইতিহাস, সংস্কৃতি, সাহিত্য, আমাদের রবীন্দ্র, নজরুল, বিদ্যাসাগর আমাদের সম্পর্ক, সম্প্রীতির সূত্র। যতোকাল ইতিহাস থাকবে, ততোকাল আমাদের বন্ধুত্বের সূত্রগুলো অমলিন থেকে যাবে….

প্রতিবেদকঃ লেখক,গবেষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট 

আরও পড়ুন