আমাদের সন্তানেরা আমাদেরই প্রতিচ্ছবি

ইসরাত জেরীন শান্তা

আমরা আমাদের সন্তানদের কাছে সম্মান, আনুগত্য, বাধ্যবাধকতা,ভালোবাসা প্রত্যাশা করি।আমরা প্রত্যাশা করি তারা আমাদের আদেশ,নিষেধ, শাসন মেনে চলবে। ব্যতিক্রম কিছু হলেই আমাদের দুশ্চিন্তা,রাগ,কষ্টের অন্ত খুঁজে পাই না। আমাদের প্রত্যাশা আমাদের অসহায় করে তোলে। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছি আমাদের এই যে খুব স্বাভাবিক প্রত্যাশা- তার পরিপূর্ণতা পাওয়ার জন্য আমরা আমাদের সন্তানদের প্রস্তুত করেছি কিনা! আমরা কি আমাদের সন্তানদের অন্যকে সম্মান করতে শিখিয়েছে কিনা! সত্যিকার অর্থে কতটুকু অন্যদের শাসন, নিষেধ মানতে উৎসাহিত করেছি!! তাদেরকে সহনশীল হওয়ার গুরুত্ব জানাতে পেরেছি কি আদৌ!!

ছোটবেলা থেকেই যখন আমাদের সন্তানরা আমাদেরকে দেখছে আমরা অন্যকে শ্রদ্ধা করতে জানিনা, আপন ভাবতে পারিনা, কাউকে মূল্যায়ন করিনা, তখন আমারও কিন্ত নিজেদের অজান্তেই তাদের মধ্যে সেসব কিছুর বীজ বুনতে শুরু করে দিয়েছি। এমনকি যখন অন্যদের প্রতি তাদের অন্যায় আচরণের কঠোর বিরোধিতা করতে পারিনা বা করিনা বা কোন কোন ক্ষেত্রে তাদের সাথে নিজেরাও যোগ করি আরো কয়েক ধাপ।সময়ের সাথে সাথে সেই যে বীজ বুনে রেখেছিলাম বহুকাল আগে, সেগুলোর পরিসফুটন ঘটতে আরম্ভ করে। ভোগ করার পালা চলে আসে আমাদের। তখন আমাদের ভালো মন্দের হিসাব নিকাশ পাল্টে যায়। আমরা তখন ন্যায় কি জিনিস বুঝতে শিখি, অন্যায়ের ব্যাথা অনুভব করি, সন্তানদের শাসন করবার গুরুত্ব উপলব্ধি করি। ততদিনে অনেক দেরী হয়ে যায়। কারণ তখন আমি বা আমরা নিজেরাই ভুক্তভোগী।

নিজের জন্য, নিজেদের সন্তানদের জন্য হলেও আমাদের ভাবনার পরিবর্তন আনা অপরিহার্য। আমাদের সন্তানেরা আমাদেরই প্রতিচ্ছবি মাত্র। সন্তানদের মানুষ করার আগে নিজেদের মনুষ্যত্বকে জাগ্রত যেন করি। সন্তানদের ন্যায় অন্যায় বুঝানোর আগে নিজেরা অন্যায়ের পথ থেকে যেন সরে দাঁড়াই। সন্তানদের কাছে ভালোবাসা চাওয়ার আগে তাদেরকে যেন বুঝাতে পারি, ভালোবাসা কতোটা মহান বিষয়!

লেখকঃ কবি ও সাহিত্যিক

আরও পড়ুন