আমি এখন কি করবো ?

-নুরে আলম মুকতা

আমি এখন কি করবো ?  ওর চোখে মুখে রাজ্যের সমস্ত হতাশা আর বিষন্নতা। ওর দিকে তাকালে বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে ওঠে। আমি মাঝে মাঝে বাইরে নিয়ে চলে যাই। বাইরে তো আমরা নিরাপদ নই। তাই ওটা বার বার করা যাচ্ছে না। ওর ভায়ের ভার্সিটি বন্ধ। ও সারাদিন মুখের সামনে কম্পিউটার আর কোলের ওপর মোবাইল নিয়ে পড়ে আছে। আমি সুযোগ পেলেই লিখছি । গ্রুপে গ্রুপে ঘুরে ফিরছি। নামাজ পড়ছি,বাজারে যাচ্ছি। মন হলে অনলাইনে ক্লাস নিয়ে নিচ্ছি। সব কিছু ফুরিয়ে গেলে মহাগ্রন্থ নিয়ে বসে যাচ্ছি।  বাড়ির জরুরী প্রয়োজনে লোকজনের সাথে কথা বলছি। সময় চলেই যাচ্ছে।  কিন্তু  আমার দশ বছরের পরম প্রিয় মামনি কি করবে ? ওতো দিনের প্রায় সাত ঘন্টা বিদ্যালয়ে কাটাতো । ওখানে লেখাপড়ার পাশাপাশি বন্ধু-বান্ধবীদের সাথে একটি দারুন সম্পর্ক ছিলো। সাত মাস ধরে ও বন্দী।  ওর মা আর আমার দেয়া কাজ দ্রুত রোজ ফুরিয়ে যাচ্ছে। তখন ও নিজের ভূবনে প্রবেশ করছে। ওটাও আর বেশিক্ষন চলছে না। তখন আমার সামনে শুয়ে গিয়ে বলছে আব্বু আমি এখন কি করবো?  আমি পড়ে যাচ্ছি ভারী বিপদে। ওর নিয়ন্ত্রনে যা কিছু ছিলো সবই শেষ হয়ে গিয়েছে। বই শেষ। একই বই তুমি কত পড়াবে আর ? আমার প্রতি ওর বিশাল অভিযোগ। ওর মা আমাকে বলছে, তুমি ওকে ষষ্ঠ শ্রেনীর বই পড়াতে শুরু করে দাও। গিন্নি জানেন না , আমার মায়ের মস্তিষ্কের অভ্যন্তরের বিষয়গুলো। ওকে বোঝালে এখন আমাকে বিশাল ডিএনএ আর আরএনএ , নিউরোন বোঝাতে হবে। বলতে হবে ওদের মস্তিষ্কের ধারন ক্ষমতা। কোনো কোনো অভিভাবক মনে করেন, আমার ছেলে কিংবা মেয়ে ত সবই পারছে। ওকে উঁচু ক্লাসের বই ধরিয়ে দেন। না না। দয়া করে এ কাজটি করবেন না। ওর বয়সের তুলনায় ওর মস্তিষ্ক বিকশিত নয়। ফলে উন্নত পাঠ তো ওদের মাথায় থাকবেই না। বরং মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে শিশুটি। একই সাথে অনেক কিছু গিলিয়ে দেয়ার বিষয়টি হতে পারে খুবই দুঃখজনক। আপনি যদি সর্বনাশ না চান তবে এটি বন্ধ করুন দয়া করে।
যা বলছিলাম। আমার মায়ের পুতুল খেলা,ছবি আঁকা,কাগজদিয়ে বিভিন্ন ফুল পাখি- আসবাব বানানো, স্কিপিং করা, আমার সাথে লাঠির কসরত করা সব শেষ। এবার ও কি করবে ? তোমরা তো সারাদিন ফোনটাও দাও না। তো আমি কি করবো ? আমি অপরাধবোধে ভুগছি। সত্যিই তো। ওকে গেমস এর জন্য ফোনটি দেয়া যায়। আমি লিখেই চলেছি। ও অসহায়ের মতো আমার আঙ্গুলের দিকে চেয়ে আছে। কখন ক্লান্ত হয়ে আমি ফোনটি রাখবো। আমার লেখা শেষ হয় না। আমার মাদের এখন খুবই কষ্ট। ও আমার পাশে ক্লান্ত হয়ে শুয়ে গিয়েছে। আমি অসহায় বাবা বললাম, মা একটি ট্যাব কিনলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
আমরা একটি জটিল সময় অতিক্রম করছি। শিশুদের বিষয়ে সতর্ক হোন। একদম নতুন বা আনকোরা কাজ আপনি যা করেন নি কোনদিন, তাই করুন। আপনার শিশুটিকে সুস্থ রাখার জন্য গান করুন, নাচুন। ওদের মস্তিষ্কে বিরুপ প্রভাব পড়তে দিবেন না। দয়া করে নিষ্পাপ কাজগুলো করি আমরা ওদের সাথে মিশে গিয়ে।  এরকম সময় আর কখনও আসবে কিনা জানি না। আমাদের প্রানপ্রিয় শিশুটি যেন না বলে,আমি এখন কি করবো?

নুরে আলম মুকতা কবি, সাহিত্যিক ও সহ-সম্পাদক, মহীয়সী।

আরও পড়ুন