পজিটিভ প্যারেন্টিং নিয়ে কিছু কথা

তৃপ্তি পোদ্দার

পজিটিভ প্যারেন্টিং বলতে মা-বাবা ও শিশুর সাথে সুসম্পর্ক কে বোঝায়, যা শিশুর যত্ন, শিক্ষা, শিশুকে পরিচালনা, ভাষা ও যোগাযোগ বিকাশ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ও অপ্রয়োজনীয় বিষয়সমূহ জড়িত থাকে।শিশুকে হাসপাতাল থেকে বাসায় আনার পর মা-বাবার প্যারেন্টিং শুরু হয়ে যায় । প্রতিদিন অনেক কষ্ট করে প্রতিটি মা তার সন্তানকে একটু একটু করে তার দেহের বৃদ্ধি করে, মানসিক বৃদ্ধি করে । কিন্তু অনেক মা-বাবা হয়তোবা জানে না বা ২৪/৭ ঘন্টার ব্যস্ততায় ক্লান্ত হয়ে যায় তার নিজের দিকে নজর দিতে।

আমি নিজেও একজন মা, ২টি মিষ্টি এবং ব্যস্ত শিশুর মা আমি । একটি সময় আমি তাদের ব্যস্ত করতাম কারণ শিশু বিকাশে শিশু শিক্ষার অন্যতম বিবেচ্য বিষয় । শিশুকে ভালো একটি প্রি স্কুল অথবা স্কুল এ পাঠালেই হবে না, শিশুর শারীরিক যত্নের পাশাপাশি মানসিক বিকাশ হচ্ছে কিনা সেটি ও দেখতে হবে ।

শিশুর বিকাশ এবং বৃদ্ধিকে ৫ টি ভাগে ভাগ করা হয়: Cognitive development, Social and emotional development, Speech and language development, Fine motor skills and Gross motor skills; আর এই ৫ টি ভাগই ওতোপ্রোতো ভাবে মানসিক বিকাশ এর উপর প্রভাব ফেলে । শারীরিক বিকাশ এর জন্য খাবার যেমন অপরিহার্য, তেমনি মানসিক বিকাশের জন্য কিছু বিষয় বিবেচনার রাখতে হবে মাতৃ গর্ভে উপস্থিতির শুরু থেকে। বিষয়গুলো মাথার মধ্যে নাড়া দিতো এবং মনে হতো আমার বাচ্চাটির বিকাশ ঠিকমতো হচ্ছে তো?

Positive Parenting এর একক কোন টেকনিক নেই এবং শিশুভেদে এটি সম্পূর্নই আলাদা, আমার পরিবেশ এ যেটি আমার কাছে একদম সঠিক; হবে সেটি কিন্তু অন্য দেশ এবং পরিবারের জন্য আলাদা হবে ।কিন্তু বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানীরা কিছু বিষয় Positive Parenting এর ক্ষেত্রে না করার জন্য বলেছেন । সেগুলো হচ্ছে-

১) চিৎকার করা:

শিশুর সাথে আপনি যদি প্রতিদিন চিৎকার করেন, খিটমিটে মেজাজ দেখান তাহলে শিশু আপনার কাছ থেকে চিৎকার করাই শিখবে । আমরা যদি চড় মেড়ে শিশুকে বলি চড় মাড়া ভালো না, তাহলে বিষয়টা শিশুর কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না । এটি নিয়ে আমার একটি ভিডিও আছে, ইচ্ছে হলে দেখতে পারেন, উৎসাহ পেলে আরো করবো । ইউটিউব চ্যানেল   Children’s Journey  তে  আছে ভিডিওটি, দেখতে পারেন আরও জানতে ।

২) বাধ্য করা:

শিশুকে জোর করে কোনো কিছু করানো ঠিক না । তাতে তাদের বিকাশে বাঁধাপ্রাপ্ত হয়, অনিচ্ছা চলে আসে এবং পরবর্তীতে আপনাদের কথা শুনবে না । হয়তোবা একটু লক্ষ্য করবেন শিশু মার থেকে বাবার কথা বেশি শোনে।

৩) অবমূল্যায়ন করা:

শিশু কিন্তু ৪/৫ বছর বয়স পর আর শিশু বা বেবি বা আমার বাচ্চা শুনতে পচ্ছন্দ করে না ।  কারণ সে নিজেকে গ্রন আপ বলে ধরে নেয় এবং পাওয়ার কন্ট্রোল/ লাইক ডিসলাইক এর বিষয়ও চলে আসে । শিশুর মতামত নিতে হবে যখন থেকে সে মতামত প্রকাশ করতে পারবে । তবেই না আপনি শিশুর সাথে কানেকশন তৈরী করতে পারবেন আর এই কানেকশন হলো সকল সমস্যার সমাধান। আপনি আপনার পরিবারের জন্য কিছু সেট Boundaries তৈরি করুন যাতে আপনার সন্তান এবং সকল সদস্য যেন নিয়মগুলো মেনে চলে । মনে রাখবেন তাদেরকে প্রযুক্তি দিয়ে তার চিন্তাভাবনার প্রসারতার বিকাশ অনেকটা হয়েছে কিন্তু তা প্রকাশ করার জন্য একমাত্র স্থান হলো আপনারা। উৎসাহ দিন, তাদেরকে বোঝান তারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ । কথা বলুন, গল্পও বলুন; এমন গল্প যেখানে ভালো এবং মন্দ দুটি বিদ্যমান । শিশু শিখবে প্রথম আপনার কাছ থেকে এবং আজীবন আপনার কাছ থেকে । মাঝে মাঝে অভিজ্ঞতা অর্জন করবে স্কুল, কলেজ এবং ইউনিভার্সিটি থেকে।

লেখকঃ শিশু শিক্ষা বিশেষজ্ঞ, ইংল্যান্ড, ইউকে

আরও পড়ুন