বয়ঃসন্ধিকালের কিশোর কিশোরীর প্রতি সদয় হোন

মনিরা ইসলাম

গতকাল একজন পাঠিকার ভাবনা ছিল বয়োসন্ধির কিশোর কিশোরী নিয়ে।উনি জানতে চেয়েছেন আমি কেন কিশোর কিশোরী নিয়ে লিখি না।সত্যি ,লিখতে হতো।লিখা জরুরী। আমার লেখার ভাষা সহজ। হয়ত তাই আমার কাছে চাহিদা তৈরি হয়েছে।তাহলে আমি লিখব এমন হ‌ওয়া ভালো।আসলে সে কারণেই আজকে বিষয় নির্বাচনে বয়োসন্ধি: কিশোর কিশোরী দিকটা সামনে আনবো।
আমি সব সময় নবজাতকের সাথে না মুক্ত কথা বলতে পরামর্শ দেই।আর বার বার বলি শুধু বয়স তিন হ‌ওয়া পর্যন্ত এভাবে সতর্ক থাকতে হবে।তারপর ” না” দিয়ে কথা বলা যাবে।একটু গভীর ভাবে খেয়াল করলে এখানে একটা কৌশল ধরা পড়বে।যিনি একজন বাচ্চার সাথে তিন বছর “না” মুক্ত কথা বলে দিন কাটাবেন, প্রকারান্তরে তিনি এতদিন চর্চা করার কারণে “না” হীন হয়ে যাবেন।আর এর নাম ইতিবাচক ব্যক্তিত্ব।
ইতিবাচক ব্যক্তিত্বের আরেকটা দিক হলো।হুম, আচ্ছা,ঠিক আছে,সমস্যা না,করা যায়,পারবো,হবে এই কথাগুলো বেশী বেশী ব্যবহার করা।যিনি একজন ইতিবাচক মানুষ তার কাছে আমরা নিয়মিত এ ধরণের প্রতিক্রিয়া পেয়ে থাকি।উনি অপূর্ব উপায়ে সব কিছুর জন্য আগ্রহী থাকেন।সব কিছুর মীমাংসা খুঁজে পেয়ে ফেলেন।ফলে উনি কোনো বিষয় খুব পরিষ্কার বুঝতে পারেন।কিশোর কিশোরী কে যিনি দেখাশোনা করবেন, পড়াবেন,পালন করবেন,পথ দেখাবেন তার ব্যক্তিত্ব ইতিবাচক হতে হবে।
জেদ,কড়া কথা,ধমক,মুখ ঝামটা এই বয়োসন্ধি সময়ের সমস্যাকে জটিল করে‌।ওরা বিভ্রান্ত হয়।পথ হারায়।ওদের মধ্যে কেউ কেউ আছে যারা পথ হারানো একটা ক্ষতি এভাবে বুঝতে পারে।ফলে নিজেকে পিছলে যাওয়া থেকে বাঁচায়।তবে এত মজবুত ব্যক্তিত্ব নিয়ে সংখ্যা কম কিশোর কিশোরী তৈরি হতে পারে। প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকার যুদ্ধ বড়রাও ঠিক করে করতে পারে না।তাই ওদের মজবুত ব্যক্তিত্ব না থাকলে দোষ কাকে দিবো? কাঠিন্যযুক্ত প্যারেন্টিংকে তো দিতেই পারি।
কিশোর অথবা কিশোরী।দুই দলের বাচ্চার মনে অনেক প্রশ্ন।নিজেকে বড় হয়ে যাওয়াকে সে নিজে বহন করে।তার শরীরের যাবতীয় হরমোন পরিবর্তন প্রক্রিয়া এই আছে এই নাই ,নানা রকম মানসিক অবস্থা তাদেরকে দোদুল্যমান করে।এই বয়সের বাচ্চাদের জন্য কোনো পরামর্শ দেয়ার আগে যিনি তাদের দেখাশোনা করছেন এমন কি মা ও বাবা সবাইকে এই বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা নিতে হবে।মনে রাখতে হবে কিশোর বয়স হরমোন পরিবর্তন এর বিশিষ্ট সময়।তাই ওরা যা করে তা ওদের ব্রেণ থেকে সাপ্লাই পায়।ওদের উপলব্ধি থেকে সমর্থণ পায় তাই করে‌। আমার উচিত তার লেবেলকে বুঝতে পারা‌।এই বয়সের বাচ্চাদের একটা অভিযোগ আছে ” জানি তো,দিবা না”
অথবা আমি নিষেধ করব জেনেই সে আগেই বাদ দিয়ে দিয়েছে।( নাচ আমি পছন্দ করব না মনে করে আমার কিশোরী মেয়ে স্কুলে সেটা নিজেই না বলে দিয়েছে।অথচ তার খুব ইচ্ছা ছিল ) এমন অবদমন অবস্থায় নিজেকে সঁপে দেয়া সন্তানের জন্য ভীষণ ইতিবাচক হতে হবে।একটা অবদমন সে নিজের থেকে গ্রহন করতে পেরেছে সেই যোগ্যতায় তার সাথে সব দিক থেকে ইতিবাচক থাকতে হবে‌ ।
কিশোর কিশোরীদের সাথে কথা বলার সময় নিজেকে তার জায়গায় ভাবতে হবে।ঠিক বলেছ এটা ভালো।তবে আমার মনে হয় এখানে এই এই কারণে অসুবিধা আছে।এভাবে কথা বলতে হবে।অথবা বলতে হবে আমি তোমার দুঃখ টা একদম ঠিক বুঝতে পেরেছি।এখন এটা মনে হচ্ছে তাই না।আসলেই। আমিও তোমার জায়গায় ঠিক ওটাই করতাম। ভালো করেছ বলে পিঠে একটু হাত বুলিয়ে দিতে হবে।একটা চুমু দিলে কি সমস্যা? দেয়া তো যায়‌।
দরকার থাক আর না থাক চোখ মুখে আলো ছড়িয়ে বলা তো যায় আমার বাবা কত বড় হয়ে গেল।মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়া যায়।জজ ব্যারিস্টার বাবা হলেও ছেলেকে বলা যায় তোমার সাথে ঘুমাতে আমার খুব ভালো লাগে।বলে দেখেন কি হবে সেটা নাহয় আমি আর না বলি‌।
উন্নত দেশে থাকি বিধায় মনের পীড়ায় ডাক্তারের কাছে যাবার সুযোগ আছে। আমার কিশোরী মেয়ে মাঝে মধ্যে এখন ডাক্তারের কাছে যায়।সাথে আমাকেও নেয়।যাবার পর আমি ওকে যা বলি এক‌ই কথা সে ওখানে শুনে আসে। অবশ্য আমি বলি বাংলা আর ডাক্তার জার্মান ভাষা বলেন।হয়ত ওটা বেশী ভাষাগত দক্ষতার কারণে আমার মেয়েকে স্পর্শ করে‌।ফিরে এসে নিজে নিজেই যখন আমাকে আসলে কি হয়েছিলো বুঝিয়ে বলে আমার তখন আদর দিয়ে একটা কথা বলার সুযোগ এসে যায়‌।
আসলে জীবন সুন্দর।আমাদের ভাবনার ঘোলাটে অবস্থা থেকে সেখানে জটিলতা আসে। আমাদেরকেই আগে দোষমুক্ত হতে হবে‌।এই মুক্তিতেই আছে সব সুখ। ধন্যবাদ

 

লেখকঃ জার্মানি প্রবাসী লেখিকা, প্রাক্তন শিক্ষক ক্যম্ব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ( বাংলাদেশ),প্রাক্তন শরীরচর্চা প্রশিক্ষক
প্রাক্তন ছাত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,শিশু প্রতিপালন বিশেষজ্ঞ (প্যাডাগগ)
আরও পড়ুন