শিশুর ধাপে শিশুর বিকাশ হবে যেভাবে

মনিরা ইসলাম

ফুলে ফুলে ঢলে ঢলে বহে কি বা মৃদু বায়। শান্ত,ধীর স্থির, মোলায়েম কথার ধারণা পরিষ্কার করার মত একটা গান।
এমনকি এই গান শিশুকে গেয়ে শোনানো যাবে। এখানে এত বড় চিত্র কল্প আছে যা শিশুর বিকাশকে এতটাই শাণিত করে যে কথা বলা শিশু একসময় বাতাসে মৃদুমন্দ দুলতে থাকা ফুল দেখে সে বলে ওঠে,” মা ঐটাই কি সেই ফুলে ফুলে….”
আর এভাবেই আমাদের প্যারেন্টিং থেকে শিশুর বিকাশের ভিজুয়ালাইজেশন হয়ে থাকে।

যেহেতু শিশুর বিকাশ টিভির মত কোনো পর্দায় দেখার বিষয় না, তাই আমাদের বোধ শাণিত করতে হবে। শিশুর যোগ্যতা আর দক্ষতার সমন্বয় করতে হবে।বয়স অনুযায়ী যোগ্যতা খেয়াল রাখতে হবে। গতকাল কথা হচ্ছিল এক গর্ভবতী মায়ের সাথে।আর ক‌’টা দিন পর সে বাচ্চা পাবেইনশাআল্লাহ।সে বলল কথা বললে বাচ্চাটা নড়ে। চমৎকার। এখানে বাচ্চা বিকশিত হচ্ছে।আমরা তা দেখতে পাই না।তাই বুঝতেপারাটা বলবান করতে হবে।
আমি বলতে চাচ্ছি, শিশুর বিকাশ তার মাতৃগর্ভে থাকাকলীন  শুরু হ‌ওয়া একটা বিষয়।যাদের সুযোগ আছে তারা এই সময়ে সচেতন হতে পারেন।গর্ভের শিশুর সাথে কথা বলে তার বুদ্ধি ও ভাষাগত বিকাশে খুব ইফেক্টিভ ফল পাওয়া যায়।তাই জন্ম থেকে বা জন্মের আগে থেকে ছোট বাক্যে তার সাথে আলাপ করা খুব চমৎকার এক আয়োজন।

চমৎকার কথা আর গল্প শিশুর বিকাশের প্রথম উপাদান। জন্ম হলে তার হাত পা ম্যাসাজ করতে হবে ,কথা/ গল্প গুলো চালিয়ে যেতে হবে।না মুক্ত ছোট শব্দের কথা ও ছোট বাক্য শিশুকে উৎসাহী করবে।কারণ শিশুর পরিবেশ উৎসাহ ব্যান্জক না হলে তার বিকাশ ব্যাহত হয়।”না” শব্দ তার পরিবেশের উৎসাহ তে ঘাটতির প্রথম উপাদান।

“না” শব্দের সাথে শিশুর পরিচয় হলে এটা তাকে একেক বয়সে একেক ভাবে প্রতিক্রিয়া করায়‌। শিশুর রাগ জেদ এই “না” শব্দ থেকে পাওয়া বাঁধা থেকে তৈরী হয়। কাঁদবে না।এই কথার না শিশুর কাছে দূর্বোধ্য হয়।তাই সেটা ওজনে ভারী হয়‌ নবজাতক কান্না ছাড়া নিজের অন্য কোনো সংকেত দিতে
যোগ্য না।এ সময়ে তার যে হাসি সেখানে শব্দ নাই।তাই তার কান্না মানে” আমাকে সাহায্য কর”। বুঝতে হবে।

যত তাড়াতাড়ি সম্ভব না মুক্ত কথা বলার অভ্যাস করা একটা প্যারেন্টিং টিপ।থামো,রাখো,দাও শব্দ গুলো না শব্দের জায়গায় দিয়ে চমৎকার ফল আসবে ইনশাআল্লাহ।এমন বাচ্চা নিজের হাতের খেলনাও দিয়ে দিবে( যদিও এটা নেয়ার দরকার নাই ,তবু এই দিতে পারার ক্ষমতা তাকে বল দেয়া নেয়া খেলা উপভোগ করার যোগ্যতা দিবে। ন‌ইলে বাচ্চা বল বুকে চেপে নিয়ে বসে থাকবে।বল দেয়া নেয়া খেলা থেকে শিশু পার্টনার শীপ চিনতে শেখে। আমাদের জীবনে বহু ভাবে যা দরার।
আমি লিখতে বসলে কোথা থেকে কোথায় যাই ঠিক নাই। লক্ষ্য ছিল কথা বলাবলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।তা আর করছি ক‌ই! বয়স বেশী হলে যা হয়।একটা লিখতে নয়টা গল্প ভাবনায় চলে আসে।তো আসছি কথা বলায়।কথা শুনতে শুনতে শিশু ভাবে ভাষায় মজবুত হয়ে উঠে।দশমাস থেকে দুই বছর বয়সে ছোট ছোট কথা বলার সুযোগ খুঁজতে থাকে।একসময় সফল হয়।

বা দা তা এই ছোট্ট কথাগুলো সেটার প্রমাণ।তার আগে অবশ্য সে এ য়ি করেও অনেক বলেছে। আমার একটা ব‌ইয়ে আছে সব কথাতেই সে “বুয়ে” বলে। আর যত‌ই সে বুয়ে উয়ে বলুক না কেন তার চোখের দিকে তাকিয়ে আমাদের বলতে হবে,ঠিক বলেছ।হ্যাঁ ঠিক।এই যে ,বাবা।এই যে আমার জান।আমার কলিজা।এভাবে দুই শব্দের কথা তাকে উৎসাহ দিবে।এই বিকাশটাও দেখা যাবে ।সে খুশি হয়ে হাত পা ছুড়বে।

যে বিকাশ দেখা যাবে না সেটা ব্রেণের বিকাশ। ঘুমিয়ে থাকলে তার ব্রেণ বিকশিত হবে।আর এই বিকাশে আমাদের সারাদিনের কথা/ কাজগুলো ক্রিয়া করবে।তাই শিশু ঘুমিয়ে কাঁদে মানে তার জেগে থাকা সময়ের ভুল অভিজ্ঞতা/ নেতিবাচকতা।
বাচ্চাদের সাথে কথা বলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এর একটা জ্বলজ্বলে উদাহরণ হলো আমার বাচ্চা।সে কাঁদতে কাঁদতেও কথা বলত।তখন আমি জানতে পারতাম কি হয়েছে।ব্যাস সেটা ঠিক করে দিলেই সব ঠিক হয়ে যেতো।আমি তাকে পালন করিনি।কিভাবে তাকে পালন করব সে আমাকে শিখিয়ে নিয়েছে।সত্যি।সে তার বয়োসন্ধি সমস্যাকে সনাক্ত করেছে।তারপর আমি কি করব সেটা বলেছে।এটা আমার জীবনে বিরাট বিস্ময়।বিরাট।

শিশু যেহেতু শূন্য থেকে দশ বছর দ্রুত এবং পরে ধীরে ধীরে বিকাশের মধ্যে দিয়ে যায়।তার খেলনা,ব‌ই, শরীর চর্চা র দিকগুলো যথাযথ বিকাশ নিশ্চিত করার মত হতে হবে। সব বয়সে শিশু ও যুবা মানুষের জন্য জিমন্যাস্টিক জরুরী। এর ফলে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মজবুত হয় আর শিশুদের কোষবৃদ্ধি, এনার্জি বার্ণ,রক্ত সঞ্চালন,হজম সহ নানাবিধ ভিতরের বাইরের কাজ গুছিয়ে আসে।

লেখকঃ প্রবাসী লেখিকা, প্রাক্তন শরীরচর্চা প্রশিক্ষক ও শিশু প্রতিপালন বিশেষজ্ঞ (প্যাডাগগ)

আরও পড়ুন