সন্তানদের প্রতি আজেবাজে মন্তব্য না করা

জাহিদ হাসান

অনেক মা-বাবাই সন্তানদের প্রতি নানা রকম কমেন্ট বা মন্তব্য করেন।এতে ছেলে-মেয়েদের মন ছোট হয়ে যায়,তারা নিজেরা অপমানিতবোধ করে,কষ্ট পায়।তাদের নানা অপারগতার জন্য,দুষ্টামি ও বিভিন্ন রকমের ভুলের জন্য আমাদের উচিত সুন্দর করে বুঝিয়ে বলা।হঠাৎ তাদের কোন প্রশ্নে,কোন কাজে বা পরীক্ষার সম্ভাব্য নাম্বার না পেলে আমরা এমন কিছু মন্তব্য করে বসি যা একদম ঠিক নয়।এতে করে সন্তান এসব বাক্য নিজেরাও শিখে ফেলে এবং অন্যদের বলে বেড়ায়।
যুক্তরাষ্ট্রের চিলড্রেনস হসপিটাল অব উইসকনসিনের চিকিৎসক ডাক্তার কেনেথ এল গ্রিজেল তাঁর বৈজ্ঞানিক এক নিবন্ধে বলেন, ‘কৈশোরে মানসিক অশান্তির অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে মা-বাবার কোনো বিষয় নিয়ে “ঘ্যানঘ্যান” করা। সন্তানের প্রতি মা-বাবার এমন আচরণে ৯০ শতাংশ কিশোর-কিশোরী তাদের কৈশোরে কোনো না কোনো সময়ে মানসিক অবসাদ আর হতাশায় ভোগে।’

১৪ থেকে ২১ বছরের শতকরা ৭৬ ভাগ মানুষই মা-বাবার খুঁতখুঁতে আচরণের কারণে মা-বাবার ওপরে বিরক্তি প্রকাশ করে। এই বিরক্তির কারণে ৮০ শতাংশ সন্তানই বয়ঃসন্ধিকালীন সময়ে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে।’

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের ইন্ডিয়ান জার্নাল অব সাইকিয়াট্রিতে এক তথ্যে বলা হয়েছে, প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে মানসিক অবসাদ আর হতাশার হার বাড়ছে। ২০২০ সালের মধ্যে পৃথিবীতে মানসিক হতাশাগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

নিম্নে কমন কিছু ভুল বাক্য দেয়া হলো যা আমরা বলে থাকি এবং যা বলা থেকে আমাদের উচিত বিরত থাকাঃ
১.তোকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না।
২.তুই একটা গাধা।
৩.তুই আস্ত একটা গর্দভ।
৪.তুমি একটা গরু/বলদ।
৫.তোর মাথা ভরা গোবর।
৬.তুই একটা ফালতু ছেলে/মেয়ে।
৭.তুই একটা অসভ্য।
৮.শয়তানের হাড্ডি একটা।
৯.তোর চেয়ে ওমুক অনেক ভালো।
১০.তুই না হইলেই ভালো হইত।
১১.হওয়ার সময় মরে গেলে বাচতাম।
১২.তোর কারণে আমাদের জীবনটা শেষ।

এমন অনেক বাক্যেই আমরা রাগের জন্য সন্তানদের বলে থাকি।রাগ শয়তানের বড় একটা ফাদ।
রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
প্রকৃতপক্ষে সে ব্যক্তিই শক্তিশালী, যে রাগের সময় নিজেকে সংবরণ করতে পারে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৮০৯)
যারা রাগ সংবরণকারী এবং মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল; আর আল্লাহ মুহ্‌সিনদেরকে ভালবাসেন।(সূরা আলে ইমরান -১৩৪)
এসব থেকে অবশ্যই বুঝতে পারছেন আমাদের উচিত এমন বাক্য থেকে নিজেকে দূরে রাখা।

মনোচিকিৎসক ও গবেষকেরা সন্তানের সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য সচেতন মা-বাবা হিসেবে সন্তানকে নিজের মতো একটু সময় দিয়ে তাকে সহযোগিতার মনোভাব দেখানোর দিকে গুরুত্ব দেন।

সুতরাং, আপনার সন্তানের সমস্যা-দ্বিধা-অস্বস্তি আপনাকেই প্রথমে বুঝতে হবে। এ জন্য সন্তানের সঙ্গে যতটা সম্ভব বন্ধুসুলভ আচরণ করার চেষ্টা করুন।সন্তানের খারাপ দিক কিংবা ব্যর্থতার কথা সন্তানকে বারবার মনে করিয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। এতে সন্তানের হতাশা আরও বেড়ে যায়।

সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, দ্য জাগল ও পাওনিয়ার উইমেন

লেখকঃ প্যারেন্টিং বিষয়ে নিয়মিত কলাম লেখক

 

আরও পড়ুন