সন্তানের বয়ঃসন্ধিকালে মাদের করনীয়

সালমা তালুকদার

বৈচিত্র্যময় জীবন সবাই মেনে নিতে পারে না…বৈচিত্র্যময় জীবনের স্বাদ যারা পেয়েছে তাদের আবার একঘেয়েমি ভালো লাগে না…তাই যারা এক ভাবে জীবন যাপন করে জীবনের অনেকটা পথ পাড়ি দেয়,তার হঠাৎ ঝড়ে সামলে উঠতে পারে না অনেক সময়। সাঁতার জেনেও ডুবে মরে। অথবা হাবুডুবু খেতে খেতে তীরে পৌঁছোয়।

একজন নারীর জন্য বৈচিত্র্যময় জীবনটা সত্যি কঠিন। যদি সে একজন মা হয়ে থাকে। কারন সদ্য প্রস্ফুটিত ফুল অঙ্কুরেই বিনষ্ট হতে চায় না। সে নির্বিঘ্নে পাপড়ি মেলে গন্ধ ছড়াতে চায়। ভালোবাসা পেতে চায়। ভালোবাসা দিতে চায়। একজন মায়ের সন্তানেরাও ঠিক তাই।

ছেলেমেয়েদের বয়ঃসন্ধিকালটা বড় ভয়ানক। বাচ্চাগুলো নিজেরাও নিজেদের পরিবর্তন নিয়ে হিমশিম খায়। আর বাচ্চাদের এই পরিবর্তনে মায়েদের টেনশান বাড়তে থাকে। কভিডের এই কড়াল গ্রাসের কবলে পরে প্রাণগুলো সব ঝরে তো পরছেই। পাশাপাশি পরিবারগুলোতে বয়ঃসন্ধিকালে পা রাখা ছেলেমেয়েদের নিয়ে বাবা, মা সবার টেনশানে দিন কাটছে। এই সময়টায় ছোটবেলা থেকে শেখানো শিক্ষাটাও অনেক সময় কাজে লাগে না। সন্তানেরা সাঁতার জেনেও হাবুডুবু খায়। তীরে উঠার রাস্তাটা এরা ভুলে যায়। মন স্থির করতে পারে না কোনদিকে যাবে। পৃথিবীটা নতুন রুপে ধরা দেয়। সব মিলিয়ে এতদিনের আপন ভেবে আসা পরিবারটিকে শত্রু  মনে হয়। আর সন্তানের এই পরিবর্তন সামলাতে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় একাকী চলা মায়েদের। কারন এরা সমাজ সংসার পরিবার সামলে সন্তানের এই পরিবর্তনে হিমসিম খেতে থাকেন।

সেসব মায়েদের জন্য পরামর্শ, এত অস্থির হওয়ার কিছু নেই। শুধু ওদের গতিবিধি লক্ষ্য রাখেন। স্যোসাল মিডিয়া, ইন্সটাগ্রাম, টিকটকে কি করছে। কতটুকু সময় দিচ্ছে সেদিকে লক্ষ্য রাখেন। পরিস্থিতি বুঝে ওদের পাশে বসে এখনকার কভিড পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে খবরাখবর জানার মাধ্যমে আপনি নিজে আপডেট থাকেন। তাহলে সন্তানের সাথে কথা বলার সময় ওর মনে চলতে থাকা প্রশ্নগুলোর উত্তর সে আপনার কথার মাঝে খুঁজে পাবে। আপনাকে শ্রদ্ধা করবে। আপনার উপর আস্থা জন্মাবে। এই সময়ে সরাসরি কোন কাজে বাধা দিয়ে কিছু করতে পারবেন না। সন্তানের কোন আচরণ খারাপ লাগলে তার সামনে অপশন রাখেন। নিজে নিজে বোঝার সময় দিন কোনটা ভালো কোনটা খারাপ। নয়তো আপনি যতই চিৎকার করেন আপনার সন্তানকে তার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের চেহারা আপনি কখনোই দেখাতে পারবেন না। ওর সাথে দুষ্টমি করেন। সেই সাথে আপনি আপনার জায়গায় দৃঢ় থাকবেন যে, এই বিষয়টা খারাপ মানে খারাপ। এবার তুমি চিন্তা করো তোমার মা কেন এখানে এতটা কঠিন।

যাই হোক এটা কেবল একটা সূত্র। মায়েদের মাথা ঠান্ডা থাকলে এই পরিস্থিতিতে কি করে নিজের সন্তানকে ভালো রাখা যায়, এই বিষয়গুলো আরো ভালোভাবে মনে আসবে। তবে বয়ঃসন্ধিকালের এই বাচ্চাদের নিয়ে কাজ করতে হলে নিজেকে যে কোন পরিস্থিতিতে ঠান্ডা থাকতে হবে। একদম মাথা গরম করা যাবে না। নিজে অস্থির থাকলে সন্তানের অস্থির মস্তিষ্ক নিয়ে কাজ করা কঠিন হয়ে পরবে।

আল্লাহপাক সবাইকে ভালো রাখুন। যে কোন কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় ধৈর্য্য ও সাহস দিন। সঠিক ও সুন্দর ভাবে জীবন যাপন করার তওফিক দান করুন। আমিন।।

১১ জুলাই, ২০২১ ইং,যাত্রাবাড়ী

সন্তানের বয়ঃসন্ধিকালে মাদের করনীয়

লেখকঃ কবি, সাহিত্যিক ও স্পেশাল এডুকেটর

সন্তানের বয়ঃসন্ধিকালে মাদের করনীয় লেখার সাথে লেখকের আরও পড়ুন-

প্রতিটি মানুষই ভালো, প্রতিটি মানুষই খারাপ

 

আরও পড়ুন