সন্তান লালন-পালনে যেভুলগুলো করবেন না (পর্ব-৬)

জিনাত জিনু

ঘটনা ১

রাত ৯টা খাবার টেবিলে সুহানি, সুহানির বাবা ডাঃআসিফ ও মা ডাঃতাহমিনা খেতে বসেছেন। সারাদিন পর এসময়ই তাদের দেখা হয়।আজকাল আলোচনার মূল বিষয় হলো “সুহানি মেডিকেল কোচিং ঠিকভাবে করছে কিনা?সে কোন মেডিকেলে পড়তে চায়?এসব নিয়েই আলোচনা। সুহানি অনমনে খাবার নাড়াচাড়া করছে। এসব আলোচনা তার ভালো লাগেনা।ছোটবেলা থেকেই সে মা বাবার ইচ্ছেটা শুনছে। তারা চান সুহানি ডাক্তার হবে।কিন্তু কলেজে ভর্তির পর থেকে সুহানি নিজের ভবিষ্যৎ ইচ্ছে টা বুঝতে শুরু করেছে। তার ইচ্ছে সে শিক্ষক হবে।ঢাবিতে ভালো একটা বিষয়ে পড়াশুনা করবে।প্রতিদিন সে কোচিং এ যায়  ঠিকই কিন্তু ক্লাস তার ভালো লাগেনা। বাসায় পড়তেও ভালো লাগে না। সুহানি একথাটি আব্বু বা মাকে বলতেও পারছে না।আজকাল তার কিছু ভালো লাগে না, বন্ধুদের আড্ডা, মা বাবার কথা,পড়াশোনা কিছুই ভালো লাগে না। সারাক্ষণ রাগ আর অভিমান জমে থাকে মনে।খাবার অসমাপ্ত রেখেই সুহানি তার কান্না লুকাতে ঘরে চলে যায়।

ঘটনা – ২

তিথির আজ মন খারাপ।সে তার বিলাসবহুল বেডরুমে শুয়ে আছে।হঠাৎ  ২বছর আগের এক আলো ঝলমলে সন্ধ্যায় কথা মনে হলো তার।সেদিন তিহানের কেজি ক্লাসে প্রথম হওয়ার দিনটি উৎযাপন করছিলো তারা।তিহান সব বিষয়ে শতভাগ নাম্বার নিয়ে প্রথম হয়েছে। সব অতিথি তিহানকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে ও উপহার দিচ্ছে।সেদিন তিথি আর কবির সাহেবের কি আনন্দ আর গর্ব ছিলো। তারা ছেলের কোনো বায়নাকে অপূর্ণ রাখেন না।তিহানের জন্য ট্যাব আছে, কম্পিউটার আছে, দামি খেলনা আছে। আরো ভালো রেজাল্ট করার জন্য স্কুলের পর হোম টিউটর রাখা হয়েছে, আলোহাতে ভর্তি করা হয়েছে, আর্ট স্কুল আছে,বাসায় গানের টিচার আছে, হুজুর রেখেছেন,ভালো স্কুলে পড়ছে।সব কিছুর পরও তিহান ক্লাস টুতে রেজাল্ট ভালো করেনি,সে এবার প্লেস এ নেই। ভাবতেই তিথির চোখে পানি চলে আসছে। আসিফ ও তিথি আজ অনেক বকেছে ছেলেকে।ছেলে আজ না খেয়েই  ঘুমিয়ে গেলো।তিথি ভাবছে, ক্লাস ওয়ানে তবু ৫ম হয়েছিল, তিনি ওর পড়ার প্রেশার আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন তবুও ছেলেটা এমন রেজাল্ট করলো?

জিনাত জিনু – সাহিত্যিক।

আরও পড়ুন