সুসন্তান তৈরিতে পিতার ভূমিকা

হাবিবা মুবাশ্বেরা

It is not flesh and blood but the heart which makes you a father.

কথাটি একদমই যথার্থ। সন্তানের সঙ্গে মায়ের সম্পর্ক যদি হয় নাড়ির তবে বাবার সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক হলো আত্মার। একজন মা তার সন্তানকে দশ মাস গর্ভে ধারণ করেন এবং পরবর্তীতে দুই বছর মাতৃদুগ্ধ পান করান বলে মায়ের সাথে সন্তানের একটি শারীরিক অন্তরঙ্গতা প্রকৃতিগতভাবেই গড়ে ওঠে। অন্যদিকে বাবার সঙ্গে সন্তানের প্রত্যক্ষ শারীরিক সম্পৃক্ততা থাকে না বলে আত্মিক একটা সম্পর্ক গড়ে তুলতে হয় নিজস্ব প্রচেষ্টায়। সুসন্তান তৈরিতে ভূমিকা রাখার জন্য তাই প্রতিটি বাবারই উচিত সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালনের পাশপাশি তার সঙ্গে একটি হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে সচেষ্ট হওয়া।

‘বাবা’ মানেই গুরুগম্ভীর একজন, যিনি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অর্থ উপার্জনের জন্য ব্যস্ত থাকেন, প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে শাসন করেন, যার কাছে কোনও আবদার, অনুরোধ করতে হলে মাকে `Via’ হিসেবে ব্যবহার করতে হয়, সন্তানের প্রতি ভালোবাসা, দুশ্চিন্তা—এই জাতীয় আবেগ গুলোকে যিনি ব্যক্তিত্বের আড়াল দিয়ে ঢেকে রাখেন—`বাবা’ শব্দের সাথে জড়িত এই প্রচলিত ধারণাগুলোকে পরিবর্তন করা এখন সময়ের দাবী। কারণ আমাদের পারিবারিক কাঠামোটা এখন ছোট হতে হতে এমন এক পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে যেখানে পরিবারের সদস্যসংখ্যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তিন বা চার জন। আগের মতো যৌথ পরিবার না থাকায় এবং ভাই-বোনের সংখ্যা কম হওয়ায় শিশুরা এখন ছোট থেকেই নি:সঙ্গতা নিয়ে বেড়ে ওঠে। একটা সময় ছিল যখন সমবয়সী কাজিন বা নিজের ভাই-বোনদের বিশাল গ্রুপের মধ্যে বড় হতো বলে শিশুদের বাইরের বন্ধুদের খুব একট দরকার পড়তো না। কিন্তু আজকাল স্কুলে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত শিশুরা বন্ধু হওয়ার মতো তেমন কাউকে পায় না। তাই প্রতিটি শিশুর ঘরের ভিতর একজন সঙ্গীর প্রয়োজন হয় যার সাথে সে তার মনের অনূভূতিগুলো শেয়ার করতে পারে। আর মনের এই অনূভূতি শেয়ার করার একজন উপযুক্ত সঙ্গী হতে পারেন একজন বন্ধুবৎসল বাবা। 

বাবার সঙ্গে সন্তানের আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করতে হয় সন্তান যখন মায়ের গর্ভে আসে তখন থেকেই। গর্ভাবস্থায় প্রতিটি মাকে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক কষ্টের মধ্যে দিনযাপন করতে হয়। একজন বাবার পক্ষে যদিও মায়ের শারীরিক কষ্ট শেয়ার করা সম্ভব নয় তবে মানসিকভাবে এসময় একজন মাকে সাপোর্ট দেয়া একজন  বাবার অবশ্য কর্তব্য। প্রতিবার চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার সময় সঙ্গী হওয়া, নিয়মিত পুষ্টিকর খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ঔষধ খাওয়ার ব্যাপারে তদারকি করা, মায়ের মনকে প্রফুল্ল ও নির্ভার রাখার চেষ্টা করা—এই জাতীয় ছোট ছোট বিষয়গুলোতে যত্নবান হলে একদিকে যেমন হবু বাবার নিজেকে সন্তান জন্মদান প্রক্রিয়ার একজন অংশীদার মনে হবে অন্যদিকে তেমনি  অনাগত সন্তানের জন্য তার মনের ভিতর একধরনের টান তৈরি হবে।

 তাছাড়া এ কথা বৈজ্ঞানিকভাবেও প্রমাণিত যে, ৬-৭ মাস  পর থেকেই একজন মাতৃগর্ভস্থ শিশু বাইরের মানুষদের কন্ঠস্বর শুনতে পারে। এসময় মা ছাড়া অন্য যে কন্ঠটি তার সবচেয়ে বেশি শোনা উচিত তা হলো তার বাবার কন্ঠ। তাহলে জন্মের পর সে যেমন শরীরের গন্ধ থেকে তার মাকে চিনতে পারে তেমনি বাবার কন্ঠস্বর শুনেও অনুভব করতে পারে যে এটা তার  অতি পরিচিত আপন কেউ। এরপর মা যেমন শিশুকে খাওয়ানোর দায়িত্ব পালন করে তেমনি বাবা যদি তাকে পরিস্কা-পরিচ্ছন্ন রাখা, পোশাক পরিবর্তন করানো্ এবং ঘুম পাড়ানোর মতো কাজগুলো নিয়মিত করেন তবে এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শারীরিক স্পর্শগুলো শিশুকে একধরনের sense of security দেয়। সেই সাথে বাবার সাথে সন্তানের আত্মিক সম্পর্ক তৈরের প্রাথমিক ভিত্তিও স্থাপিত হয়। Every single physical touch reaches to the child’s heart and gives him/her feelings that this person is someone very special for him/her.

সন্তানের বয়স যখন ১-২ বছর হয় তখন বাবার উচিত মাঝে মাঝেই সন্তানকে নিয়ে বাইরে ঘুরতে যাওয়া। মাতৃগর্ভের নিরাপদ আশ্রয় ছেড়ে আসার পর এই পৃথিবীর সৌন্দর্য ও পন্কিলতা উভয়ের সাথেই পরিচয় করানোর প্রথম গাইড হিসেবে বাবার চেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি আর কে হতে পারে? শিশু যখন তার টলমল পায়ে হাঁটতে গিয়ে বার বার পড়ে যায় তখন তাকে হাত ধরে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করা এবং আবারও  এগিয়ে যাওয়ার জন্য সাহস যোগানোর জন্য বাবাই হতে পারেন সবচেয়ে বিশ্বস্ত সঙ্গী। 

এরপর শিশু যখন কথা বলতে শেখে তখন বাইরে বের হলে তাঁর “ কি, কোথায়, কেন, কখন, কিভাবে” এই জাতীয় WH প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়ার দায়িত্ব কিন্তু বাবার। শিশুদের এসব  প্রশ্নে বিরক্ত না হয়ে কিংবা কোনো মতে দায়সারাভাবে উত্তর না দিয়ে বরং তাদেরকে তাদের বয়স উপযোগীভাবে বুঝিয়ে বললে তারা নিজেদেরকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে এবং তাদের মধ্যে curiosity develop করে। শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের জন্য এই কৌতূহলপ্রবণতা খুব জরুরী।

শিশুদের ক্ষেত্রে আরও একটি common বিষয় হচ্ছে সব শিশুই অনুকরণপ্রিয়। তারা বাবা’মার সব আচরণকে পর্যবেক্ষণ করে এবং নিজের অজান্তেই অনুকরণ করে। তাই সন্তানের সাথে বাইরে বের হলে বাবার নিজের আচরণগত কিছু বিষয়ে অবশ্যই সতর্ক হওয়া উচিত। যেমন-যানবাহনে চলার সময়  রিক্সাওয়ালা, সিএনজি বা বাস ড্রাইভারের সাথে শালীন ভাষায় কথা বলা,নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের সাথে সম্মানজনক আচরণ করা, রাস্তা-ঘাটে ভিক্ষুক, হকার, পথশিশু বা অন্যান্য ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের সাথে রুঢ় ব্যবহার না করা প্রভৃতি। বাবাদের একটা কথা মনে রাখা দরকার যে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিশুরা তাদের জীবনের প্রথম গালি বা মারামারি তাদের বাবার কাছ থেকেই শেখে। তাই ভবিষ্যতে নিজেদের পারিবারিক সম্মান রক্ষার জন্য হলেও বাবাদের এসব বিষয়ে সতর্ক হওয়া দরকার।

 সন্তান যখন  স্কুলে যাওয়া শুরু করে তখন প্রতিটি বাবার উচিত দিনের শেষে অন্তত একবারের জন্য হলেও (রাতের বেলা ডিনার করার সময় ডাইনিং টেবিল হতে পারে আলোচনার উপযুক্ত স্থান) শিশুদের সাথে স্কুলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ করা। পারিবারিক গন্ডীর বাইরে গিয়ে স্কুলেই শিশুরা প্রথম  ভিন্ন ভিন্ন পরিবার থেকে আসা ভিন্ন ভিন্ন মানসিকতার মানুষদের সাথে পরিচিত হয়। স্বাভাবিকভাবেই সহপাঠীদের সাথে adjust করতে তাদের বিবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এসময় বাবা যদি সন্তানকে ক্ষমাশীলতা, অন্যের মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা এবং সর্বোপরি দলবদ্ধভাবে কাজ করার উপকারিতার সম্পর্কে ধারণা দেন তবে পরবর্তীতে  সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার প্রাথমিক পাঠ সে পরিবার থেকেই পেয়ে যায়। এছাড়া পড়াশোনার ক্ষেত্রেও শুধুমাত্র বেতন, কোচিং ফি দিয়ে দায়িত্ব শেষ না করে বাবার উচিত নিয়মিতভাবে সন্তানের ফলাফল সম্পর্কে আপডেট নেয়া।

 শুধ একাডেমিক বিষয়ে নয়, সুস্থ বিনোদন চর্চার ক্ষেত্রেও বাবার ভূমিকা রয়েছে। এই জেনারেশনের বাচ্চাদের জন্য খেলার মাঠ নেই বললেই চলে। বাধ্য হয়ে তারা মোবাইল বা  ট্যাবে ভিডিও গেমস খেলে কিংবা টিভিতে কার্টুন দেখে । যার পরিণতিতে তারা স্ক্রিন এডিকটেড ,স্থূলকায় আর চোখে চশমা নিয়ে বড় হচ্ছে। বাইরে যাওয়া বলতে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে খাওয়া কিংবা থিম পার্কগুলোতে একই ধরনের রাইডগুলোতে বার বার চড়ার মধ্যেই বিনোদন সীমাবদ্ধ। অথচ বাবারা ইচ্ছা করলেই তাদের সন্তানদের নিকটস্থ লাইব্রেরির সদস্য করে দিতে পারেন এবং মাসে অন্তত একবার প্রকৃতির সান্নিধ্যে বেড়াতে নিয়ে যেতে পারেন। বই ও প্রকৃতির সান্নিধ্য শিশুদের মধ্যে চিন্তাশীলতা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটাবে।

এবার আলোচনা করা যাক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ধর্মীয় নিয়ম পালনে বাবার ভূমিকা নিয়ে। বর্তমানে নৈতিক অবক্ষয়ের যে চরম প্রান্তে আমরা পৌঁছে গিয়েছি তা থেকে নিজের সন্তানকে নিরাপদ রাখার একমাত্র উপায় হচ্ছে তাদের মধ্যে শৈশবেই  ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রোথিত করা। ধর্ম পালন যে শুধু নামাজ, রোজা, হজ্জ বা কুরআন পড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি কাজে আল্লাহকে স্মরণ করলে শয়তানের প্ররোচনা থেকে নিজেকে হেফাজত রাখা যায় এই ধারণা সন্তানকে দেয়া খুব জরুরী। 

ঘরের বাইরে বের হওয়ার সময় আয়াতুল কুরসী পড়া, ঘরে ঢোকার সময় সালাম দেয়া, রাস্তায় জ্যামে বসে থাকলে যিকির করা ,দরূদ পড়া, ঘুমাতে যাওয়ারে আগে ইস্তিগফার করা—-এই জাতীয় ছোট ছোট  আমলগুলো যদি বাবা নিজে করেন তবে তাঁর দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে সন্তান নিজেও এই কাজগুলোতে উৎসাহী হয়। এছাড়া জামাতে সালাত আদায় করতে মসজিদে নিয়ে যাওয়া এবং মাসে একবার হলেও কবরস্থান নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব বাবাকেই পালন করতে হবে। ( ছেলে শিশুদের ক্ষেত্রে) বাবা যখন সন্তানের সামনে তাঁর মৃত আত্মীয়দের জন্য দুআ করবেন তখন সন্তানের  মনেও্র ভবিষ্যতে বাবার জন্য দুআ করার আত্মিক অনুভূতি তৈরি হবে। 

তবে শুধু ঘরের বাইরে নয়, ঘরে থাকাকালীনও বাবার কিছু কার্যকলাপে সন্তানদের মনে প্রভাব ফেলে। যেমন বাবা যদি সন্তানের সামনে ধুমপান করে বা টিভিতে অশ্লীল সিনেমা ,গান,নাচ দেখে তবে সেই সন্তান বড় হয়ে মাদক বা পর্ণে আসক্ত হলে তখন বাবার পক্ষে তাকে শাসন করার নৈতিক জোর থাকে না। কারণ সময়ের সাথে প্রযুক্তির কল্যাণে অন্য সব বিষয় যেমন আপডেট হচ্ছে তেমনি  পাপের ব্যাপ্তিও বাড়ছে। আমাদের জেনারেশনে যে বিষয়গুলো আপাতদৃষ্টিতে সহনশীল মাত্রায় ছিল পরবর্তী প্রজন্মে সেগুলো মারাত্মক পাপে পরিণত হচ্ছে। তাই পরিবার থেকেই পাপ-পূণ্য সম্পর্কে ধারণা দেয়াটা খুব জরুরী। 

আর এই ব্যাপারে বাবা-মা উভয়ের মনোভাব একই রকম হওয়া জরুরী। দুনিয়াবী অনেক বিষয়ে হয়তো বাবা-মা’র মধ্যে মতের অমিল হতে পারে ( সন্তানের জন্য মা-বাবা উভয়ের পজিটিভ সাপোর্ট অনেক সময় তাকে অহংকারী করে তোলে আবার উভয়ের নেতিবাচক মনোভাব তাকে হীনমন্যতায় ভোগায়।, তাই অন্তত একজনের সাপোর্ট তাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।) তবে ধর্মীয় বিষয়গুলোতে মা-বাবার উভয়ের একত্রে অনমনীয় মনোভাব প্রদর্শন করা উচিত। তাহলে সন্তান পরকালীন ব্যাপারের গুরুত্বটা অনুধাবন করতে পারবে ।

সন্তান যখন তারুণ্যে পৌঁছায় তখন বাবার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো ছেলে এবং মেয়ে উভয় সন্তানকেই হালাল -হারাম উপার্জনের ব্যাপারে ধারণা দেয়া। আমাদের সমাজে একটা অলিখিত নিয়ম আছে যে, ‘মেয়েদের বয়স আর ছেলেদের বেতন জিজ্ঞেস করতে হয় না।’— পৌরষত্ব বজায় রাখার এই ভুল পদ্ধতিতে চলতে গিয়ে  অনেক বাবাই হারাম উপার্জনের পথে পা বাড়ান। নিজের আর্থিক অসামর্থের কথা জানতে পারলে স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের কাছে নিজের মূল্য কমে যাবে এই মানসিকতা পরিহার করে আধুনিক বাবাদের উচিত নিজের হালাল ইনকাম সম্পর্কে সন্তানদের ধারণা দেয়া এবং সেই অনুযায়ী life style maintain করার ব্যাপারে তাদের অভ্যস্ত করা। এর ফলে ভবিষ্যতে পুত্র সন্তান যেমন নিজেও হালাল উপায়ে উপার্জনের ব্যাপারে সতর্ক থাকবে তেমনি কন্যা সন্তানও তাঁর ভবিষ্যত জীবনসঙ্গীকে হালাল পথে থাকার জন্য অনুপ্রাণিত করতে পারবে।

এককথায় বলা যায়, পিতা যখন সন্তানদের জীবনের goal set করতে উদ্বুদ্ধ করবেন তখন যদি শুধু দুনিয়াবী সাফল্যকে highlight করেন তবে সন্তান বৈধ-অবৈধ যেকোন উপায়ে সেই সাফল্য পেতে আগ্রহী হতে পারে । কিন্তু তাদেরকে যদি এই শিক্ষা দেয়া যায় যে, দুনিয়ার জীবনটা ক্ষণস্থায়ী , এখানে মানুষ যে profession এই থাকুক না কেন , তা  কেবল পরকালীন জীবনে চিরস্থায়ী সাফল্য পাবার মাধ্যম মাত্র— তবে সন্তানরা যে কোন পেশাতেই সততার সাথে কাজ করবে।

 এভাবে দুনিয়াবী ও দ্বীনি উভয় ধরনের শিক্ষা দেয়ার পরও সন্তান যখন জীবিকার প্রয়োজনে দূরে চলে যায় তখন  সে পথভ্রষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অবান্তর নয়। তাই পিতার যে দায়িত্বটা আমৃত্যু পালন করে যাওয়া উচিত তা হলো, সন্তানের জন্য দুআ করা। যে পাঁচ ব্যক্তির দুআ আল্লাহ কখনও ফিরিয়ে দেন না, তার মধ্যে একটি হলো সন্তানের জন্য পিতার দুআ। তাই পিতার দুআ হতে পারে সন্তানের জন্য রক্ষাকবচ।।

 

সবশেষে  সব বাবাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, মহান আল্লাহ আমাদের সন্তানদেরকে আমাদের কাছে আমানত হিসেবে  পাঠান। এই আমানতকে সঠিকভাবে প্রতিপালন করে নিজেদের জন্য সাদকায়ে জারিয়া হিসেবে তৈরি করা এবং একজন productive muslim এ পরিণত করার চেষ্টাই সব বাবার ultimate target  হওয়া উচিত। তা না হলে সন্তানকে তথাকথিত ‘মানুষ’ করার জন্য সারাদিনের উদয়াস্ত পরিশ্রম শেষ পর্যন্ত পন্ডশ্রমে পরিণত হবে।

Let every father be a middle door between a child and Jannat . Ameen.

হাবিবা মুবাশ্বেরা সাহিত্যিক।

আরও পড়ুন