কিভাবে গড়ে তুলবেন শিশুর খাদ্যাভ্যাস ?

রাবেয়া উম্মে মারিয়াম

আমাদের বাচ্চাদের খাওয়া নিয়ে কমপ্লেইনের শেষ নেই। মাদের চাইতে যেন তাদের চারপাশের “শুভাকাঙ্ক্ষী” দের চিন্তা বেশি- বাচ্চা এত রোগা কেন। মা হওয়ার পর থেকে গত ছয়-সাত বছর ধরে আমাদের বাসায় ছুটা কাজে আসা মেয়েটি থেকে শুরু করে যত মা পেয়েছি জানতে চেয়েছি তাদের বাচ্চাদের খাদ্যাভাস সম্পর্কে। স্মৃতিশক্তি খারাপ না, এমন কিছু পুরনো মা’র কাছ থেকেও ইনফরমেশন কালেক্ট করেছি। কিছু মায়ের বাচ্চারা বেশ স্বাস্থবান (মাশাআল্লাহ)। আবার কারো বাচ্চা আমারগুলির মতোই রোগা অথচ রুগ্ন না, বরং যথেষ্ট অ্যাক্টিভ আলহামদুলিল্লাহ্‌। তো এদের সাথে কথা বলে, এই বিষয়ে টুকটাক পড়াশোনা করে যা জেনেছি তা থেকে দশটা “উপদেশ” এই গ্রুপের মা দের জন্য শেয়ার করছি ইনশাআল্লাহ।

১। গ্রামে অথবা বস্তিতে বড় হওয়া বাচ্চারা শহুরে বাচ্চাদের মত খাবার নিয়ে তেমন কোন ঝামেলা করে না। এদের ইমিউনিটি বা রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা অসাধারণ। শারিরীকভাবেও এরা আদরে লালিত শহুরে বাবুদের চাইতে তুলনামূলকভাবে ফিট থাকে।

২। সবসময় বাচ্চাদের মাদের নিজের হাতে খাইয়ে না দিয়ে তাদের নিজেদের হাতে খেতে দিন। খাবার নিয়ে জোরজবরদস্তি নয়, যা সে খেতে পছন্দ করে তা-ই খেতে দিন। পুষ্টিকর খাবারগুলোকে তাদের পছন্দনীয়/ এনজয়েবল করে তুলুন।

৩। খাবারের পরিমাণ নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে বাচ্চারা সুস্থ আর সবল আছে কি না, অল্প খেয়ে হলেও প্রয়োজনীয় পুষ্টিটুকু পাচ্ছে কি না – সেদিকে নজর দিন।

৪। বাচ্চাদের ছয় মাস হয়ে গেলে ওদের আমরা যা খাই তা-ই খেতে দিব। দাঁত না ওঠা পর্যন্ত স্ম্যাশ করে দিব। প্রয়োজন হলে মুগ ডাল, আতপ চাল, সিজনাল সবজি আর কয়েক ফোঁটা সয়াবিন/জয়তুন তেল দিয়ে খিচুড়ি। এছাড়া টুকটাক ফল, ফলের জুস – এসব তো আছেই। প্রথমেই সেরেলাক বা বাইরের যে কোন খাবার দেয়া থেকে বিরত থাকুন।

৫। বড় বাচ্চাদের ক্ষেত্রে দোকানের চিপস, চকলেট, চানাচুর, দোকানের ফাস্টফুড, আর্টিফিশিয়াল ফ্লেভার দেয়া জুস, কার্বনেটেড ড্রিংকস ইত্যাদি পরিহার করুন।

৬। খাবার খাওয়ার সময় টিভি/স্মার্টফোন/পিসি থেকে দূরে রাখুন। নিতান্তই অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে খেতে না চাইলে যদি খাইয়ে দিতেই হয় তবে হাতে ছবির বই, খেলনা ধরিয়ে দিন; শিক্ষামূলক মজার কোন গল্প শোনান। খাবারের প্লেইট হাতে বাচ্চার পেছন পেছন ছুটে বেড়ানোর মত বোকামি কখনোই নয়।

৭। বাচ্চা একেবারেই খেতে আগ্রহ প্রকাশ না করলে তাকে না খাইয়ে রাখুন। ক্ষুধা লাগলে এমনিতেই খাবে। অনেক সময় আমাদের বড়দেরও বিভিন্ন কারণে খাওয়ার রুচি চলে যায়, তাই না?

৮। সম্ভব হলে বাচ্চাকাচ্চাসমেত পরিবারের সবাই একসাথে খেতে বসুন, ছয়-সাত মাস বয়সী পুচকুটার সামনেও খাবারের থালা রাখুন। মুখ-হাত-পা মেখে যেভাবে খুশি তাকে খেতে দিন। হ্যা, কয়েকদিন পরিষ্কার করতে কষ্ট হবে আপনার, তবে ভবিষ্যতের শান্তির কাছে এটুক কষ্ট কিছুই না। ট্রাস্ট মি। একবার নিজের হাতে ঠিকমত খেতে শিখে গেলে শান্তি আর শান্তি।

৯। অসুস্থ অবস্থায় যে কোন বাচ্চা খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেয়, ওজন কমে যায়। এতে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। সুস্থ হয়ে গেলে আবার রুচি ফিরে আসে।

১০। আপনজনদের কাছ থেকে পাওয়া সিনসিয়ার অ্যাডভাইসগুলো হাসিমুখে গ্রহণ করুন – মানা না মানা আপনার ব্যাপার। যে কোন ক্রিটিসিজম/খোঁচা মারা কথা উপেক্ষা করুন। টিপিক্যাল শহুরে মাদের মত বাচ্চার খাওয়া নিয়ে অহেতুক নিগেটিভ চিন্তা বাদ দিন।
পরিশেষে, নতুন মা’দের আমি আবারো অনুরোধ করছি বাচ্চাদের খাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা বাদ দিয়ে দিন

আরও পড়ুন