শিশুর মানসিক বিকাশে বাবা মার ভূমিকা!

মোসা নাসরিন সুলতান

আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ! একটা শিশু কীভাবে বড় হবে, তার মানসিক বিকাশ হচ্ছে কি না? ঠিক মতো যত্ন নিচ্ছি কি না? এমন হাজার প্রশ্ন থাকে প্রতিটি বাবা মার! একটা শিশুর মানসিক বিকাশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে বাবা, মা! কারণ প্রতিটি শিশু জন্ম গ্রহণ করার পর বড় হয় তার বাবা ও মার কাছে! কিছু হয়ত ব্যাতিক্রম আছেন ভিন্ন কারণে! বাবা, মার আচার, আচরণ, কথা ভার্তা, সবকিছুর উপর প্রভাব ফেলে সন্তানের বড় হওয়া! শিশুরা সবচেয়ে বেশি অনুকরণ প্রিয়! আপনি যা করেন সে, সেগুলোকে অনুসরণ করতেই পছন্দ করে আর সেজন্যই বলা হয় শিশুর মানসিক বিকাশে বাবা, মার কোন বিকল্প নেই!

তাহ‌লে জেনে নেই কি করে আপনি আপনার সন্তানের মানসিক বিকাশ এ সাহায্য করতে পারেন?????

আচার-আচরণের মাধ্যমে

আপনার আচরণের উপর নির্ভর করে শিশুর আচরণ কেমন হবে? আপনি যদি পরিবারের অন্য সদস্যের সাথে খুব সুন্দর আচরণ করেন তা হলে সেও সেটাই শিখবে! আর যে পরিবারের স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে ভাল সম্পর্ক থাকে তাদের সন্তান হবে শান্ত শিষ্ট ও স্বাভাবিক আর যারা নিয়মিত ঝগড়া করেন তাদের সন্তান হয় খুবই অশান্ত! তাই সন্তানের কথা চিন্তা করে হলেও আমাদের উচিত পরিবারের সবার সাথে সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখা!

শিশুকে স্বাধীন ভাবে বেড়ে উঠতে দেওয়া

শিশুকে স্বাধীন ভাবে বেড়ে উঠতে দেওয়া

আমরা অনেকেই আছি বাচ্চা যাই করে শুধু না করি! এটা ধরা যাবে না, এটা করা করা যাবে না, এটা বলা যাবে না ইত্যাদি! এটা কোন ভাবেই ঠিক না!!! কিন্তু আপনি যদি ওকে ওর স্বাধীন ভাবে সব করতে দেন তাহলে সে শিখবে খুব দ্রুত, আপনি শুধু লক্ষ্য রাখবেন নষ্ট হয়ে যাবে এমন জিনিস তাদের হাতের নাগালের বাহিরে রাখতে! একটি বাচ্চা যখন হাটি হাটি পা পা করে বড় হয় তখন তাকে নিজে নিজে খেতে দিবেন, হয়ত নষ্ট করবে তবুও দিবেন এবং তাকে জানাবেন খাবার নষ্ট করা উচিত নয়! ওদের জন্য একটা বোর্ড বা দেওয়াল বা ফ্লোর দিবেন যেখানে সে ইচ্ছা মতো আকাঁজোকা করতে পারে! দেখবেন তখন তাদের মনটা হবে খুলা আকাশের মতো বিশাল!!!

খাওয়ার স্বাধীনতা

খাওয়ার স্বাধীনতা

বেশিরভাগ বাবা মা বাচ্চাদের নিজেরা খাওয়ায়ে দেন যাতে খাবার নষ্ট না করে কিন্তু এতে বাচ্চাদের মানসিক বিকাশে বাধা গ্রস্ত হয় আপনি যদি ওদের ইচ্ছা মতো খেতে দেন তাহলে মানসিক বিকাশ এর সাথে সাথে তাদের খাওয়ার দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে! এছাড়া যদি বেশি ভাইবোন থাকে তখন তাদের আলাদা খাবার না দিয়ে একসাথে খেতে দিবেন! যেমন আপনার সন্তান যতজনই হোক একটা চিপস এনে একটা বাটিতে সবাইকে একসঙ্গে খেতে দিবেন তাহলে এদের মধ্যে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধ সুন্দর হবে! এছাড়া আপনি দেখবেন আপনার সন্তান তিন থেকে সারে তিন বছরেই সে নিজে নিজে খেতে শিখবে !

ঘুমের সময় গল্প ও গান বলা

ঘুমের সময় গল্প ও গান বলা

সারা দিন আপনি যাই করেন বাচ্চাদের ঘুমের সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ! বেশিরভাগ সময় চেষ্টা করবেন বাবা মার সাথে সন্তানের ঘুম পাড়াতে এতে বাচ্চাদের মানসিক শক্তি দৃঢ় হয়! ছোট্ট বেলা থেকে চেষ্টা করবেন বাচ্চাদের ঘুমের সময় গল্প বলে বা মারা সন্তান কে নিয়ে গান গেয়ে ঘুম পাড়াতে, মাঝে মাঝে এদের কাছ থেকেও গল্প শুনবেন! যখন কথা বলতে পারে। এতে বাচ্চাদের মানসিক শক্তি বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে তাদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হবে

খেলার মাধ্যমে শিক্ষা

খেলার মাধ্যমে শিক্ষা

শিশুরা খেলার মাধ্যমে শিখতে খুব পছন্দ করে আর সেই খেলার সাথি যদি হয় বাবা মা তাহলেতো কোন কথাই নেই!!! তাই আপনি আপনার সন্তানের সাথে বেশি বেশি খেলাধুলা করুন! এমন খেলা নির্বাচন করুন যাতে শিশুর ক্রিয়েটিভ কিছু করতে পারে! যেমন পাজল দিতে পারেন, শব্দ দিয়ে শব্দ তৈরি করতে পারেন, বিভিন্ন ছবি আকঁতে পারেন ইত্যাদি এমন খেলা খেলবেন যাতে সে বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগাতে পারে! তাহলেই আপনার সন্তান মেধাবী হবে!

পারস্পরিক সম্পর্ক

পারস্পরিক সম্পর্ক

বাবা মা ও ভাইবোনের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে গল্প করবেন, সিনেমা দেখবেন, ধর্মীয় আলোচনা করবেন, সর্বোপরি সবাই মিলে ঘুরতে যাবেন। আপনার পরিবারের যতজন সদস্য আছে তাদের প্রত্যেককে কাজ ভাগ করে দিন এবং আপনি নিজেও ওদের সাথে কাজ করেন তাহলে ওরা কাজের প্রতি যত্নশীল হবে! তখন আপনি নিজেই অনুভব করবেন আমার সন্তান আছে দুধে ভাতে!!! আর আপনার সন্তান হবে আপনার আদর্শ মতো সমাজের যোগ্য সন্তান, আপনি হবেন আদর্শ বাবা, মা!

লেখকঃ কলামিস্ট ও থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার

 

আরও পড়ুন