আপনি আপনার মেয়েকে বিশ্বাস করেন না?

সিফাত মেহজাবিন

আমার মেয়ে তখন মাত্র মিডেল স্কুলে (গ্রেড সেভেন) যাওয়া শুরু করেছে। স্কুল থেকে এসে স্কুলের সব ধরনের ঘটনা/দুর্ঘটনা-ই সে আমাদেরকে বলে। একদিন কথায় কথায় বলল, “জানো মা, আমি ছাড়া আমাদের ক্লাসের সবার এ্যপেল আছে, কারো কারো তিনটা, অন্যদের অন্তত একটা হলেও আছে”। আমি তার কথার অর্থ ঠিকই বুঝতে পেরেছি, তবুও না বোঝার ভান করে খুব স্বাভাবিক মুখ করে বললাম, “তোমার এ্যপেল লাগবে? গতকালই তোমার বাবা লাল ও সবুজ দুই ধরনের কেজি তিনেক নিয়ে আসছে। খাবার টেবিলের উপর রাখা আছে, নিয়ে এসে খাও”। সে হেসে বলল, “মা তুমি বুঝে বুঝে ঢং করছো। আমি তো বলছি না যে আমাকে এ্যপেল কিনে দাও, শুধু বলছি সবার আছে”। “ম্যাক, আইপ্যাড সবই তো তোমার আব্বুর আছে, তোমার দরকার হলে বাবারটা ব্যবহার কর। আর যাদের এইগুলো আছে তারা কি তোমার চেয়ে পরীক্ষাতে বেশী নাম্বার পায়”? সে ‘না’বোধক মাথা নাড়লো। “তাহলে করে কি এইগুলো দিয়ে”? আমি জানতে চাইলাম। “কি জানি কি করে, একবার আমাকে ডেকে দেখাতে চেয়েছিল, আমি দেখি নাই। একটু পর পরই লুকিয়ে লুকিয়ে কি যেন দেখে, চ্যাট করে, এসএমএস করে। টিচার দেখলে খবর আছে”। আমি তাকে বললাম, “দেখ মা, আমি কিন্তু তোমাকে এইসব জিনিস কিনে দিব না। আমি নিজেও ব্যবহার করবো না, পাছে তুমি বলার সুযোগ পাও যে তুমি তো ব্যবহার কর, আমি করলে ক্ষতি কি”?

স্কুলের প্রজেক্ট করার জন্য মেয়েকে ল্যাপটপ দিয়েছি। সেটা এমন জায়গায় এমন পজিশনে রাখা যেন আসা যাওয়ার পথে আমরা দেখতে পারি। ক্লাস সেভেনে উঠার পর একটা মোবাইল কিনে দিয়েছি, সেটা দিয়ে শুধু কথা বলা যায় আর মেসেজ পাঠানো যায়। কোন নেটওয়ার্ক বা মেমরি সিস্টেম নাই। আমার মেয়ের এই ‘দুর্দশা’ দেখে একজন সহৃদয় মা আমাকে প্রশ্ন করেছিল, “আপনি এতো সন্দেহপ্রবণ কেন? আপনি আপনার মেয়েকে বিশ্বাস করেন না”? আমি উত্তরে বলেছিলাম, “আমি আমার মেয়েকে জানি, আলহামদুলিল্লাহ্‌, তাকে আমি বিশ্বাস করি। কিন্তু আমি শয়তানকে বিশ্বাস করি না। সে মানুষের প্রকাশ্য শত্রু। সে আল্লাহ্‌র কাছে ওয়াদা করেছে আদমের বেশীরভাগ বাচ্চা-কাচ্চাকে সে তার সাথে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। পটাশিয়াম সায়ানাইড বিষ, এটা জানার পর আপনি কি সেটা আপনার বাচ্চার হাতের নাগালে রাখবেন”?

গত সপ্তাহে আমার মেয়ে নিজ থেকেই বলল, “মা ভাগ্যিস তুমি আমাকে এইসব হাইটেক জিনিসপত্র কিনে দাও নাই। ওদের প্যারেন্টসরা যদি জানতো ওরা এইসব কী কাজে ইউজ করে, তারপর কোন ধরনের আলোচনা করে তাহলে মাথার চুল ছিঁড়তো। আমি তো আমার বাচ্চাকে কখনোই এইসব কিনে দিব না আর ব্যবহার যদি করতেই হয় তাহলে আন এটেনডেনট অবস্থায় রাখবো না”! আলহামদুলিল্লাহ্‌! শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আল্লাহ্‌তালা আমাদের সন্তানদেরকে রক্ষা করুক।

আপনাদের অবগতির জন্য Steve Jobs এর  উপর একটা ইন্টারভিউ এর কিছু অংশ নিচে আছে। পড়ে দেখুন

“Even the late Steve Jobs worried about the effect that technology has on children”.

তার (Steve Jobs) বাচ্চাদের আইপ্যাড ব্যবহার করা নিয়ে যখন প্রশ্ন করা হয়েছিল তখন উত্তরে সে বলেছিল,

“They haven’t used it. We limit how much technology our kids use at home.”

Walter Isaacson, the author of the biography called simply Steve Jobs, told him later that

“Every evening Steve made a point of having dinner at the big long table in their kitchen, discussing books and history and a variety of things”.

“No one ever pulled out an iPad or computer. The kids did not seem addicted at all to devices,” he added.

লেখকঃ কলামিস্ট ও প্রবাসী বাংলাদেশী, বেলজিয়াম  

আরও পড়ুন