ছেলের চুরির অভ্যাস যেভাবে দূর করলেন বাবা

আবু জিয়াদ

খুব ছোট। তখনও স্কুলে ভর্তি করা হয়নি। কেমনে জানি আমি চুরিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ি। এই বাড়ি ঐ বাড়ি করে প্রতিবেশি বা আত্মীয় যে বাড়িতেই যাই টাকা পয়সা বা খুব ছোট খাটো কিছু প্যান্টের পকেটে করে নিয়ে আসি। চেষ্টা করি খুব লুকিয়ে রাখতে কিন্তু পারিনা। বারবার মায়ের কাছে ধরা খেয়ে যাই। মা শুরুতে বুঝাতেন, পরে বকতেন , এক সময় মারাও শুরু করলেন। কিন্তু আমার অভ্যাস আর পরিবর্তন হয় না। বাধ্য হয়ে বাবার কাছে মা নালিশ করলেন। বাবা ছিলেন খুব রাগি মানুষ। তিনি সরাসরি এ্যাকশনের নেমে পড়লেন। বাজার থেকে সন্দি বেত কিনে আনলেন। সন্ধার পর রুমে আটকিয়ে দরজা বন্ধ করে শুরু করলেন মার। মার যে এত ভয়ঙ্কর হবে মা দাদা দাদু কেউ বুঝতে পারেননি। যাই হোক দরজা ভেঙ্গে এক সময় আমাকে উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনার তিনদিন পর। বাবা আমাকে নির্জনে ডেকে নিয়ে গেলেন। আমি ভয় পাচ্ছিলাম। বাড়ির পূর্ব দিকের পুকুর পাড়ে আম গাছের নিচে আমরা বাপ বেটা বসা। কোনো কথা নাই বার্তা নাই বাবা কান্না শুরু করলেন। কান্না তো কান্না। আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। এক সময় কান্না জড়িত কণ্ঠে বললেন বাবারে তোর উপর খুব জুলুম করে ফেলেছি। আমাকে ক্ষমা করে দিস। তোকে মারার পর তিন রাত যাবত আমি এক ফোঁটাও ঘুমাতে পারিনি।

কত যুগ চলে গেলো। এখনও ভাবি। বাবার পিটুনি যে অভ্যাস পরিবর্তন করতে পারেনি সেই অভ্যাস বাবার কান্নায় পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল। চুরি করার কারণে যে ছেলেটিকে সবাই ঘৃণা করতো দূরে দূরে রাখতো সেই আমি চাকরীর জীবনে একটি কানা কড়িও চুরি করিনি। মানে ঘুষ বা তহবিল তসরুপ কোনোটাই করিনি।

ভালো থেকো বাবা , খুব ভালো থেকো।

লেখক – আবু জিয়াদ, কবি ও সাহিত্যিক।

 

আরও পড়ুন