সন্তান লালন পালনে যে ভুলগুলো করবেন না (১ম পর্ব)

জিনাত জিনু

আরিশা,বয়স সাড়ে তিন বছর। তার কোনো শারীরিক সমস্যা নাই। সে যখন আমাদের প্রি ক্লাসে ভর্তি হতে এলো।আমরা তার নাম জানতে চাইলাম। সে কোনো উত্তর দিলো না।তাকে বললাম তোমার স্কুল পছন্দ হয়েছে? সে শুধু তাকালো উত্তর দিলোনা।নিজের মনে একা একা কথা বলছে।এবার আরিশার মার দিকে তাকালাম।ওনাকে বেশ চিন্তিত আর অসহায় লাগছিলো। প্রশ্ন করলাম-আরিশা কি বাসায় কথা বলে? মা বলল-ইংলিশে প্রশ্ন করলে উত্তর দেয়।বাংলা বলতে চায় না বোঝেও না।আমি অবাক হলাম।প্রশ্ন করলাম-আপনি ওর কথা বলার সময়টিতে ওর সাথে কথা বলতেন?উনি জানালেন-আরিশার দু বছর বয়স থেকে উনি ওনার পড়াশুনোয় ব্যস্ত ছিলেন। আরিশা বিরক্ত করতো তাই উনি আরিশাকে ইউটিউব ছেড়ে দিতেন।আরিশা দিনের বেশির ভাগ সময় ভিডিও দেখে। ওর তিন বছর বয়স থেকে উনি খেয়াল করলেন ও বাংলা বলতে চায়না,কেউ প্রশ্ন করলে উত্তর দেয়না।বাবা মা দুজনেই আরিশাকে মনোবিশেষজ্ঞের  কাছে নিয়ে যান।তার পরামর্শ ছিলো বাচ্চার সাথে বেশি বেশি কথা বলতে হবে,তাকে অন্য বাচ্চাদের সাথে খেলতে দিতে হবে,তার পরামর্শ অনুযায়ী তারা স্কুলে ভর্তি করতে এসেছেন। যাতে বাচ্চাটি স্বাভাবিকভাবে কথা বলে।যেকোনো কাজে স্বাভাবিক ভাবে অংশগ্রহণ করে।
আজকাল এমন বাচ্চাদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। যা আমাদের একটু অসাবধানতার কারণে সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা আমাদের ব্যস্ততার কারণে বাচ্চাদের স্ক্রিনে আসক্ত করছি।স্ক্রিনে আসক্তি বাচ্চাদের আচরণে যে প্রভাব ফেলে
১.স্বাভাবিক সামাজিক যোগাযোগ থেকে বাচ্চার দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। সে অসামাজিক আচরণ করছে।
২. খাবারে অনাসক্তি তৈরি হচ্ছে।
৩.মেজাজের ভারসাম্য হারাচ্ছে। অতিরিক্ত রাগ,জেদ তৈরি হচ্ছে।
৪.অতিরিক্ত চঞ্চলতা।
৫.পড়াশুনায় অমনোযোগী।
এছাড়াও আরো অনেক সমস্যার সৃষ্টি হয়।
আপনি আপনার সন্তানের ক্ষেত্রে কি কি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন? শেয়ার করুন।

লেখকঃ কলামিস্ট 

আরও পড়ুন