নিজের অপূর্ণ স্বপ্ন নয় সন্তানের স্বপ্নকে দক্ষতায় রূপান্তর করুন

তৃপ্তি পোদ্দার

আপনার ছেলে খুব ভালো রেজাল্ট করেছে, আপনার মেয়ে খুব ভালো রেজাল্ট করেছে, প্রচলিত ছিলো ডাক্তার হবে আর না হয় ইঞ্জিনিয়ার হলেও চলে যাবে। আরও প্রচলিত কথা ছিল, জজ ব্যারিস্টার মেয়েদের চাকরি নয় । পুলিশ হবে মেয়েরা এটাও কি সম্ভব! কিন্তু আজ নারী অনেক অপূর্ণ স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করেছেন তার নিজের ইচ্ছায় এবং প্রচেষ্টায় তারা যেমন নতুনের জন্ম দেয় আবার সমাজ ও পরিবারের কাছ থেকে প্রাপ্তির দ্বিগুন অন্য পরিবার বা নিজের পরিবার গঠনে উৎসর্গ করে ।

আর পুরুষেরা কি করে বা কি পারে না তা আমি লিখতে যাবো না কারণ, আমি বেস্ট নিয়ে লিখছি এবং অপূর্ণ স্বপ্ন নিয়ে লিখছি। স্বপ্ন পূরণ করার ক্ষেত্রে কিছু করার ক্ষমতা ও দক্ষতা থাকতে হবে । সে নারী বা পুরুষ যেই হোক না কেন । শিশুকে মা অনেক বেশি কষ্ট করে পৃথিবীতে আনে । কিন্তু তার চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জেস শুরু হয় জন্মের পরবর্তী সময়ে, যে শিশুর মা বাবা একটু সচেতন, তারা অনেক ভাগ্যবান । কারণ তাদের উপরে জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়না অনেক কিছু! মা বাবা বলে “তোমার যে পেশা ভালো লাগে সেটাই পড়ো“ কিন্তু যে বাবা মা জানেন না শিশুর মানসিক বিকাশের কথা, পাত্তা দেন না শিশুর ছোট ছোট আবেকগুলো সেই শিশু খুব সহজে শেষ হয়ে যায় । এমনটি তো হচ্ছে না আমরা মা বাবারা আমাদের অপূর্ণ স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে আমাদের শিশুদেরকে মানসিকভাবে মেরে ফেলছি । একবার ও চিন্তা করছি না শিশুটির কোনো সমস্যা আছে কিনা অথবা ওর কোনো অতিরিক্ত সাপোর্ট দরকার কিনা । সাপোর্ট বলতে আমি এক্সট্রা প্রাইভেট টিচার রেখে দেবার কথা বলছি না । আমি বলছি শিশু সুলভ কিছু কার্যক্রম এর কথা । আমার ভিডিওতে দেখিয়ে থাকি, যেখান থেকে শিশু শিখবে খেলতে খেলতে হাসতে হাসতে, “প্রেসার ও স্ট্রেস” তাকে পেতেই হবে কিন্তু সেটা আপনার কাছ থেকে কেন? আপনি মা এবং আপনি বাবা, আপনারাই তো ওর সব । যদি আপনাদের কাছে আসতে কথা বলতে ভয় পায় তাহলে কোথায় সে যাবে বলুন তো । তাই আমি বলছি এবং লিখছি প্লিজ শিশুদের আপনার অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণের জন্য তোড়জোড় করবেন না, চাপিয়ে দেবেন না । আপনার সন্তানটি আপনার অনেক আদরের কিন্তু তার ভালো পেশা বা আপনার অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে আপনি কোনো ভুল করবেন না, বাকিটা আপনাদের ইচ্ছা । আমার শিশুকে মেধাবী হতে হবে । এটি কেনো স্থায়ী একটি স্ট্রেস এর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে । শিশু মেধাবী না হয়ে শিশু যদি দক্ষতা সম্পন্ন হয় তবে সমস্যা কোথায়? শিশুর যদি বয়স উপযোগী বিকাশ (আমার মেধাবী না হবার কারণ; ভিডিওটি দেখতে পারেন  Children’s Journey চ্যানেলে ) সঠিকভাবে না হয়ে থাকে তবে শিশুকে দিয়ে হয়তোবা আপনার কাঙ্খিত স্বপ্ন পূরণে কাজে আসবে না । কিন্তু শিশুর বিকাশ একটু দেরিতে হলেও তার দক্ষতাকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে তাকে একটি সুন্দর জীবন আমরা দিতে পারি । কোনো শিশু ছবি আঁকায় ভালো আবার কেউবা কথা বলায় । কেউবা কাগজ কেটে নতুন নতুন কোনো কিছু বানানোতে খুবই পারদর্শী । আবার কেউ বা হতে পারে শারীরিকভাবে অনেক সক্রিয় তো আমরা শিশুর পারদর্শিতাকে কাজে লাগিয়ে সমাজে তাদেরকে বোঝা না বলে তাদেরকে আমাদের মতো করে ভাবতে পারি। না করুনা নিয়ে কোন সন্তানেরই বেঁচে থাকা উচিত না, প্রতিটি সন্তান বেঁচে থাকুক তার কর্মদক্ষতার উপর স্বনির্ভর হয়ে ।

শিশুর বিকাশ সঠিক বয়স উপযোগী না হলে কি কি করণীয়:

১) ভাষা বিকাশে সাহায্য করা

২) সামাজিক এবং আবেগিক দক্ষতা বাড়ানো

৩) আচরণগত সমস্যার জন্য প্রতিদিন কৌশল অভ্যাস

৪) সুষম খাবার অভ্যাস

৫)লেখার দক্ষতা বৃদ্ধি

৬) মেধা বিকাশের কৌশল

৭) পসিটিভ প্যারেন্টিং ট্রেনিং ইত্যাদি উপরিউক্ত প্রতিটি সমস্যা

১:১ সেশন এর মাধমে সমাধান করানো সম্ভব, আমাদের বড়দের জব এ প্রমোশন অথবা ভালোভাবে কাজ করতে গেলে যেমন ট্রেনিং দরকার হয় আবার মায়েদের রান্নার সময় youtube চ্যানেল বা মা/ শ্বাশুড়ীকে প্রশ্ন করতে হয়, শিশুর সঠিক বয়স উপযোগী বিকাশ পাবার জন্য জন্মের পর থেকে এই ছোট ছোট সেশন এর মাধ্যমে শিশুর পিছিয়ে পড়া দক্ষতাকে এগিয়ে আনা সম্ভব।

দিন দিন আমাদের শিশুদের মাঝে বিকাশগত ত্রুটি দেখা যাচ্ছে, বেশিরভাগ শিশুই ২/১ বছর পিছিয়ে থাকে তাদের বয়স থেকে । প্রশ্ন করতে পারেন, বুঝবেন কিভাব? শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশ এর গাইডলাইন অনুযায়ী। শিশুকে দিয়ে বয়স উপযোগী একটিভিটিস করালে, প্রতিদিন গল্পের বই পড়ে শোনালে, স্ক্রীন টাইম কম দিয়ে শিশু ছোট ছোট ঘরের কাজে উৎসাহী করলে শিশু অনেকটা সক্রিয় হয় এবং এই বিকাশগত ত্রুটি চোখে পড়ে না । যেমন ধরুন,একটি শিশু জঙ্গলে বেড়ে উঠলে কোন ভাষায় সে কথা বলবে, অবশ্যই বাংলা বা ইংলিশ ভাষায় না, ঠিক তেমনি শিশুর হাতের নাড়াচাড়া করাতে হবে, ব্রেনকে সক্রিয় রাখার জন্য বয়স উপযোগী উপকরণ দিয়ে খেলে শেখাতে হবে না হলে শিশুর বিকাশে ঘাটতি থেকে যেতে পারে ।

লেখকঃ কলামিস্ট ও শিশু শিক্ষা বিশেষজ্ঞ

আরও পড়ুন