এক আলেয়ার আত্মকাহিনী

শাহানারা শারমিন

আলেয়া একাদশ শ্রেনীর ছাত্রী।বয়স ১৭ বছর।খুব মেধাবী। এক খ্রিষ্টান পরিবারেই তার বেড়ে ওঠা।যদিও তারা তার আপন কেউ নয়,তার পরেও তাদেরকেই সে নিজের বাবা মা মনে করে।সে তার বাবা মাকে কখনো দেখেনি, আর আলেয়া তাদের দেখেনি বলে তার মনে এতটুকুও দুক্ষ নেই।আলেয়া তার পালক পিতা মাতার কাছে শুনেছিল তার জন্মের কাহিনী।আলেয়ার জন্ম আর দশটা শিশুর মতো স্বাভাবিক ছিলোনা।আলেয়ার বাবা মা চেয়েছিল তাদের প্রথম সন্তান ছেলেই হবে। আর বাচ্চা হওয়ার পরে যখন তারা দেখলো যে মেয়ে হয়েছে,আর দেখতে খুবই কালো,শিশুটির মুখ লোমে ভরতি তখন সেটা দেখেই তার মাথায় যেন আকাশ ভেংগে পড়ে।সবাই বলে এইটা কি মানুষের বাচ্চা, নাকি জন্তু জানোয়ার,কেউ বলে বানরের মত,কেউ বলে ভাল্লুকের মত।আলেয়ার দাদি বলে একে বাঁচিয়ে না রেখে মুখে লবন দিয়ে মেরে ফেলো।কেউ বলে পুতে রাখো।

কিন্তু আলেয়ার মা কিছুই বললো না। সে সারারাত বাচ্চাকে বুকে নিয়ে বসে থাকলো।পরের দিন সকালে এই খবর সারা গ্রাম পৌছে গেলো। আলেয়ার মা বলে একে না মেরে ফেলে কাউকে দিয়ে দাও। দেখতে খারাপ বলে কেউ এই বাচ্চা নিতে চায় না।এমন সময় ছুটে আসে এক খ্রিষ্টান দম্পতি। তাদের কোন সন্তান ছিল না। তারা এসে বাচ্চাটিকে নিয়ে যায়। খুব স্নেহের সাথে লালন পালন করে।আর নাম রেখে দেয় আলেয়া।আলেয়া আজ বড় হয়েছে।নিজের চেহারা নিয়ে তার কোন মাথা ব্যাথা নেই। তার একটায় উদ্দেশ্য নিজের পড়াশুনা আর ভালো রেজাল্ট। আলেয়া এখন কলেজে যায়,কলেজের সব পড়া মন দিয়ে শুনে নোট করে রাখে। একে একে সবগুলো পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করে।নিজের মেধার জোরে সে এইচ এস,সি পাশ করে,একসময় ডাক্তারি পড়ার জন্য মেডিকেলে চান্স পেয়ে যায়। তার ৪/৫ বছর পড়ে সে একজন বড় ডাক্তার হয়ে উঠে।আলেয়া এখন অনেক বড় ডাক্তার।তার কাছে প্রতিদিন অনেক মানুষ আসে চিকিৎসা নিতে।কেউ কেউ বিনা পয়সায় চিকিৎসা পেয়ে আলেয়াকে অনেক দোয়া করে।

ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস।যেই আলেয়াকে তার বাবা মা অবহেলা আর ঘৃনা করে ফেলে দিয়েছিল,সেই আলেয়ার আলো এখন চারেদিকে ছরিয়ে পড়ছে।তার আলোয় আলোকিত হচ্ছে অনেকের জীবন।

লেখকঃ কবি ও সাহিত্যিক

আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.