বিজয় দিবসের ঘনঘটা

খাদিজা ইয়াসমিন

১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিজয় লাভ করে। এই দিনটি বাংলার বিজয় দিবস, আমাদের বিজয় দিবস। নানা অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ, নিপিড়নের মোক্ষম জবাব দিয়ে অকুতোভয় বাংলার জনগন বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলো এই দিনে।
এই দিনটাকে ঘিরে বাংলাদেশ সরকার থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্যক্তি পর্যায়ে, শহর, গ্রাম সবজায়গায় চলে বিজয় উদযাপনের প্লান। অনেক বাড়িতেই পতাকা টানিয়ে রাখে। আমার আব্বাকেও দেখতাম পতাকা উড্ডয়ন করে রাখতে।
আমরা স্বাধীন হয়েছি, বিজয়ী হয়েছি ৪৮ বছর হয়ে গেলেও এখনো আমরা বিভিন্ন অর্থনৈতিক সমস্যা, সামাজিক সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি এবং এ সমস্যা উত্তরণে আমরা বদ্ধ পরিকর। কারন আমরা আমদের এই ছোট্ট সবুজ শ্যামল দেশটাকে ভীষণ ভালোবাসি।

বলছিলাম বিজয় দিবসের কথা! এই দিনটায় সারা দেশ সেজে উঠবে বিজয়ানন্দে, সারাদেশে বয়ে যাবে আলোর ঝলকানি। কিন্তু একটা ব্যাপার লক্ষনীয় এই বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে অঞ্চলে অঞ্চলে চাঁদাবাজি চলে বলে অনেক শুনেছি। এবার তার প্রত্যক্ষদর্শী হলাম। এবং খুব মর্মাহত হয়েছি। রাস্তার মাঝখানে কিছু লোক গাড়ি থামিয়ে থামিয়ে চাঁদা তুলছিলো। যথারীতি আমাদের গাড়িও থামালো এবং তাদের দাবী বিজয় দিবস উপলক্ষে কিছু দিতেই হবে, নাদিয়ে যাওয়া যাবেনা অসুবিধা হবে। কম বেশি যাই হোক দিতে হবে। ড্রাইভার বসেই ছিলো। পরে আমার ভাই দিলো যদি কোন সমস্যা করে! এমনিতেও রাস্তার মাঝবরাবর চাঁদা উঠাচ্ছিলো যেখানে লোক সমাগম কম। চাঁদা নেয়া ব্যক্তিদের দেখে মনেও হচ্ছেনা এদের মধ্যে বিজয়, মুকিযুদ্ধ এসবের প্রতি কোন শ্রদ্ধাবোধ আছে। ওনাদের দেখে এটাই মনে হয়েছে এটা তাদের টাকা কামানোর একটা উপলক্ষ(ধান্দা) মাত্র।

আমার প্রশ্ন হলো! এইযে অন্যায়, অবিচার, শোষণ হতে মুক্ত হতেই নয়মাস ব্যাপি যুদ্ধ তারপর কাঙখিত বিজয়। আবার সেই বিজয় দিবসকে ঘিরেই কিছু দুষ্টচক্রের চাঁদাবাজি, গুন্ডাবাজি, সত্যিই কি বিজয়টা আমরা ধারণ করতে পারছি? নাকি তাকে আরো কলংকিত করছি?
এই বিজয় দিবসেই শুরু হয় কিছু রুচীহীন মানুষদের রাতভর বিজাতীয় গান বাজনার মাতলামি। কেন দেশাত্মবোধক কিছুই নেই আমাদের । সাউন্ড একদম হাই না করে, মিডিয়াম রাখলেও শব্দ দূষণ কম হয়।

সবচেয়ে বড় কথা আমরা বিজয় উদযাপন করবো ঠিকাছে, মূলত যারা প্রান দিয়ে আমাদের এই দেশকে মুক্ত করেছিলেন তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা। মাগফেরাত কামনা কি এই অবাধ্য গান বাজনার মাধ্যমে হয়! এভাবে আরো শহীদদের অমর্যাদা করা হয়। তাদের আত্মাকে কষ্ট দেয়া হয়।

বিজয় দিবস নিয়ে নোংরামি না করে সুস্থ ও সুষ্ঠভাবে বিজয় দিবস উদযাপন করি। নিজেকে ভালোবাসুন, দেশ ও দেশের মাবুষকেও ভালোবাসুন। আর অন্যায় কে অন্যায় বলেই চিনতে শিখুন, প্রতিহত করুন। যদি হাত দিয়ে না পারেন, মুখ দিয়ে সেটা সম্ভব নাহলেও অন্তরের অন্তরস্থল হতে ঘৃনা করুন। ঘৃনার আগুনে জ্বলে যাক সব অন্যায়। আমরা একদিন সভ্য মানুষ হবো, সু সভ্যতায় দেশ গড়বো যেখানে সত্যিই অন্যায় অবিচার থাকবেনা।

চিরসবুজ “বাংলাদেশ”, তোমায় ভালোবাসি।

লেখকঃ কবি ও সাহিত্যিক

আরও পড়ুন