আসুন মানুষের মুখে হাসি ফোটাই নীরবে

ডাঃ জোবায়ের আহমেদ

আল্লাহ এর কাছে পছন্দের হাত হলো দানশীলের হাত।
যারা মানুষের জন্য মায়া লালন করে,মানুষকে ভালবাসে,মানুষের বিপদে যাদের অন্তরাত্মা কেঁদে উঠে তাদের কে আল্লাহ ভালোবাসেন।
আল্লাহ এর কাছে তারা মর্যাদাশীল।।
দান এমন ভাবে করতে বলা হয়েছে যেন ডান হাতে দান করলে বাম হাত টের না পায়।
অর্থাৎ দানটা মানুষ করবে আল্লাহ এর সন্তুষ্টির জন্য,মানুষ কে দেখানোর জন্য নয়,মানুষের বাহবা কুড়াতে নয়,মানুষ দানশীল বলবে সেজন্য নয়।

যদি উদ্দেশ্য এমন ই হয় মানুষের কাছে বাহবা পাওয়া তবে সেই দানের কোন মূল্য নেই আসলে।

আমাদের সমাজে লৌকিকতায় ভরা।
আমরা মানুষকে দেখাতে চাই শুধু।
তাইতো একটা কম্বল একজন গরীবকে দান করতে দশজন লাগে।
বন্যায় দূর্গতদের সামান্য ত্রান দিতে ছবি না তুললে হয়না আমাদের।

আল্লাহ আমাদের অন্তর এর দিকে তাকিয়ে থাকেন।
অন্তত এর খবর উনি জানেন বলেই উনাকে অন্তর্জামী বলা হয়।।
সেই অন্তর এর গোপন কি চলে তা দেখেই উনি বিচার করবেন।।

আমি একবার একজন শিল্পপতি ও রাজনীতিবিদের  যাকাত লিস্ট নিয়ে আলোচনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলাম।
উনার প্রতিনিধি উনাকে জানালো স্যার এইবারের  লিস্টে আমাদের ভোট দেয়নি এমন কাউকে রাখিনি।
আমি শুনে থ বনে গেলাম।
উনি যাকাতের শাড়ি লুঙ্গি দেন প্রতিবছর যদিও যাকাতের শাড়ি বা লুঙ্গি বলে কিছু ইসলামে নাই।
ইসলামে যাকাত দেওয়ার খাত নির্ধারন করা আছে এবং যাকাতের মূল উদ্দেশ্য দারিদ্র বিমোচন করা।
ঘটনা যা বুঝলাম উনি যেই দল করেন সেই দল ছাড়া অন্য কেউ যেন উনার যাকাত না পায় যদিও লোকটি অতি গরীব হয়।।
কি অদ্ভুত মানসিকতা আমাদের।

কয়েকমাস আগে ফেসবুকে একজন ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট এর সাথে আমার পরিচয় হয়।
তারপর তাদের যাপিত জীবন নিয়ে জানতে পেরে খুব খারাপ লাগে।
ওদের একটা ঘর নাই।।
ঘরের জায়গাও নাই।
তারা দুই ভাই বোন ছিলেন বৃদ্ধ বাবার দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান।
বাবা যখন মারা যান,তখন তারা বাবার বাড়িতে উদ্ভাস্তু হয়ে যান।
তাদের আশ্রয় মিলে খালার বাড়িতে।
খেয়ে না খেয়ে আদরহীন মমতাহীন ভাবে তারা বেড়ে উঠলো।
তারপর সেই স্টুডেন্ট নিজ যোগ্যতায় ইউনিভার্সিটির মাস্টার্স ক্লাসে এসে পৌঁছলো।

এখন খালার বাড়ি থাকা আর সম্ভব নয়।
তবে একজন দয়া করে তাদের একটু জায়গা দিয়েছেন ঘর তুলে থাকার জন্য।
আমি শুনে জানতে চাইলাম তাদের কাছে টাকা আছে কিনা।
তাদের কাছে যেই টাকা ছিলো তা দিয়ে ঘর উঠানো সম্ভব নয়।।

আমি সেই স্টুডেন্ট এর ঘটনাটা জানালাম আমার ফেসবুক থেকে পাওয়া আদরের এক বোন কে যে লন্ডনে থাকে।।
সে আমাকে আগে বলেছিলো যদি এমন কেউ থাকে যাদের সত্যিকার হেল্প প্রয়োজন তবে সে হেল্প করবে।
আমার কথা শুনে সেই বোন তাদের কে ঘর তুলতে ৫০ হাজার টাকা ডোনেশন দিলো আমার কাছে।
আমি বোনকে সেই স্টুডেন্ট এর আইডি ও ফোন নাম্বার দেই এবং সরাসরি তাদের কাছে টাকা পাঠাতে বলি।

আমি অবাক হয়েছি আমার সেই বোন সেই স্টুডেন্ট এর সাথে পরিচিত হতে চায়নি।
তার কথা হলো,ভাইয়া আমি দান করবো আল্লাহ এর সন্তুষ্টির জন্য,আমাকে কেউ চেনার দরকার নাই।।

চাইলেই সেই বোন ফেসবুকে একটা পোস্ট দিয়ে হাজারো লাইক কমেন্ট কামাতে পারতো, আমাদের বাহবা পেতো কিন্ত সেই বোনের লক্ষ্য আল্লাহ এর সন্তুষ্টি অর্জন।।

পৃথিবীটা খুব অল্প দিনের।
এখানে আমরা মুসাফির।
মানুষ কে নীরবে ও গোপনে ভালবাসা ও মায়া বিলাবো।
গভীর রাতে অসহায়ের কাঁধে রাখতে পারি আমরা আমাদের মায়ার হাত,পীড়িতদের পাশে দাঁড়াতে পারি মমতা নিয়ে।

আপনি কোটি টাকা ব্যাংকে জমিয়ে দুইদিন পর মরে যাবেন, কি সুখ পাবেন আপনি তাতে?
বরং গোপনে ও নীরবে আপনার মানবিকতার দান ছড়িয়ে দিন মানুষের মাঝে, অসহায়ের মুখে হাসি ফুটান।

একজন মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেয়ে সাওয়াবের কাজ আর কি হতে পারে??

ডাঃ জোবায়ের আহমেদ চিকিৎসক  ও সাহিত্যিক।

আরও পড়ুন