খাবার মজুদ নয় বরং সাদাকাহ করি

হাবিবা মুবাশ্বেরাঃ

আমরা যখন সিরিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত শিশুকে এক টুকরো রুটির জন্য হাহাকার করতে দেখেছি, তখন সেই ছবি আমাদের মনে প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়নি, কারণ আমরা ভেবেছি …“আমার সন্তানের খাবার তো নিশ্চিত আছে!!”

আমরা যখন চীনের উইঘুরে মুসলিম শিশুদের কান্না দেখেছি, তখনও সেই ছবি আমাদের মনকে আন্দোলিত করেনি, কারণ আমরা ভেবেছি…“আমার সন্তান তো হাসিমুখে আছে !!”

আমরা যখন কাশ্মীরের অবরুদ্ধ শিশুদের নিরাপত্তাহীনতা দেখেছি তখনও আমরা নিশ্চুপ ছিলাম কারণ আমরা ভেবেছি …“আমার সন্তান তো নিরাপদ আছে !!”

অথচ ইসলাম বলে সকল মুসলিম একই দেহের অঙ্গস্বরূপ । কিন্তু শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রতঙ্গের কান্না, ক্ষুধা, নিরাপত্তাহীনতা আমাদের অন্তরে বেদনাবোধের জন্ম দেয়নি। কারণ আমরা কেবল নামেই মুসলিম রয়ে গেছি, কার্যকরণে হতে পারিনি।

আজ “করোনা” নামক এক অদৃশ্য ভাইরাস সমগ্র বিশ্বের মানুষের অন্তরে ভীতির জন্ম দিয়েছে। সম্ভাব্য খাদ্য সংকটের আশংকায় আমরা আমাদের পরিবার, সন্তানদের জন্য খাদ্য কিনে মজুদ করছি, ভাবছি এর ফলেই আমাদের সন্তানদের ক্ষুধা, নিরাপত্তা, হাসিমুখ নিশ্চিন্ত হয়ে যাবে।!!!

মুসলিম হিসেবে আমরা আর কতো স্বার্থপরতা করবো? কবে বুঝতে পারবো যে, আমরা যতই আমাদের সন্তানদের কথা, পরিবারের কথা ভেবে খাদ্য মজুদ করি না কেন, তারা কিন্তু ঠিক ততোটুকুই ভোগ করতে পারবে যা তাদের রিজিকে আছে।

তাই আসুন ,এবার নিজের দেশের অন্যান্য শিশুদের কথা অন্তত ভাবি। একবার চিন্তা করি সেইসব অসহায় এতিম শিশুদের কথা যাদের মা-বাবা নেই, আত্মীয়-স্বজনরা মাদ্রাসায় রেখে দিয়ে চলে গেছে। তাদের জন্য কে  নিশ্চিত করবে  খাদ্যের সংস্থান ??

তাদের জন্য কি আমাদের কিছুই করার নেই?

ইসলামে মজুতদারিতাকে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে, বরং সাদাকাহ কে উৎসাহিত করে বলা  হয়েছে, সাদাকাহ আল্লাহর ক্রোধ প্রশমিত করে। এই মূহূর্তে নিজেদের সন্তানের নিরাপত্তার জন্য এটাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

তাই আসুন, খাবার স্টক না করে সাদাকাহ করি।

আাপনাদের দেয়া সাদাকাহর অর্থ পৌঁছে দেয়া হবে গাইবান্ধার প্রত্যন্ত গ্রামের একটি মাদ্রাসার এতিম শিশুদের কাছে ,তাদের খাবার কেনার জন্য।

বিকাশ করতে পারেন এই নাম্বারে—
ইয়াসির ইবনে মিজান
০১৭১১৪৭২৩৭৯ (পার্সোনাল)

আরও পড়ুন