Ads

কোটা বিরোধী আন্দোলনের জের ধরে ঢাবিতে রাহাজানি

।। বিশেষ সংবাদদাতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়  ।।

কোটা বিরোধী আন্দোলনের জের ধরে চলছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হলে হলে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের রাহাজানি। কোটা আন্দোলন ২০২৪ এর অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম গতকাল ৪ জুলাই সারাদিন কোটা আন্দোলনের কর্ম সম্পাদন করে হলে ফিরলে অমর একুশে হলের বর্তমান কিছু ক্যান্ডিট তাকে হল ছাড়ার জন্য তার রুমে খোঁজ পাঠায়। সারজিস আলম প্রাণীবিজ্ঞান বিভাগের ১৬-১৭ সেশনের ছাত্র। ক্যান্ডিডেটদের সাথে কোনো বাকবিতন্ডায় না জড়িয়ে তিনি ব্যাগপত্র গুছিয়ে নিলে অত্র হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।

রাত ১২ টার পর থেকে শিক্ষার্থীরা হল গেইটে জমা হতে থাকে, রাত ২ টা নাগাদ অত্র হলের প্রাধ্যক্ষসহ অন্যান্য দায়িত্বরত শিক্ষকরা হলে উপস্থিত হন। অমর একুশে হলের শিক্ষার্থীরা ছাড়াও আশেপাশের সকল হল থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এসে ভীড় জমাতে শুরু করে। এসময় শহীদুল্লাহ হল থেকে আসার পথে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হল ক্যান্ডিডেটরা পথ রোধ করলেও বাঁধা ডিঙিয়ে সকলে অমর একুশে হল গেইটে অবস্থান নেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হলপাড়া থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থীরা আসতে চাইলে হলগুলোর ক্যান্ডিডেটরা ভিসি চত্ত্বর বাইকসহ পাহারা বসায় এবং কেউ যেন অমর একুশে হলে অবস্থান না করতে পারে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সকল বাঁধা উপেক্ষা করে সাধারণ শিক্ষার্থী রাতের প্রথম প্রহর থেকে সারজিস আলমের পক্ষে অবস্থান করে এবং তাকে সহীহ সালামতে রুমে পৌঁছে দিয়ে আসে।

আরও পড়ুন-

কোটা প্রথা যেভাবে জাতিকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে  

সারজিস আলমকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি ক্যান্ডিডেটদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছা পোষণ করেন। তিনি বলেন যে কয়জনই আমাকে বের হওয়ার জন্য বলেছে এরা আমার বন্ধু, কাছের ছোট ভাই। আমি তাদের নাম নিয়ে সকলের সামনে ছোট করতে চাই না। তারা ভুল বুঝতে পেরে আমার কাছে অনুশোচনা ব্যক্ত করেছে। তিনি আরও বলেন, প্রথমে তাকে জানানো হয়েছিলো যে ছাত্র সংগঠনের হাইকমান্ডের নির্দেশে তাকে বের করা হচ্ছে, কিন্তু চাপের মুখে ক্যান্ডিডেটরা স্বীকার করতে বাধ্য হয় যে, তারা নেতাদের বিশেষ নজর পাওয়ার জন্য নিজেদের থেকেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলো।

আজ ৫ জুলাই, সকাল বেলা কোটা আন্দোলনের আরেকজন সমন্বয়ক কয়েকজন শিক্ষার্থী নিয়ে কোটা আন্দোলনের গণসংযোগের মাইকিং করার সময় ছাত্র সংগঠনের কিছু নেতাদের দ্বারা বাঁধার সম্মুখীন হয়৷ তার ভাষ্যমতে, আমরা রাতেই খবর পেয়েছিলাম যে আমরা গণসংযোগ করতে গেলে বাঁধার সম্মুখীন হবো, তবুও হল পাড়ায় ভালো পরিচিতি থাকায় সাহস নিয়ে যাই গণসংযোগ করতে। প্রথম বাঁধার সম্মুখীন হই জসীমউদ্দিন হল থেকে, সেখানে রূঢ় ভাষায় গালাগাল করে বের হয়ে যেতে বলে। একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় এফ রহমান হলেও। সেখানে গায়ে হাত তোলা এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে বের করে দেয়া হয়। জগন্নাথ হলে ঢুকতেই মাইল বন্ধ করতে বলা হয় এবং হল থেকে বের হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

আরও পড়ুন-

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বরাদ্দ কেমন?

সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎকন্ঠা বেড়েই চলেছে, তাদের দাবি, আমাদের আন্দোলন তো সরকার কিংবা ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে নয়, তাহলে কেন তাদের ছাত্র সংগঠন আমাদের পথ আগলে দাঁড়াবে? আমরা অস্তিত্বের লড়াই করছি, আমাদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে, সেই অধিকার আদায় না করে মাঠে ছাড়ছি না আমরা । সারজিস আলম শেষে জানান দেন কেউ যেন ভুল তথ্য প্রচার না করে, যৌক্তিক আন্দোলন যেন ব্যক্তিগত স্বার্থে কেউ কাজে না লাগাতে পারে। অপর সমন্বয়ক ফেসবুক পোস্টে জানান দেন শুধু সমন্বয়কই নয় যদি প্রথম বর্ষেরও কোনো শিক্ষার্থী কোটা আন্দোলনে যোগদানের কারণে অপদস্থ হয়,তাহলে এর পরিণত ভালো হবে না,এবার সে যেই হোক ।

আগামীকাল শনিবারে সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল ডাকা হয়েছে, সাধারণ শিক্ষা দলে দলে মিছিলে যোগদান করার আহ্বান জানানো হয়েছে, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা রাজপথ ছাড়তে রাজি নন।

…………………………………………………………………………………………………………………………

মহীয়সীর প্রিয় পাঠক ! সামাজিক পারিবারিক নানা বিষয়ে লেখা আর্টিকেল ,আত্মউন্নয়নমূলক অসাধারণ লেখা, গল্প  ও কবিতা  পড়তে মহীয়সীর ফেসবুক পেজ মহীয়সী / Mohioshi  তে লাইক দিয়ে মহীয়সীর সাথে সংযুক্ত থাকুন। আর হা মহীয়সীর সম্মানিত প্রিয় লেখক! আপনি আপনার পছন্দের লেখা পাঠাতে পারেন আমাদের ই-মেইলে-  [email protected]  ও  [email protected] ; মনে রাখবেন,”জ্ঞানীর কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়েও উত্তম ।” মহীয়সীর লেখক ও পাঠকদের মেলবন্ধনের জন্য রয়েছে  আমাদের ফেসবুক গ্রুপ মহীয়সী লেখক ও পাঠক ফোরাম ; আজই আপনিও যুক্ত হয়ে যান এই গ্রুপে ।  আসুন  ইসলামী মূূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রজন্ম গঠনের মাধ্যমে সুস্থ,সুন্দর পরিবার ও সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখি । আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা সৎ কাজে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে চলো ।” (সূরা বাকারা-১৪৮) । আসুন আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার মাধ্যমে সমাজে অবদান রাখতে সচেষ্ট হই । আল্লাহ আমাদের সমস্ত নেক আমল কবুল করুন, আমিন ।

আরও পড়ুন